২৩শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

খেলা
মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে সচেতনতার বিকল্প নেই - উদ্বোধনী বক্তব্যে গ্র্যান্ড স্পন্সর আকাশ রহমান

নিউইয়র্কে দুই দিনব্যাপী কুমিল্লা কিংস ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

নিউইয়র্কে দুই দিনব্যাপী কুমিল্লা কিংস ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত সময়োপযোগী ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য উদ্যোক্তাদের ধন্যবাদ জানান ফাইনালে প্রধান অতিথি দুলাল বেহেদু

নিউ ইয়র্কের যান্ত্রিক ও কর্মব্যস্ত জীবনকে সরিয়ে রেখে তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ ও সুন্দর জীবনের পথ দেখাতে নিউ ইয়র্ক সিটিতে গত ১৭ ও ১৮ আগস্ট দুই দিনব্যাপী আয়োজন করা হলো ‘কুমিল্লা কিংস ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’।

শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, মানসিক বিকাশ এবং মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়ে নিউইয়র্ক সিটির জ্যামাইকার টমাস এ. এডিসন মাঠে গত ১৭ আগস্ট এই টুর্নামেন্টের জমকালো উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। ‘কুমিল্লা ইউনাইটেড স্পোর্টিং ক্লাব ইউএসএ ইনক’ এর ব্যানারে এবং ‘জ্যামাইকা নাইট ফুটবল ক্লাব’ এর সার্বিক সহযোগিতায় আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে আসরটির সূচনা ঘটে। ডিজিটাল যুগের ডিভাইসামুখী প্রবণতা এবং সামাজিক অবক্ষয় থেকে তরুণদের দূরে রাখতে এবারের আসরের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল— “মাদক নয়, খেলাধুলা হোক তারুণ্যের জয়”।

রঙিন বেলুন উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বহু প্রতীক্ষিত এই টুর্নামেন্টের উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধান অতিথি ও গ্র্যান্ড স্পন্সর, নিউইয়র্কের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ‘আশা গ্রুপ অব কোম্পানিজে’র প্রেসিডেন্ট ও সিইও আকাশ রহমান এবং বিশেষ অতিথি কমিউনিটি এক্টিভিস্ট, জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমান সভাপতি, জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার এর সেক্রেটারি এবং নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটি-র বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার।

উদ্বোধনী পর্বে উপস্থিত অতিথি ও ক্রীড়ামোদী দর্শকরা করতালির মাধ্যমে আয়োজকদের সাধুবাদ জানান। ১৭ আগস্ট উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এক আবেগঘন ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে প্রধান অতিথি আকাশ রহমান তরুণ সমাজকে মাদকের ছায়া থেকে দূরে রাখতে নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজনের ওপর বিশেষ জোর দেন। সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে তিনি ঘোষণা করেন, তারুণ্যের মেধা বিকাশ ও যেকোনো ইতিবাচক ক্রীড়া উদ্যোগে ‘আশা গ্রুপ’ সর্বদাই পাশে থাকবে।

উদ্বোধনী বক্তব্যে আকাশ রহমান আরো বলেন, “আয়োজকরা যখন প্রথম এই টুর্নামেন্টের বিষয়ে আমার সাথে কথা বলেন, আমি বিনাসংকোচে তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিই। আয়োজক রিয়াদ ভাই যখন প্রথম আমাকে বলে, আকাশ ভাই আমরা এরকম একটা টুর্নামেন্ট করতে চাই, আপনাকে কিভাবে রাখবো? আমি উনাকে বলছি, ভাই আমার নাম দেওয়ার দরকার নাই। আমি আপনাদের সাথে আছি। আমরা সবসময় বিনোদনমূলক নানা আয়োজনে স্পন্সর করি, তবে তরুণদের স্বাস্থ্যকর ভবিষ্যতের জন্য খেলাধুলার আয়োজন আমাদের কাছে সবসময়ই অগ্রাধিকার পাবে। আমাদের নাম কোথাও না দিলেও চলবে। আমাকে প্রধান অতিথি, কো- অতিথি করার দরকার নাই। আগামীতেও এই ফুটবল টুর্নামেন্টের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।”

মাঠের পরিবেশ ও পারিবারিক সচেতনতা নিয়ে নিজের অনুভূতির কথা প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি এক মানবিক আবেদন জানান। মাঠে কিছু দর্শকের ধূমপানের বিষয়টি তিনি ক্ষোভ দিয়ে নয়, বরং অত্যন্ত সহানুভূতি ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে শুধরে দেওয়ার চেষ্টা করে বলেন,

