নিউজার্সির গভর্নর মিকি শেরিল ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধিত ৬,৬০০ জন অ-নাগরিকের তথ্য বিচার বিভাগের (DOJ) কাছে হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
নিউ জার্সির গভর্নর মিকি শেরিল এর আগে জানিয়েছিলেন যে, হাজার হাজার মানুষ—যারা নিজেদের মার্কিন নাগরিক নন বলে উল্লেখ করেছিলেন—তারা নিউ জার্সির সাম্প্রতিক নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করতে সক্ষম হয়েছিলেন; তিনি আরও জানান যে, তাদের মধ্যে শত শত মানুষ প্রকৃতপক্ষে ভোটও দিয়েছিলেন।
নিউ জার্সির গভর্নর শেরিল এর জন্য ‘মোটর ভেহিকেল কমিশন’-এর সফটওয়্যারজনিত ত্রুটি এবং সাবেক গভর্নর ফিল মারফিকে দায়ী করেছেন।
ভোট প্রদানকারীদের বিষয়ে তথ্য চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (DOJ) যখন দাবি জানিয়েছে, তখন সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যার কোম্পানিটি গত ২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার পাল্টা জবাবে বলেছে যে, এর জন্য অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষই দায়ী।
ভোট দেওয়া ৪০০ জন অ-নাগরিক এবং ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধিত ৬,৬০০ জনের নাম ও ঠিকানা চেয়ে বিচার বিভাগ যে চিঠি পাঠিয়েছিল, তার জবাবে শেরিল জানিয়েছেন যে তিনি সেই তথ্য হস্তান্তর করবেন না।
শেরিল বলেন, “ট্রাম্প প্রশাসন যে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার পরিবর্তে বিষয়টিকে অবিলম্বে জনগণের বিরুদ্ধে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে—তা আমার কাছে মোটেও বিস্ময়কর নয়।”
শেরিল জানান যে তিনি এ বিষয়ে নিজস্ব একটি তদন্ত শুরু করেছেন।
এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (DOJ) জানায়, “ফেডারেল নির্বাচনে কোনো অ-নাগরিকের ভোট দেওয়া বেআইনি।”
দোষারোপের পাল্টাপাল্টি অবস্থান: অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ ও এমভিসি (MVC)-র সফটওয়্যার কোম্পানি
শেরিল জানান, ভুলটি তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের আগে—২০২৩ সালের জুন থেকে ২০২৪ সালের জুনের মধ্যবর্তী সময়ে—ঘটেছিল। তিনি আরও বলেন, এর জন্য দায়ী হলো ‘আইডেমিয়া’ (IDEMIA) নামের সফটওয়্যার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটি, যাকে তিনি ইতিমধ্যে পরিবর্তন করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ত্রুটিটি ধরা পড়ার আগেই এমভিসি পরিচালনার দায়িত্বে তাঁর নতুন মনোনীত ব্যক্তি ওই কোম্পানিটিকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন।
তবে আইডিমিয়া (IDEMIA) এর বিরোধিতা করে বলেছে যে, ভোটারদের যোগ্যতা যাচাই করার চূড়ান্ত দায়িত্বটি আসলে অঙ্গরাজ্যের ‘নির্বাচন বিভাগ’-এর (Division of Elections)।
এর জবাবে শেরিল বলেন, “আমার মনে হয় সবাই জানে যে মোটর ভেহিকেল কমিশন (MVC) এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে এবং আইডিমিয়া সেই পরিস্থিতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।”
এদিকে, নিউ জার্সির রিপাবলিকানরা এমভিসি (MVC) এবং নির্বাচন বিভাগের কর্মকাণ্ড নিয়ে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে আবারও ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ (Save America Act) পাসের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট নিউ জার্সির নির্বাচনী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না সে বিষয়ে কিছু না বললেও বলেছেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে বদ্ধপরিকর। আর ঠিক এ কারণেই ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ পাস করা প্রয়োজন, যাতে নিশ্চিত করা যায় যে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে কেবল মার্কিন নাগরিকরাই ভোট দিচ্ছেন।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষক পিটার উলি বলেন, যদিও ভোটার তালিকায় মৃত ব্যক্তিদের নাম থাকার বিষয়ে নিউ জার্সির দুর্নাম রয়েছে, তবুও তাঁর মতে কেন্দ্রীয় সরকারের এই পদক্ষেপটি বাড়াবাড়ি রকমের।
উলি আরো বলেন, “আমার মনে হয় স্টেট পর্যায়ের নির্বাচনে ফেডারেল বিচার বিভাগের এ ধরনের হস্তক্ষেপ নজিরবিহীন। নিউ জার্সি স্টেট এর বিরোধিতা করে বলছে যে, সাংবিধানিকভাবে ভোটার, ভোটগ্রহণের নিয়মকানুন এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়টি নিশ্চিত করার দায়িত্ব তাদেরই।”















