ইউএসসিআইএস বা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী বিদেশি নাগরিকদের ইমিগ্রেশন -সংক্রান্ত সুবিধা প্রাপ্তির আবেদন যাচাই প্রক্রিয়া ও নিরাপত্তা পরীক্ষা আরও কঠোর করা হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, আগের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের ঘাটতি ছিল, যার ফলে যথাযথ নিরাপত্তা যাচাই ছাড়াই কিছু আবেদন অনুমোদিত হয়েছিল।
ইউএসসিআইএসের প্রকাশিত সবশেষ তথ্যে বলা হয়েছে, এক্সিকিউটিভ অর্ডার ১৪১৬১ এবং সাম্প্রতিক দুটি প্রেসিডেন্সিয়াল প্রোক্লেমেশনের আওতায় নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ৩৯টি দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। এসব দেশের অনেক আবেদন সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে পুনরায় যাচাই করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন বিষয়ক সুবিধা প্রদানে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, আশ্রয়, স্থায়ী বাসিন্দা, ডাইভার্সিটি ভিসা এবং অন্যান্য অভিবাসন সুবিধার আবেদন নতুন করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম, আর্থিক তথ্য, বায়োমেট্রিক তথ্য, অপরাধমূলক রেকর্ড এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। প্রয়োজনে পুনরায় সাক্ষাৎকারও নেওয়া হচ্ছে।
ইউএসসিআইএস আরও জানায়, “অপারেশন প্যারিস” নামে একটি বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে শরণার্থী ও উচ্চ ঝুঁকির দেশের আবেদনকারীদের অতিরিক্ত ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পরিচয় নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক যাচাই জোরদার করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নতুন তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত করার ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে।
সংস্থাটির দাবি, নতুন এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো অভিবাসন ব্যবস্থায় জালিয়াতি রোধ, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শুধুমাত্র যোগ্য ও নিরাপত্তা যাচাইয়ে উত্তীর্ণ ব্যক্তিদেরই অভিবাসন সুবিধা প্রদান করা।
তবে ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, সব আবেদন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত নয়। যেসব আবেদন নিরাপত্তা যাচাই সম্পন্ন করেছে বা কম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে, সেগুলো ধাপে ধাপে নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া আবারও শুরু করা হচ্ছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রকে বিদেশি সন্ত্রাসবাদ, জালিয়াতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার সম্ভাব্য হুমকি থেকে সুরক্ষিত রাখতেই এই কঠোর যাচাই-বাছাই কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।















