আগামী ২০৩০ সালে অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী জাতীয় আদমশুমারি বা সেনসাস থেকে “অবৈধ” অভিবাসীদের বাদ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) মার্কিন সেনসাস ব্যুরোর উত্থাপিত এই নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ভবিষ্যতে আদমশুমারিতে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ নাগরিক এবং স্থায়ী বাসিন্দাদের (Permanent Residents) গণনা করা হবে।
এর অর্থ হলো, যারা অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন বা বৈধ উপায়ে সাময়িকভাবে অবস্থান করছেন, তারা এই গণনার বাইরে থাকবেন। এছাড়া ১৭৯০ সাল থেকে আদমশুমারিতে চলে আসা জাতি বা বর্ণ (Race or Ethnicity) সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের অংশটিও বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এই প্রস্তাবের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেটের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এবং ফেডারেল বা কেন্দ্রীয় তহবিলের বরাদ্দে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী, প্রতিটি স্টেটের মোট জনসংখ্যার ভিত্তিতে কংগ্রেসের প্রতিনিধি সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়। যদি বিপুল সংখ্যক অভিবাসীকে গণনার বাইরে রাখা হয়, তবে অভিবাসী-অধ্যুষিত শহর ও স্টেটগুলো তাদের ন্যায্য রাজনৈতিক আসন এবং ফেডারেল অনুদান থেকে বঞ্চিত হবে।
ডেমোগ্রাফি বিশেষজ্ঞ এবং নাগরিক অধিকারকর্মীরা সতর্ক করেছেন যে, এই পদক্ষেপটি চরম বৈষম্যমূলক এবং এর ফলে দেশের একটি ভুল চিত্র তৈরি হবে। সিভিল অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের লিডারশিপ কনফারেন্সের জ্যেষ্ঠ পরিচালক মিতা আনন্দ জানিয়েছেন, ত্রুটিপূর্ণ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নীতি নির্ধারণ করা হলে তা দীর্ঘ মেয়াদে দেশের জন্য ক্ষতিকর হবে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই আদমশুমারিতে অবৈধ অভিবাসীদের অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করে আসছেন। তার প্রথম মেয়াদে ২০২০ সালের আদমশুমারিতেও নাগরিকত্ব সংক্রান্ত প্রশ্ন যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট আটকে দিয়েছিল।
গত ২ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগও এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, যেসব স্টেট তাদের অঞ্চলে অবস্থানরত অবৈধ অভিবাসীদের তথ্য ঠিকমতো রিপোর্ট করবে না, তারা কেন্দ্রীয় সরকারের বিলিয়ন ডলারের ফেডারেল কল্যাণ তহবিল থেকে বঞ্চিত হতে পারে। বর্তমানে এই নতুন আদমশুমারি প্রস্তাবটি ৩০ দিনের জন্য জনসাধারণের মতামতের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।













