যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে ইমিগ্রেশন আইন কার্যকর অভিযান জোরদার করার চলমান প্রক্রিয়ায় জর্জিয়া স্টেটের আটলান্টা এলাকায় পরিচালিত একটি বড় অভিবাসন অভিযানে ১ হাজার ২০০-এর বেশি অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টবা আইসিই। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৭২০ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপরাধের অভিযোগ রয়েছে অথবা তারা আগে দণ্ডিত হয়েছেন।
ডিএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, “অপারেশন সেফ কমিউনিটি, আটলান্টা” নামে পরিচালিত এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও আটক করা।
আইসিইর এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রিমুভাল অপারেশন্স বিভাগের নির্বাহী সহযোগী পরিচালক মার্কোস চার্লস ফক্স নিউজের “ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস” অনুষ্ঠানে বলেন, অভিযানে আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে যৌন অপরাধ, হামলা, পারিবারিক সহিংসতা, মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানোসহ বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত বা দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি রয়েছেন।
তার ভাষায়, “আমরা জর্জিয়ার আটলান্টা এলাকায় ১ হাজার ২০০-এর বেশি অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছি। তাদের অর্ধেকেরও বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে।”
চার্লস আরও বলেন, “এদের মধ্যে যৌন অপরাধ, হামলা, পারিবারিক সহিংসতা এবং মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানোর মতো অপরাধ রয়েছে। তারা শুধু অপরাধের সঙ্গেই জড়িত নন, একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থান করছিলেন।”
ডিএইচএস আরও জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন মেক্সিকান নাগরিক রয়েছেন, যিনি অন্তত ৫০০ গ্রাম মেথামফেটামিন বিতরণের ষড়যন্ত্রে দণ্ডপ্রাপ্ত ছিলেন। এছাড়া মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগও ছিল তার বিরুদ্ধে।
আরেকজন এল সালভাদরের নাগরিকের বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, শিশুদের প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ, বিশৃঙ্খল আচরণ এবং মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগে একাধিকবার গ্রেপ্তার হওয়ার তথ্য প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
মার্কোস চার্লস বলেন, আইসিই কর্মকর্তারা প্রতিদিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় কংগ্রেস প্রণীত অভিবাসন আইন কার্যকর করতে কাজ করছেন এবং ভবিষ্যতেও দেশজুড়ে একই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তার দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে বিক্ষোভ এবং অভিযানে বাধা দেওয়ার নানা প্রচেষ্টার কারণে আইসিই তাদের অভিযান পরিচালনার কৌশল পরিবর্তন করেছে। অতিরিক্ত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি অভিযুক্তদের শনাক্ত ও আটক করার পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।
এদিকে আইসিইর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই মাসে সংস্থাটি প্রায় ৫১ হাজার অভিবাসীকে আটক করেছে, যা তাদের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ। এর আগের মাস জুনে আটক হয়েছিল প্রায় ৪৩ হাজার মানুষ।
এর আগে ডিএইচএস জানিয়েছিল, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আইসিই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকির ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রগতিশীল আইনপ্রণেতা সংস্থাটির কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আইসিই বিলুপ্তির দাবিও তুলেছেন। ফলে অভিবাসন আইন প্রয়োগ এবং মানবাধিকার ইস্যু নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, আইসিই ও ডিএইচএসের দেওয়া এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট আদালতে নিষ্পত্তি হবে।















