২৭শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শেষের পাতা

যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব লাভের ফি বাড়ানোর প্রস্তাব ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটির

যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব লাভের ফি বাড়ানোর প্রস্তাব ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটির

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জনের প্রক্রিয়া শিগগিরই আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে। ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব আবেদন এবং সংশ্লিষ্ট আপিল প্রক্রিয়ার ফি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। পাশাপাশি নিম্ন আয়ের আবেদনকারীদের জন্য বিদ্যমান ফি প্রদানে ছাড় ও ফি মওকুফের সুবিধা বাতিলেরও পরিকল্পনা করা হয়েছে।

প্রস্তাবটি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে আগ্রহীদের অতিরিক্ত কয়েকশ ডলার ব্যয় করতে হবে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের অভিবাসীদের জন্য এটি বড় আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন অভিবাসন অধিকারকর্মীরা। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের আবেদনপত্র বা ফরম এন-৪০০ জমা দিতে কাগজে আবেদন করলে ৭৬০ ডলার এবং অনলাইনে আবেদন করলে ৭১০ ডলার ফি দিতে হয়।

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী এই ফি বাড়িয়ে কাগজে আবেদন করলে ১,৩৩০ ডলার ও অনলাইনে আবেদন করলে ১,২৮০ ডলার করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে পুনর্বিবেচনার জন্য ব্যবহৃত ফরম এন-৩৩৬-এর ফিও বাড়ানোরও প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে কাগজে আবেদন করলে এন-৩৩৬ এর ফি ৮৩০ ডলার এবং অনলাইনে আবেদনকারীর এন-৩৩৬ এর ফি ৭৮০ ডলার। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী তা বেড়ে কাগজে আবেদনকারীর জন্য ১,৪৭৫ ডলার এবং অনলাইনে ১,৪২৫ ডলারে পৌঁছাতে পারে।

এর অর্থ হলো, কিছু ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের ব্যয় বর্তমানের তুলনায় ৮০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেতে পারে। ডিএইচএস আরও জানিয়েছে, বর্তমানে যেসব আবেদনকারীর পারিবারিক আয় ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার ৪০০ শতাংশ বা তার কম, তারা নাগরিকত্ব আবেদনে কম ফি দেওয়ার সুযোগ পান। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে সেই সুবিধা পুরোপুরি তুলে দেওয়া হবে।

শুধু তাই নয়, নাগরিকত্ব আবেদন এবং সংশ্লিষ্ট আপিল প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে ফি মওকুফের সুযোগও বাতিল করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে আবেদনকারীরা ভবিষ্যতে বিশেষ ছাড় পাবেন না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর বর্তমান ও সাবেক সদস্যদের জন্য বিদ্যমান ফি ছাড় বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে ডিএইচএস।

নতুন ফি বৃদ্ধির যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিভাগটি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস) আবেদন প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে যে ব্যয় বহন করে, নতুন ফি সেই ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। পাশাপাশি সংস্থাটির আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও এই পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।

অভিবাসন বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউএসসিআইএস মূলত আবেদনকারীদের দেওয়া ফি থেকেই পরিচালিত হয়। ফলে কার্যক্রমের ব্যয় বৃদ্ধি পেলে সংস্থাটি প্রায়ই ফি পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নেয়। তবে নাগরিকত্ব আবেদন ফি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেলে অনেক অভিবাসী আবেদন করতে নিরুৎসাহিত হতে পারেন।

বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী নিম্ন ও মধ্যম আয়ের অভিবাসীদের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। কারণ নাগরিকত্ব অর্জনের পাশাপাশি আবেদন, নথিপত্র সংগ্রহ, ভাষা ও নাগরিকত্ব পরীক্ষার প্রস্তুতিসহ অন্যান্য খরচও বহন করতে হয়।

প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো এখনও চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই নতুন ফি কাঠামো কার্যকর হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তবে প্রস্তাবটি ইতোমধ্যেই অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, নাগরিকত্ব অর্জনের পথ আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠলে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী বহু অভিবাসীর জন্য নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে যেতে পারে।