২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র

নিজ দেশের পরিবর্তে অন্য দেশে অভিবাসীদের ফেরত পাঠাতে ট্রাম্পের পরিকল্পনা আটকে দিল ফেডারেল আদালত

নিজ দেশের পরিবর্তে অন্য দেশে অভিবাসীদের ফেরত পাঠাতে ট্রাম্পের পরিকল্পনা আটকে দিল ফেডারেল আদালত

নিজ দেশের পরিবর্তে অন্য দেশে অভিবাসীদের দ্রুত ফেরত পাঠানোর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনা আটকে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আপিল আদালত। আদালত বলেছে, কোনো অভিবাসীকে এমন দেশে পাঠানোর আগে সেখানে নির্যাতন বা নিরাপত্তাঝুঁকির আশঙ্কা তুলে ধরার ‘অর্থবহ’ সুযোগ দিতে হবে। খবর আল-জাজিরার।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বোস্টনের ফার্স্ট ইউএস সার্কিট কোর্ট অব আপিলের তিন বিচারকের প্যানেল এ রায় দেয়। এর মাধ্যমে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেওয়া নিম্ন আদালতের সেই সিদ্ধান্তের বেশির ভাগই বহাল রাখা হয়েছে, যেখানে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ‘তৃতীয় দেশে ফেরত পাঠানো’ নীতিকে বেআইনি বলা হয়েছিল।

মামলাটি একটি শ্রেণিভিত্তিক মামলার মাধ্যমে করা চ্যালেঞ্জ থেকে এসেছে। এতে প্রশ্ন তোলা হয়, এমন কোনো দেশে পাঠানোর আগে অভিবাসীদের কী ধরনের আইনি প্রক্রিয়ার সুযোগ দিতে হবে, যে দেশের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

তিন বিচারকের প্যানেলের পক্ষে রায় লেখা ইউএস সার্কিট জজ শেথ আফ্রেম বলেন, ফেরত পাঠানোর আগে অভিবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানানোর ‘অর্থবহ’ সুযোগ দিতে হবে। ট্রাম্প প্রশাসন আইনের যে সংকীর্ণ ব্যাখ্যা দিয়েছে, আদালত তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

তবে নিম্ন আদালতের রায়ের একটি অংশও বাতিল করেছে আপিল আদালত। সেটি ছিল, কোনো অভিবাসীকে তৃতীয় দেশে পাঠানোর আগে কর্মকর্তাদের প্রথমে ওই ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে এমন কোনো দেশে তাকে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করতে হবে কি না।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী এবং ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন লিটিগেশন অ্যালায়েন্সের ট্রিনা রিয়ালমুটো বলেন, এই রায় নিশ্চিত করেছে যে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া এবং নির্যাতন ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের নির্ধারিত সুরক্ষা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ট্রাম্প প্রশাসন রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে মামলাটি শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টেও যেতে পারে।

ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র এমন চুক্তি করেছে, যার আওতায় নিজ দেশের পরিবর্তে তৃতীয় দেশে ২৫ হাজারের বেশি অভিবাসীকে পাঠানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। থার্ড কান্ট্রি ডিপোর্টেশন ওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের চুক্তি অন্তত ২৯টি দেশের সঙ্গে করা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে মেক্সিকো সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত গন্তব্যগুলোর একটি।

২০২৫ সালের মার্চে এই নীতি কার্যকর করা হয়। এতে নির্যাতন বা নিপীড়নের শিকার না হওয়ার বিষয়ে কূটনৈতিক নিশ্চয়তা থাকলে খুব অল্প সময়ের নোটিশে অভিবাসীদের তৃতীয় দেশে পাঠানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তৃতীয় দেশে অভিবাসী ফেরত পাঠানোর ট্রাম্প প্রশাসনের এই কর্মসূচি এরই মধ্যে দুবার সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে।

২০২৫ সালে সুপ্রিম কোর্ট কিউবা, মিয়ানমার ও ভিয়েতনামের নাগরিকসহ আটজনকে দক্ষিণ সুদানে পাঠানোর পথ খুলে দেয়। দেশটির বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণ সতর্কতায় অপরাধ, অপহরণ ও সশস্ত্র সংঘাতের ঝুঁকির কথা উল্লেখ রয়েছে।

তখন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এসব প্রত্যাবাসনকে সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করলেও অধিকারকর্মীরা অভিযোগ করেন, এর মাধ্যমে অভিবাসীদের মৌলিক আইনি সুরক্ষা উপেক্ষা করা হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতিতে চলতি মাসে একাধিক আইনি বাধা এসেছে। একটি ফেডারেল আদালত শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ভিসায় পরিকল্পিত সীমা আরোপের উদ্যোগ আটকে দিয়েছে। আদালত এ উদ্যোগের পক্ষে সরকারের যুক্তিকে ‘অত্যন্ত দুর্বল’ বলে মন্তব্য করেছে।

এছাড়া ২২টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসির একটি জোট এমন আরেকটি নীতি ঠেকাতে মামলা করেছে, যার মাধ্যমে বৈধভাবে সরকারি সুবিধা গ্রহণকারী অভিবাসীদের গ্রিনকার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের বাধা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।