১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কমিউনিটি

জ্যামাইকায় হিলসাইড এভিনিউর ফুটপাতে নিউ ইয়র্ক পুলিশের অভিযান, ছোট দোকান ও ভ্যান সরিয়ে জায়গা খালি

জ্যামাইকায় হিলসাইড এভিনিউর ফুটপাতে নিউ ইয়র্ক পুলিশের অভিযান, ছোট দোকান ও ভ্যান সরিয়ে জায়গা খালি

নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সের জ্যামাইকা এলাকায় হিলসাইড অ্যাভিনিউ ও ১৬৯ স্ট্রিটের আশপাশে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনার বিরুদ্ধে এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ফুটপাতের দুই পাশে ছোট ভ্যান, স্টল ও পণ্য সাজিয়ে বিক্রি করায় পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল। সাম্প্রতিক অভিযানে এসব স্থাপনা ও ভ্যান সরিয়ে এলাকা পরিষ্কার করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

বিশেষ করে সবজি ও অন্যান্য পণ্য বিক্রির ছোট ভ্যান এবং ফুটপাতের ওপর বসানো অস্থায়ী দোকান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে। তাদের ভাষ্য, ফুটপাতের বড় অংশ ব্যবসার কাজে ব্যবহার হওয়ায় অনেক সময় সাধারণ মানুষের হাঁটার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকে না।

সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন শিশুদের স্ট্রলার নিয়ে চলা মা-বাবা, বয়স্ক ব্যক্তি এবং হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীরা। ফুটপাত দিয়ে চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে গেলে অনেককে রাস্তার কাছাকাছি বা কখনো রাস্তার ওপর দিয়ে চলতে হয় বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। ব্যস্ত হিলসাইড অ্যাভিনিউ এলাকায় এ ধরনের পরিস্থিতি পথচারীদের জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।

এলাকায় ভেন্ডরদের কার্যক্রম নিয়ে কর্তৃপক্ষের নজরদারি অবশ্য নতুন নয়। কুইন্স কমিউনিটি বোর্ড ৮-এর ২০২৫ সালের এক সভায় ১৬৪ থেকে ১৬৯ স্ট্রিট পর্যন্ত হিলসাইড অ্যাভিনিউ এলাকায় ভেন্ডরদের কার্যক্রম নিয়ে অভিযোগের কথা উঠে আসে। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা অবৈধ ভেন্ডিং, আবর্জনা এবং ফুটপাত ব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরেন। স্যানিটেশন বিভাগের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছিল, এলাকায় এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম চালানো হচ্ছে এবং নিয়ম ভঙ্গের ক্ষেত্রে ভেন্ডিং কার্ট জব্দ করা হয়েছে।

নিউইয়র্ক সিটির নিয়ম অনুযায়ী, বৈধ লাইসেন্স ও পারমিট থাকলেও ভেন্ডরদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ব্যবসা করতে হয়। পথচারীদের চলাচলের রাস্তা, ভবনের প্রবেশপথ, বাসস্টপ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। শহরের নিয়মে ফুটপাত ও জনসাধারণের চলাচলের পথ বাধামুক্ত রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

শহরের স্যানিটেশন বিভাগ ২০২৩ সাল থেকে স্ট্রিট ভেন্ডর এনফোর্সমেন্টে নেতৃত্ব দিচ্ছে। তাদের এনফোর্সমেন্টের অন্যতম লক্ষ্য হলো ফুটপাত, কার্ব, গণপরিবহনের প্রবেশপথ এবং দোকানের প্রবেশপথ যেন ভেন্ডিং বা পণ্য দিয়ে বাধাগ্রস্ত না হয় তা নিশ্চিত করা।

অন্যদিকে, ফুটপাতে ব্যবসা করা অনেক ছোট ভেন্ডরের জন্য এটি জীবিকার বিষয়। তাই স্থানীয় কমিউনিটির আলোচনায় একদিকে যেমন পথচারীদের জন্য ফুটপাত খোলা রাখার দাবি রয়েছে, অন্যদিকে বৈধভাবে ব্যবসা করা ছোট ব্যবসায়ীদের নিয়ম মেনে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

হিলসাইড অ্যাভিনিউ জ্যামাইকার অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক ও যাতায়াত করিডোর। এলাকায় যানবাহন ও পথচারীর চাপ বেশি হওয়ায় ফুটপাত দখল এবং ভেন্ডিং নিয়ে নিয়মিত অভিযোগ তৈরি হয়। কুইন্স কমিউনিটি বোর্ডের নথিতেও এই করিডোরে ভেন্ডরদের কার্যক্রম ও এনফোর্সমেন্ট নিয়ে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ফুটপাত কোনো ব্যক্তি বা ব্যবসার ব্যক্তিগত জায়গা নয়। এটি সবার চলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকা দরকার। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা জরুরি।

তবে সাম্প্রতিক অভিযানে ঠিক কোন সংস্থা কতগুলো ভ্যান বা দোকানের সরঞ্জাম সরিয়েছে এবং কতজনকে জরিমানা বা সামন্স দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত সরকারি তথ্য এখনো প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। তাই অভিযানের নির্দিষ্ট পরিসর সম্পর্কে চূড়ান্ত সংখ্যা বা দাবি করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তথ্যের অপেক্ষা করাই যথাযথ।