নিউইয়র্ক     বৃহস্পতিবার, ৯ই মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ  | ২৬শে বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় কী ধরনের সুবিধা মিলবে?

বাংলাদেশ ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ জানুয়ারি ২০২৩ | ০৫:৫৪ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ৩০ জানুয়ারি ২০২৩ | ০৫:৫৪ পূর্বাহ্ণ

ফলো করুন-
সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় কী ধরনের সুবিধা মিলবে?

সবাইকে পেনশনের আওতায় আনতে সংসদে ‘সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা বিল-২০২৩’ পাস করেছে সরকার। এই বিল পাস হওয়ার ফলে সবার জন্য পেনশন স্কিম চালু করার আইনি ভিত্তি তৈরি হলো। এর মধ্য দিয়ে দেশের সব প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক পেনশন ব্যবস্থার আওতায় আসবেন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী— সবার জন্য পেনশন চালু করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নীতিনির্ধারকরা।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ‘সবার জন্য পেনশন ব্যবস্থা’ চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। যা তিনি আওয়ামীগের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিতে অন্তর্ভুক্তও করেন। এরই সুত্র ধরে পরবর্তী সময়ে বর্তমান অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামালের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় অবশেষে গত ২৪ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে পাস হয় ‘সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা বিল- ২০২৩’।

সূত্র জানায়, সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নে নতুন আইনে একটি ‘জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ’ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। একজন নির্বাহী চেয়ারম্যান ও চার জন সদস্য নিয়ে গঠিত হবে এই কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের নিয়োগ করবে সরকার।

এ ছাড়া আইনে ১৬ সদস্যের একটি পরিচালনা পর্ষদ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। পর্ষদের চেয়ারম্যান হবেন অর্থমন্ত্রী। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি, উইমেন চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি, সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান এই পর্ষদের সদস্য হবেন। পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান। বিধির মাধ্যমে নির্ধারিত এক বা একাধিক তফসিলি ব্যাংক জাতীয় পেনশন তহবিলের ব্যাংকার হিসেবে কাজ করবে বলেও আইনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জানা গেছে, এই বিল পাসের মধ্য দিয়ে দেশের জাতীয় পরিচয়পত্রকে ভিত্তি ধরে সর্বজনীন পেনশনের আওতায় ১৮ বছর বা তার বেশি বয়স থেকে ৫০ বছর বয়সী সব বাংলাদেশি (নারী/পুরুষ) নাগরিক অংশ নিতে পারবেন, তবে এর জন্য সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট নাগরিককে ধারাবাহিকভাবে কমপক্ষে ১০ বছর চাঁদা দিতে হবে। চাঁদাদাতা ধারাবাহিকভাবে কমপক্ষে ১০ বছর চাঁদা দিলেই তিনি মাসিক পেনশন পাবেন। চাঁদার হার কত হবে, তা নির্ধারণ করা হয়নি। আইন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এটি নির্ধারণ করবে। মাসিক বা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে চাঁদা দেওয়া যাবে। অগ্রিম ও কিস্তিতেও চাঁদা দেওয়ার সুযোগ থাকবে বলে জানা গেছে।

বিলে বলা হয়েছে, বিশেষ বিবেচনায় পঞ্চাশোর্ধ্ব ব্যক্তিদেরও পেনশন স্কিমের আওতায় আনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে মাসিক পেনশন সুবিধা পেতে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর চাঁদাদাতাকে ধারাবাহিকভাবে কমপক্ষে ১০ বছর চাঁদা দিতে হবে। ১০ বছর চাঁদা দেওয়া শেষে তিনি যে বয়সে উপনীত হবেন, সে বয়স থেকে আজীবন পেনশন পাবেন। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীরাও এতে অংশ নিতে পারবেন বলে আইনে বলা হয়েছে। চাঁদাদাতার বয়স ৬০ বছরপূর্তিতে পেনশন তহবিলে জমাকৃত মুনাফাসহ জমার বিপরীতে পেনশন দেওয়া হবে। একজন পেনশনার আজীবন সরকারের এই পেনশন সুবিধা পাবেন।

পেনশন ব্যবস্থার আওতায় থাকা নাগরিক ৭৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে মারা গেলে, তার নমিনি অবশিষ্ট সময়ের জন্য (মূল পেনশনারের বয়স ৭৫ বছর পর্যন্ত) মাসিক পেনশন পাবেন। চাঁদাদাতা নাগরিক কমপক্ষে ১০ বছর চাঁদা দেওয়ার আগে মারা গেলে তিনি পেনশন পাবেন না। এক্ষেত্রে তার জমাকৃত অর্থ মুনাফাসহ তার নমিনিকে ফেরত দেওয়া হবে। এ ছাড়াও পেনশন তহবিলে জমা দেওয়া অর্থ কোনও পর্যায়ে এককালীন তোলার প্রয়োজন পড়লে চাঁদাদাতা আবেদন করলে জমা দেওয়া অর্থের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ঋণ হিসেবে তুলতে পারবেন। যা ফিসহ পরিশোধ করতে হবে। পেনশন থেকে পাওয়া অর্থ আয়করমুক্ত থাকবে। পেনশনের জন্য নির্ধারিত চাঁদা বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য করে কর রেয়াতের জন্য বিবেচিত হবে।

অর্থ বিভাগের সূত্র জানিয়েছে, নিম্ন আয়সীমার নিচের নাগরিকদের অথবা অসচ্ছল চাঁদাদাতার ক্ষেত্রে পেনশন তহবিলে মাসিক চাঁদার একটি অংশ সরকার অনুদান হিসেবে দিতে পারবে। বিলে সর্বজনীন পেনশন পদ্ধতিতে সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত অথবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অংশ নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কর্মী ও প্রতিষ্ঠানের চাঁদার অংশ কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবে। তবে সরকার সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি ও আধা সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিরা এই পেনশন ব্যবস্থার আওতার বাইরে থাকবেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রাজধানীতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানিয়েছেন, আমরা যারা বেসরকারি চাকরি করি, তাদেরতো তো কোনও ভবিষ্যৎ নাই। একটা সময় পরে তো অফিস খালি হাতে বিদায় করে দেবে। তাই আমাদের জন্য এই সিস্টেমটা অনেক ভালো হবে বলে বিশ্বাস করি। অন্তত একটা নির্দিষ্ট বষসের পরে হাতে কিছু টাকা থাকবে।’

এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জাতীয় সংসদে বলেছেন, ‘এটি সর্বজনীন একটি বিল। যা দেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণের কথা বিবেচনা করেই আনা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশের বেসরকারি নাগরিকরাও একটা বয়সের পরে কারও মুখোপেক্ষি না হয়ে আজীবন পেনশন পাবেন। যাতে তার অনিশ্চিত জীবনের অবসান হবে। বর্তমান সরকার সাধারণ মানুষের কল্যাণে এই ব্যবস্থা প্রচলন করছে। সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

শেয়ার করুন