১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আর্ন্তজাতিক

মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব ফেলার ঝুঁকি সত্ত্বেও ইরান যুদ্ধ নিয়ে কোনো অনুশোচনা নেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের

মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব ফেলার ঝুঁকি সত্ত্বেও ইরান যুদ্ধ নিয়ে কোনো অনুশোচনা নেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি অনুতপ্ত নন। যদিও এই সংঘাতের কারণে আগামী নভেম্বরের যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, সেটিও তিনি বিবেচনায় নিয়েছেন।

ফক্স নিউজের উপস্থাপক লরা ইনগ্রাহামকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করা হয়, যুদ্ধের কারণে নভেম্বরের নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রভাবের কথা বিবেচনা করে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুতপ্ত কি না। জবাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “আমি ‘অনুশোচনা’ শব্দটিতে বিশ্বাস করি না। তবে আপনি সবসময় নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে কিছুটা প্রশ্ন তুলতে পারেন।”

১০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার প্রচারিত ‘দ্য ইনগ্রাহাম অ্যাঙ্গেল’ অনুষ্ঠানে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও বলেন, “আমাকে যদি আবারও একই সিদ্ধান্ত নিতে হতো, তাহলে আমি ঠিক যেভাবে করেছি, সেভাবেই করতাম।” যুদ্ধের কারণে তার কিছু সমর্থক হতাশ ও মনোবলহীন হয়ে পড়েছেন—এমন ধারণাও ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “আমি মনে করি না তারা মনোবল হারিয়েছে। বরং আমি মনে করি, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না দেওয়ার জন্য আমি যে পদক্ষেপ নিয়েছি, সে কারণে তারা খুবই গর্বিত।” প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবারও তার সেই বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেন যে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই এই যুদ্ধ শেষ হবে। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “নির্বাচনের পরপরই এটি শেষ হবে।”

এর আগের দিন বুধবারও (০৯ সেপ্টেম্বর) তিনি একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন। সে সময় তিনি অভিযোগ করেন, তেহরান এমন একটি নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে, যার মাধ্যমে মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ তার রিপাবলিকান দলের হাতে থাকবে কি না, তা নির্ধারিত হবে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় আসন্ন নির্বাচনের আগে বিষয়টি রিপাবলিকানদের জন্য একটি বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়। এর জবাবে ইরানও ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের যেসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেসব স্থানে হামলা চালায়। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার যুদ্ধের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা দুর্বল করার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। ইরানের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নেই এবং দেশটি বলে আসছে, তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র নিজেই একটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ। – রয়টার্স