যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করেছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই। সদ্য শেষ হওয়া চলতি বছরের জুলাই মাসে সংস্থাটি ৪৩ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করে ডিটেনশন ফ্যাসিলিটিতে পাঠিয়েছে, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এক মাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক গ্রেফতার। কংগ্রেসে দেওয়া আইসিইর পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট।
গত জুনে রেকর্ড সংখ্যক গ্রেপ্তারের পর জুলাইয়ে অভিযান আরও বেড়েছে। জুলাইয়ের প্রথম ১২ দিনে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৪৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও মাসের বাকি সময়ে দৈনিক গড় বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ৪৫০ জনে। এই সময়েই ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই কর্মকর্তাদের গুলিতে টেক্সাস ও মেইনে দুজন নিহত হওয়ার ঘটনা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
গত ৭ জুলাই টেক্সাসের হিউস্টনে ৫২ বছর বয়সী লরেঞ্জো সালগাদো আরাউহোকে গুলি করে হত্যা করা হয়। আইসিইর দাবি, তাকে আটক করার সময় তিনি গাড়ি দিয়ে এক কর্মকর্তাকে ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন এবং আত্মরক্ষার্থে গুলি চালানো হয়। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও পরবর্তী বিভিন্ন প্রতিবেদনে ঘটনাটির বিবরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হ্যারিস কাউন্টির মেডিকেল এক্সামিনার পরে আরাউহোর মৃত্যুর ধরনকে ‘হোমিসাইড’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেন। এ ঘটনায় স্বাধীন তদন্তের দাবিও জোরালো হয়েছে।
এর মাত্র ছয় দিন পর, ১৩ জুলাই মেইন স্টেটের বিডেফোর্ডে আইসিই কর্মকর্তার গুলিতে ২৬ বছর বয়সী জোহান সেবাস্তিয়ান দুরান গেরেরো নিহত হন। পরপর দুটি প্রাণঘাতী ঘটনার পর আইসিই সাময়িকভাবে গাড়ি থামিয়ে অভিযান পরিচালনা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল। তবে পরে নির্দিষ্ট ধরনের টার্গেটেড অভিযানে এ ধরনের পদক্ষেপ আবার চালু করা হয়।
টেক্সাস এর হিউস্টনের ঘটনায় ফেডারেল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য নিয়েও তদন্তকারীদের কাছে বেশ কিছু প্রশ্ন এখনো অনিষ্পন্ন রয়েছে। স্থানীয় ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং আইসিইর কাছ থেকে প্রমাণ প্রকাশের দাবি জানিয়েছে।
জুলাইয়ের এই রেকর্ড গ্রেপ্তার এর মাধ্যমে জানা যাচ্ছে, প্রাণঘাতী অভিযান নিয়ে বিতর্ক ও সমালোচনা সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির বাস্তবায়ন থেমে নেই। বছরের প্রথম সাত মাসেই আইসিই ২ লাখ ৩৮ হাজারের বেশি মানুষকে ডিটেনশন ফ্যাসিলিটিতে পাঠিয়েছে।
ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই এখন বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থানে গ্রেপ্তার অভিযান জোরদার করছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসী ও তাদের পরিবারের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ, আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে যাদের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস এখনো অনিশ্চিত।















