প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন আইন এর কঠোর প্রয়োগ এর অংশ হিসেবে ইমিগ্রেশন আদালতের দ্রুত শুনানি প্রক্রিয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিপোর্টেশন আদেশ প্রাপ্তদের সংখ্যা বাড়ছে।সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আদালতের শুনানির সময় কমে যাওয়া এবং একসঙ্গে অনেক মামলা পরিচালনা ও আগের তুলনায় দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ফলে অনেক অভিবাসী নির্ধারিত শুনানিতে উপস্থিত হতে অপারগ হচ্ছেন বলে ইমিগ্রেশন আইনজীবীদের সুত্রে জানা গেছে। । ফলে তাদের বিরুদ্ধে অনুপস্থিতির কারণে দ্রুত ডিপোটেশন বা বহিষ্কারের আদেশ দেওয়া হচ্ছে।
ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিনের অভিবাসন আদালতের মামলার জট কমাতে আদালত কক্ষে শুনানির সংখ্যা বাড়িয়েছে। সমগ্র যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে অনেক আদালতে একেকজন বিচারকের সামনে একই দিনে কয়েক ডজন থেকে শতাধিক মামলা নির্ধারণ করা হচ্ছে। এসব শুনানিকে ‘মেগা’ মাস্টার হিয়ারিং বলা হচ্ছে।
তথ্য বিশ্লেষণকারী সংস্থা মোবাইল পাথওয়েজের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এক হাজার ৩০০টির বেশি এ ধরনের শুনানি হয়েছে। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি। একই সঙ্গে অনেক অভিবাসী তাদের মামলা প্রস্তুতির জন্য আগের তুলনায় অনেক কম সময় পাচ্ছেন।
আগে অনেক ক্ষেত্রে শুনানির প্রস্তুতির জন্য প্রায় ছয় মাস সময় পাওয়া গেলেও বর্তমানে অনেক অভিবাসী এক মাসের কিছু বেশি সময় পাচ্ছেন। এর ফলে অনেকে নির্ধারিত তারিখে আদালতে হাজির হতে পারছেন না এবং তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি বহিষ্কারের আদেশ দেওয়া হচ্ছে।
মোবাইল পাথওয়েজের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ২০ শতাংশ অভিবাসী আদালতের শুনানিতে অনুপস্থিত ছিলেন। চলতি বছরের জুনে সেই হার বেড়ে প্রায় ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সময়ে বহিষ্কারের আদেশের সংখ্যাও বেড়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রায় ৩৩ হাজার বহিষ্কারের আদেশ দেওয়া হলেও চলতি বছরের জুনে এই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৭৯ হাজার হয়েছে। আদালতে উপস্থিত না হলে অনেক ক্ষেত্রে অভিবাসীদের আশ্রয় আবেদন বাতিল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অভিবাসন নীতির কঠোর সমর্থকদের মতে, দ্রুত শুনানি দীর্ঘদিনের মামলার জট কমাতে সহায়তা করছে। তবে অভিবাসীদের আইনজীবী ও অধিকারকর্মীরা বলছেন, কম সময়ে বেশি মামলা পরিচালনার কারণে অনেক বৈধ দাবিও যথাযথভাবে পর্যালোচনার সুযোগ পাচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট দপ্তর জানিয়েছে, বিচারকরা দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির চেষ্টা করছেন এবং একই সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়া ও ন্যায্যতা বজায় রাখার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হচ্ছে। তাদের মতে, দীর্ঘসূত্রতা এমন অভিবাসীদের জন্যও সমস্যা তৈরি করে যাদের বৈধ দাবি রয়েছে।
অন্যদিকে, সাবেক অভিবাসন বিচারক ও আইনজীবীরা সতর্ক করে বলেছেন, অতিরিক্ত সংখ্যক মামলা একসঙ্গে পরিচালনা করলে বিচারকদের ওপর চাপ বাড়ে এবং প্রত্যেকটি মামলা পর্যাপ্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখার সুযোগ কমে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আদালতের মামলার জট কমলেও দ্রুত শুনানি প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। একদিকে সরকার দ্রুত নিষ্পত্তিকে প্রয়োজনীয় বলছে, অন্যদিকে সমালোচকরা বলছেন, এতে অনেক অভিবাসীর ন্যায্য আইনি সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।