“আমরা মাদকমুক্ত সমাজের কথা বলছি, অথচ অত্যন্ত দুঃখের সাথে দেখলাম যে মাঠের এক কোণে দুইজন ভদ্রলোক ধূমপান করছেন। এখানে অনেক মা- বোন তাদের ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে খেলা দেখতে এসেছেন। এই বাচ্চারা যদি দেখে যে এই মাঠের মধ্যে কেউ সিগারেট খাচ্ছে তাহলে তারা তো মাদকের দিকেই ধাবিত হয়ে মাদকযুক্ত হয়ে যাবে, মাদকমুক্ত হবে না। আমাদের নিজেদের আচরণ দিয়েই সন্তানদের ভালো কিছু শেখাতে হবে।”

সন্তানদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার গুরুত্বের বিষয়ে আশা গ্রুপের প্রধান নির্বাহী আরও বলেন, “আমরা কাজের ব্যস্ততায় সকালে বের হয়ে রাতে ফিরি। কিন্তু সন্তানদের সঠিক পথ দেখাতে হলে তাদের সাথে বন্ধুর মতো মিশতে হবে, সময় দিতে হবে। তাদের বন্ধু কারা, কোথায় যাচ্ছে— সেদিকে নজর রাখা জরুরি। এই ধরনের ইতিবাচক ক্রীড়া আয়োজনে সন্তানদের সাথে নিয়ে এলে তারা খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী হবে এবং ভালো বার্তা নিয়ে বাড়ি ফিরবে।”

একই সাথে টুর্নামেন্টের পরিধি বাড়ানোর আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “এবারের ছয়টি দলের পাশাপাশি আগামীতে দল সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আমি বিশ্বাস করি। আগামী আসরে ‘আশা গ্রুপ’ এর নিজস্ব একটি দল থাকবে এবং মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে ইচ্ছুক তরুণ খেলোয়াড়দের যাবতীয় ক্রীড়াসামগ্রী দিয়ে আমরা সহযোগিতা করব।”

গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা অনেক বিষয়ই গুরুত্বের সাথে কভার করেন এবং সামাজিক মাধ্যমে তুলে ধরেন। প্রবাসে নানাবিধ ব্যস্ততা ও মানসিক চাপের মাঝে খেলাধুলার এই উদ্যোগগুলো তরুণদের পথ দেখাতে পারে। তাই সংবাদমাধ্যমের ভাইদের অনুরোধ করব, আপনারা এই টুর্নামেন্টের খবরগুলো বেশি বেশি প্রচার করুন। আর অভিভাবকরা বিকেল হলে সন্তানদের ডিভাইস থেকে দূরে সরিয়ে খেলার মাঠে নিয়ে আসুন। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে আমাদের সকলকে একসাথে এগিয়ে আসতে হবে।”

দুই দিনব্যাপী এই টুর্নামেন্টে স্থানীয় ছয়টি দল অংশগ্রহণ করে। ফ্লাড লাইটে অনুষ্ঠিত জাঁকজমকপূর্ণ ফাইনাল খেলায় জ‍্যামাইকা রাইডার্স ৪-০ গোলে নাইন স্টারকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে । বিপুলসংখ্যক ক্রীড়ামোদী দর্শক মাঠে উপস্থিত থেকে খেলাগুলি উপভোগ করেন ।

১৮ আগস্ট টুর্নামেন্টের ফাইনালে প্রধান অতিথি ছিলেন কমিউনিটির বিশিষ্ট সমাজসেবক, ঢাকা জেলা এসোসিয়েশন ইউএসএ ইনক্ এর সভাপতি ও নিউ ইয়র্কে আসন্ন বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের পক্ষে সিনিয়র সহসভাপতি পদপ্রার্থী দুলাল বেহেদু, বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন এবারের টুর্নামেন্ট এর উদ্বোধক, গ্র্যান্ড স্পন্সর, নিউইয়র্কের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ‘আশা গ্রুপ অব কোম্পানিজে’র প্রেসিডেন্ট ও সিইও আকাশ রহমান, কমিউনিটি এক্টিভিস্ট, জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমান সভাপতি, জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার এর সেক্রেটারি এবং নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটি-র বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার।

অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক ওয়াহিদ কাজী এলিন, কুইন্স বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি কাজী তোফায়েল ইসলাম, নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ স্পোর্টস কাউন্সিল এর প্রেসিডেন্ট হাজী এনাম প্রমুখ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুলাল বেহেদু চমৎকার ও সুন্দর ফাইনাল খেলা উপহার দেওয়ার জন‍্য উভয় দলকে অভিনন্দন জানান এবং এ ধরনের সময়োপযোগী ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য উদ্যোক্তাদের ধন্যবাদ জানান।

বিশেষ অতিথি ফখরুল ইসলাম দেলোয়ারও মাদকমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির তাগিদে এবারের ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য উদ্যোক্তাদের ধন্যবাদ জানান।উপস্থিত অতিথিবৃন্দ পরবর্তীতে পুরস্কার বিতরণী পর্বে অংশগ্রহণ করেন । একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল সমাজ গঠনে সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বর্ণাঢ্য এই টুর্নামেন্ট এর সমাপ্তি ঘটে। – সায়েম শুভ প্রেরিত