নজরুল ইসলাম মিন্টু: যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন অভিযানে বড় আইনি সমর্থন দিয়েছে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পর দশ লাখেরও বেশি অভিবাসীর সামনে বহিষ্কারের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এর ধাক্কা সরাসরি এসে পড়বে কানাডার সীমান্তে। যুক্তরাষ্ট্রে অনিশ্চয়তায় থাকা বহু অভিবাসী এখন কানাডার দিকে রওনা হতে পারেন। তবে কানাডায় পা রাখলেই আশ্রয় মিলবে, এমন ধারণা হবে এক মারাত্মক ভুল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে সাময়িক সুরক্ষা হারানো অভিবাসীদের একটি বড় অংশ কানাডাকে শেষ আশ্রয় হিসেবে দেখতে শুরু করবে। কেউ সরকারি সীমান্ত প্রবেশপথে আসবে, কেউ অনিয়মিত পথে ঢোকার চেষ্টা করবে। কিন্তু কানাডার আইন এখন আগের চেয়ে অনেক কঠোর। সীমান্ত পার হলেই শরণার্থী আবেদন গ্রহণ করা হবে না। বরং ভুল পথে এলে সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠানো হতে পারে। আর সেই ফেরত পাঠানো অনেকের জন্য সরাসরি ডিপোর্টেশনের পথে ঠেলে দেওয়ার সমান।
গত সপ্তাহে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের এক সিদ্ধান্তে হাইতি ও সিরিয়ার কয়েক লাখ নাগরিককে দেওয়া সাময়িক সুরক্ষা কর্মসূচি বাতিলের ক্ষেত্রে প্রশাসনের বড় আইনি বাধা সরে গেছে। এর ফলে আরও কয়েকটি দেশের অভিবাসীরাও নতুন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। একই সঙ্গে সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থীদের ফিরিয়ে দেওয়ার বিতর্কিত “মিটারিং” পদ্ধতিকে আদালত সমর্থন করেছে। এই পদ্ধতিতে সীমান্তে পৌঁছানোর পরও অনেক আশ্রয়প্রার্থী আবেদন করার সুযোগ না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন।
এই রায়ের পর কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র সেফ থার্ড কান্ট্রি এগ্রিমেন্ট নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এই চুক্তি অনুযায়ী, কোনো আশ্রয়প্রার্থী আগে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছালে তাঁকে সাধারণত সেখানেই আশ্রয় আবেদন করতে হয়। কানাডা সীমান্তে এসে নতুন করে আশ্রয় দাবি করার পথ সাধারণত বন্ধ।
কানাডার অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবার সীমান্তে নতুন চাপ তৈরি হবে। তাঁদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে যখনই অভিবাসন কর্মসূচি বাতিল বা সীমিত হয়েছে, তখনই কিছু মানুষ কানাডার দিকে এসেছে। এবার পরিস্থিতি আরও কঠিন। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বহু মানুষের সামনে এখন গ্রেপ্তার, আটক ও বহিষ্কারের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি, সিবিএসএ জানিয়েছে, তারা সীমান্ত পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৭১০ জন আশ্রয়প্রার্থী কানাডায় প্রবেশের পর আশ্রয়ের অযোগ্য বিবেচিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৩০৯ জন অবৈধ পথে কানাডায় ঢুকেছিলেন। সিবিএসএ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, অবৈধ পথে সীমান্ত অতিক্রম করা বিপজ্জনক এবং গুরুতর অপরাধ।
চলতি বছরের মার্চে অটোয়া বিল সি-১২ পাস করে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরকারি স্থল সীমান্ত প্রবেশপথের বাইরে অনিয়মিতভাবে কানাডায় ঢোকা ব্যক্তিদের আশ্রয় আবেদন করার অধিকার কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
কানাডার সীমান্ত এখন আগের মতো খোলা নয়। ভুল তথ্য, দালালের প্রলোভন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজবের ওপর ভরসা করে সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা জীবনকে আরও কঠিন বিপদে ফেলতে পারে। কানাডায় আশ্রয় পাওয়া একটি কঠোর আইনি প্রক্রিয়া। সীমান্ত অতিক্রম করলেই আশ্রয় মেলে না। অবৈধ পথে ঢুকলে সুবিধা নয়, বরং ফেরত পাঠানো, আটক, মামলা ও ভবিষ্যৎ অভিবাসন জটিলতার ঝুঁকি বাড়ে। তথ্যসূত্র: টরন্টো স্টার (জুলাই ০২, ২০২৬) নজরুল ইসলাম মিন্টু টরন্টো থেকে প্রকাশিত দেশেব্দেশে পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক।














