২০শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কমিউনিটি

নিউইয়র্কে ১১ দিনের ব্যবধানে দুই ভাইয়ের মৃত্যু, শোকে পাথর মা-বাবা ও পরিবার

নিউইয়র্কে ১১ দিনের ব্যবধানে দুই ভাইয়ের মৃত্যু, শোকে পাথর মা-বাবা ও পরিবার

নিউইয়র্কে এক সন্তানের সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু, আরেকজনের মৃত্যু হাসপাতালে—শোকস্তব্ধ পরিবার ও বাংলাদেশি কমিউনিটি। মৃত্যুর কাছে সব হিসাব-নিকাশ যেন এক মুহূর্তেই অর্থহীন হয়ে যায়। যে মা-বাবার পৃথিবীজুড়ে ছিল দুই সন্তানকে ঘিরে অসংখ্য স্বপ্ন, আশা ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা, মাত্র ১১ দিনের ব্যবধানে সেই দুই সন্তানকেই হারিয়ে আজ তাঁরা শোকের অতল গহ্বরে। মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় এক সন্তানের আকস্মিক মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই আরেক সন্তানের চিরবিদায়—এ যেন একটি পরিবারের ওপর পরপর নেমে আসা সীমাহীন দুর্যোগ।

নিউইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কসে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারটিতে নেমে এসেছে এই মর্মান্তিক বিপর্যয়। শাহ মো. আসাদের দুই ছেলে শাহ মো. আরদি ও শাহ মো. ওয়াদি মাত্র ১১ দিনের ব্যবধানে মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁদের এমন অকালপ্রয়াণে পরিবার, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।

পরিবারের বড় ছেলে শাহ মো. আরদি পেশায় একজন আইটি ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়। প্রিয় সন্তানের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে মা-বাবা ও পরিবারের সদস্যরা যখন শোকে মুহ্যমান, তখনই আরেকটি দুঃসংবাদ তাঁদের জীবনে নেমে আসে।

গত ১৪ অক্টোবর, বুধবার, দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে ছোট ছেলে শাহ মো. ওয়াদি নিউইয়র্কের ব্রঙ্কস এলাকার মন্টিফিওর হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর মৃত্যুর কারণ হিসেবে জ্বরজনিত অসুস্থতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

মাত্র ১১ দিনের ব্যবধানে দুই সন্তানের মৃত্যুতে মা-বাবার জীবনে নেমে এসেছে এমন এক শোক, যার গভীরতা পরিমাপ করার ভাষা নেই। এক সন্তানের বিদায়ের ক্ষত শুকানোর আগেই আরেক সন্তানের চলে যাওয়া—এই নির্মম বাস্তবতা মেনে নেওয়া যেকোনো মা-বাবার জন্য অসহনীয়। যে ঘরে দুই সন্তানকে ঘিরে ছিল আনন্দ, স্বপ্ন আর ভবিষ্যতের পরিকল্পনা, সেই ঘরেই আজ বিরাজ করছে নিস্তব্ধতা ও শোকের মাতম।

শাহ মো. ছাদেক, যুক্তরাষ্ট্র হবিগঞ্জ সদর সমিতি ইনকের সম্মানিত উপদেষ্টা এবং শাহ মো. তৌফিক মিয়া, চুনারুঘাট অ্যাসোসিয়েশন ইউএসএর সভাপতি—দুজনই মরহুম দুই ভাইয়ের পরিবারের ঘনিষ্ঠ স্বজন। তাঁদের পরিবারের এই মর্মান্তিক শোকের খবরে নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশিদের মধ্যেও শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।

প্রবাসজীবনে স্বজন হারানোর বেদনা এমনিতেই গভীর। আর একই পরিবারের দুই সন্তানের এমন অকালপ্রয়াণ সেই বেদনাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। শোকসন্তপ্ত মা-বাবা ও পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।