নিউইয়র্ক     শুক্রবার, ১৭ই মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ  | ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ফের রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের শঙ্কা

বাংলাদেশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ০৬:৫৯ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ০৬:৫৯ পূর্বাহ্ণ

ফলো করুন-
ফের রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের শঙ্কা

মিয়ানমারে বাংলাদেশ ও ভারত সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় রাখাইন রাজ্যে কয়েকদিন ধরে জান্তা সামরিক বাহিনীর সাথে বিদ্রোহীদের থেমে থেমে গুলি বিনিময় চলছে। সীমান্তের ওপারে গোলাবর্ষণের কারণে বান্দরবানের ঘুমধুম ও তুমব্রু সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে রাখাইনে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা ফের দেশে অনুপ্রবেশ করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ কারণেই সীমান্তে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)।

মিয়ানমারে থাকা রোহিঙ্গাদের কয়েকজনের সাথে ফোনে কথা বলে জানা গেছে, সেনাবাহিনী তাদের ঘর পুড়িয়ে দিচ্ছে। ঘর পুড়িয়ে দেওয়ার ছবিও গণমাধ্যমের কাছে পৌঁছে গেছে। তারা বলছেন, তাদের মধ্য থেকে অনেকেই বাংলাদেশে পালিয়ে আসার কথা ভাবছেন।

ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, এক মাস ধরে প্রতিদিন সীমান্তের ওপার থেকে গোলাগুলির শব্দ আসছে। গত কয়েকদিন যুদ্ধবিমান আর হেলিকপ্টার থেকে গোলা ছুঁড়তে দেখা গেছে। মিয়ানমার অংশে গুলির শব্দ আর থেমে থেমে মর্টারশেলের বিকট শব্দে প্রকম্পিত হয়ে উঠছে তুমব্রু সীমান্ত।

৪০ নম্বর সীমান্ত পিলারের রাবার বাগান শ্রমিক গোলাম মাওলা (৪৫)। তিনি বলেন, গত মাসে বাগানে দুটি মর্টারশেল এসে পড়ে। প্রায় সময় আকাশে হেলিকপ্টার চক্কর দিতে দিতে নিচে গুলি বর্ষণ করছিল। মাটি থেকেও ওপরের দিকে গুলি ছোড়া হচ্ছিল। দূরের আকাশে চার-পাঁচটি যুদ্ধবিমান চক্কর দিয়ে হেলিকপ্টারকে পাহারা দিচ্ছিল। হেলিকপ্টার থেকে শত শত গুলি ও মর্টারশেল নিক্ষেপ করা হয়। বিকট শব্দে ওই এলাকায় অবস্থান না করে তুমব্রু বাজারের দিকে পালিয়ে এসেছে শ্রমিকরা। শুনছি মায়ানমারে বাংলাদেশ সীমান্তে পাশে থাকা রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এক মাঝি বলেন, রোহিঙ্গাদের অনেকেই মিয়ানমারে আছে জিম্মি দশায়। এ পাড়ে চলে আসতে চায় তারা। রোহিঙ্গা প্রতিরোধ ও প্রত্যাবাসন কমিটির সভাপতি উখিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, ভারত, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশ থেকে রোহিঙ্গারা ক্যাম্পে আশ্রয় নিচ্ছে। মিয়ানমার থেকে নতুন করে রোহিঙ্গা আসলে উখিয়াবাসীর আত্মহত্যা করা ছাড়া কোনো পথ থাকবে না।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, রোহিঙ্গারা ইয়াবা ব্যবসা, অস্ত্রবাজি ও সন্ত্রাস, ডাকাতিসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে স্থানীয়দের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে। আমরা স্থানীয়রা বিপদে আছি, আমরা কোথায় যাব? বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত সিলগালা করে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা ফেরদৌস বলেন, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আমি স্থানীয় চেয়ারম্যান ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে শুনেছি, এখনো কোনো মিয়ানমারের নাগরিক অনুপ্রবেশ করতে পারেনি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয় এলাকাবাসীদের আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

৩৪ বিজিবির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, তুমব্রু সীমান্তে বিজিবি সদস্যরা সব সময় সতর্ক অবস্থানে আছে। নতুন করে কাউকে অনুপ্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তুমব্রু এলাকায় নতুন করে চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় বিজিবি কড়া নজরদারি রেখেছে।
পরিচয়/এমউএ

শেয়ার করুন