১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শেষের পাতা

জামিন বা বন্ড হিয়ারিং (Bond Hearing) ছাড়া অনির্দিষ্টকালের জন্য অভিবাসীদের আটকে রাখা অবৈধ ও অসাংবিধানিক, রায় দিয়েছে ফেডারেল আপিল আদালত

জামিন বা বন্ড হিয়ারিং (Bond Hearing) ছাড়া অনির্দিষ্টকালের জন্য অভিবাসীদের আটকে রাখা অবৈধ ও অসাংবিধানিক, রায় দিয়েছে ফেডারেল আপিল আদালত

আমেরিকার অভ্যন্তরে বসবাসকারী নথিপত্রহীন অভিবাসীদের জামিন বা বন্ড হিয়ারিং (Bond Hearing) ছাড়া অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে রাখার সরকারি নীতিকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক বলে রায় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আপিল আদালত।

গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের ‘চতুর্থ সার্কিট আপিল আদালত’ এক ঐতিহাসিক রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের এই বাধ্যতামূলক আটক নীতি বাতিল করে দেয়। এই নিয়ে আমেরিকার মোট ৯টি ফেডারেল আপিল আদালত সরকারের এই নীতির বিরুদ্ধে রায় দিল, যা অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় ধাক্কা। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, ১৯৯৬ সালের আইন অনুযায়ী সীমান্তে সদ্য প্রবেশকারীদের আটকে রাখা বাধ্যতামূলক হতে পারে।

কিন্তু যারা বহু বছর ধরে আমেরিকার ভেতরে বসবাস করছেন, তাদের বন্ড হিয়ারিং-এর সুযোগ না দিয়ে মাসের পর মাস জেলে রাখা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং তা সংবিধানের মৌলিক অধিকারের (Due Process) লঙ্ঘন। ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসন আইন করে লাখ লাখ অভিবাসীর বন্ড পাওয়ার অধিকার কেড়ে নেয়। এর বিরুদ্ধে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (ACLU) মামলা করলে আদালত এই রায় দেয়। এই আদেশের ফলে আমেরিকার একটি বড় অংশে (ভার্জিনিয়া, ম্যারিল্যান্ড, নর্থ ও সাউথ ক্যারোলিনা) আইসিই (ICE) হেফাজতে থাকা হাজার হাজার অভিবাসী এখন জামিনের আবেদন করার আইনি অধিকার ফিরে পেলেন। তবে টেক্সাসসহ কিছু রাজ্যে এখনো সরকারের কঠোর নীতিই চলছে। বিভিন্ন আদালতের রায়ে এই পার্থক্যের কারণে বিষয়টি চূড়ান্ত মীমাংসার জন্য খুব শীঘ্রই মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে গড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।