যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে টিএসএ বা ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এর সহযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর উপস্থিতি ও অভিযান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে বিমানবন্দরগুলোতে নজরদারি এবং গ্রেপ্তার অভিযান সম্প্রসারণের ফলে ভ্রমণকারী ইমিগ্র্যান্ট ও তাদের পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গণমাধ্যমসমুহের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৫টি বড় বিমানবন্দরে “আইসিই” কর্মকর্তারা অভিযান পরিচালনা করেছেন। কোথাও তারা চেক-ইন কাউন্টার, কোথাও আগমন টার্মিনাল, আবার কোথাও জেটওয়ে এলাকায় অবস্থান নিয়ে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট -সংক্রান্ত অভিযানে অংশ নিয়েছেন। কিছু ক্ষেত্রে সাধারণ পোশাকে থাকা কর্মকর্তারাও অভিযান পরিচালনা করেছেন বলে প্রতিবেদনসমুহে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকের সঙ্গে বিবাহিত ব্যক্তি এবং সেই সুত্রে ইমিগ্রেশন সুবিধার জন্য আবেদনকারী, Work visa বা কর্মভিসা নবায়নের অপেক্ষায় থাকা বিদেশি কর্মী এবং যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীরাও রয়েছেন।
সব ক্ষেত্রে ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ ছিল না; অনেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল মূলত ইমিগ্রেশন আইন লঙ্ঘনের।
ট্রাম্প প্রশাসন ইমিগ্রেশন আইন প্রয়োগ আরও কঠোর করার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রে আইসিইর কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের শনাক্ত ও বহিষ্কার কার্যক্রম জোরদার করা। এ উদ্দেশ্যে আইসিইর জনবল, অবকাঠামো এবং অভিযান সম্প্রসারণে অতিরিক্ত অর্থায়নের পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।
এদিকে বিমানবন্দরে আইসিইর উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন নাগরিক অধিকার সংগঠন ও ইমিগ্রেশন আইনজীবীরা। তাদের দাবি, বিমানবন্দর ভ্রমণকারীদের জন্য নিরাপদ ও নিরপেক্ষ স্থান হওয়া উচিত। অতিরিক্ত ইমিগ্রেশন অভিযান বৈধ কাগজপত্রধারী অনেক মানুষের মধ্যেও ভীতির সঞ্চার করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন এবং আদালতের ডিপোর্টেশন বা বহিষ্কার আদেশ কার্যকর করতেই এসব এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তাদের দাবি, এটি যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদারের অংশও বটে।ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, যেসব বিদেশি নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস বা ভ্রমণ করছেন, তারা যেন সব সময় বৈধ পরিচয়পত্র, ভিসা বা ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত নথিপত্র সঙ্গে রাখেন। ভ্রমণের আগে নিজের আইনি অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া এবং প্রয়োজনে ইমিগ্রেশন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।















