নিউইয়র্ক সিটির ঐতিহাসিক এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের সুউচ্চ চূড়ায় উঠে বিশ্ব শান্তির জন্য একটি বড় ব্যানার প্রদর্শন করেছেন এক রুশ যুগল। যাদের দেখে মনে হচ্ছিল, বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার লক্ষ্যেই সুপরিকল্পিতভাবে এই আয়োজন করা হয়েছে। তবে এই কাণ্ড ঘটানোর পর ওই যুগলকে গ্রেপ্তার করেছে নিউ ইয়র্ক পুলিশ।
কালো রঙের পোশাক পরা অ্যাঞ্জেলিনা নিকোলাউ (৩৩) ও ইভান কুজনেতসভ (৩২) ম্যানহাটনের ফুটপাত থেকে প্রায় ১ হাজার ৪৫৪ ফুট (৪৪৩ মিটার) উঁচুতে থাকা ভবনটির অ্যান্টেনা স্পায়ারের কাছে অবস্থান নেন। সেখানে তারা একটি কালো ব্যানার মেলে ধরেন। তাতে বড় সাদা অক্ষরে লেখা ছিল: ‘ভালোবাসার শক্তি যখন ক্ষমতার প্রতি আকর্ষণকে জয় করবে, পৃথিবী তখনই শান্ত হবে।’

দুপুর সাড়ে ১২টার কিছু সময় পর আকাশ থেকে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, ওই যুগল ধীরগতিতে অ্যান্টেনার ওপর থেকে কিছুটা নিচের প্ল্যাটফর্মে নেমে আসেন। সেখানে ইভানকে হাঁটু গেড়ে বসতে দেখা যায়, যা দেখে মনে হচ্ছিল তিনি নিকোলাউকে বিয়ের প্রস্তাব দিচ্ছেন। এরপর তারা একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন ও চুম্বন করেন।
এ সময় অ্যাঞ্জেলা নিকোলাউকে তার পরিচিত ‘ক্যাটওম্যান’ স্টাইলের পোশাকে দেখা যায়। তিনি নিজের আংটি দেখছিলেন এবং ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করার জন্য ছবি তুলছিলেন। ‘রুফটপিং’ বা সুউচ্চ ভবনের ছাদে চড়ার বিপজ্জনক অভিযান বিষয়ে এই যুগলকে নিয়ে ২০২৪ সালে নেটফ্লিক্স ‘স্কাইওয়াকার্স: আ লাভ স্টোরি’ নামে একটি তথ্যচিত্র প্রচার করেছিল।

এই ঘটনার সময় নিউইয়র্ক পুলিশ ভবনটির চারপাশের রাস্তা বন্ধ করে দেয়। পরে জানানো হয়, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ওই দুজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
নিউইয়র্ক পুলিশের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে চুরি, বেপরোয়া আচরণ ও অবৈধভাবে প্রবেশের মতো বেশ কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তারা এখনো পুলিশি হেফাজতে আছেন কি না, তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি। তারা কীভাবে কড়া নিরাপত্তা এড়িয়ে ওই অ্যান্টেনা পর্যন্ত পৌঁছালেন, সেটিও এখনও স্পষ্ট নয়।

২০০১ সালে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলার পর থেকেই এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত জোরদার করা হয়েছে। এমন এক সময়ে তারা এই কাণ্ড ঘটালেন যখন নিউইয়র্ক শহর এক উৎসবমুখর আমেজে রয়েছে। সেখানে পপ তারকা টেইলর সুইফট ও তারকা খেলোয়াড় ট্র্যাভিস কেলসির বিয়ে এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে।
এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের একজন মুখপাত্র এই ঘটনাকে ‘অননুমোদিত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি এক বিবৃতিতে কিছুটা ব্যঙ্গ করে বলেন, ওই যুগল চাইলে ভবনের ১ হাজার ডলার মূল্যের ‘প্রপোজাল প্যাকেজ’ ভাড়া নিয়ে বৈধভাবেই এই আয়োজন করতে পারতেন।

অ্যাঞ্জেলার বাবা রুশ সার্কাস শিল্পী দিমিত্রি নিকোলাউ মেয়ের এই অভিযানের কথা আগে থেকেই জানতেন। এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি যেকোনো দেশের সংবিধান অনুযায়ী ছাদে চড়া একটি স্বাভাবিক বিষয়, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও।’ মেয়ের গ্রেপ্তার নিয়ে তিনি চিন্তিত কি না—এমন প্রশ্নে দিমিত্রি বলেন, ‘আমি কেন চিন্তিত হবো? আমিও তো ছাদে চড়ি।’- রয়টার্স














