ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরও জোরদার করার পরিকল্পনার কারণে দেশটির বিরুদ্ধে আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রয়োজনীয়তা কমে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার সিএনবিসি নিউজকে দেওয়া বেসেন্টের এক সাক্ষাৎকারের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।
সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে, তাহলে দেশটির বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান আবার শুরু করার সম্ভাবনা কম থাকবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই অবস্থানই ‘আপাতত’ প্রযোজ্য।
বেসেন্ট বলেন, ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞার চাপ আরও বাড়িয়ে দেশটির সরকারকে ধসিয়ে দেওয়াই যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য। তার ভাষ্য, এই কৌশল ইরানে কার্যকর হবে এবং এর মাধ্যমে দেশটির সরকারকে পতনের দিকে ঠেলে দেওয়া সম্ভব হবে। বেসেন্ট আরও বলেন, ইরানকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার এই উদ্যোগ বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সমন্বিত অর্থনৈতিক উদ্যোগ হবে।
এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা আরও জোরদার করতে চীনের প্রতিও সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন বেসেন্ট। তিনি চীনকে এই প্রচেষ্টায় যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার তীব্র সমালোচনা করেছে ইরান। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দেশটির প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকারকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে মন্ত্রণালয়টি বলেছে, ‘নিঃসন্দেহে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রতিটি ইরানি নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকারকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। এটি অর্থনৈতিক সন্ত্রাস ও মানবতাবিরোধী অপরাধের উদাহরণ।’ এতে আরও বলা হয়, এসব নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও তা কার্যকরে যারা ভূমিকা রেখেছেন, তারা এমন ‘জঘন্য অপরাধের’ জন্য বিচারের মুখোমুখি ও শাস্তি পাওয়ার যোগ্য।














