৩রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শেষের পাতা

পাসপোর্টে এবার ট্রাম্পের ছবি! আমেরিকার ২৫০ বছরের জন্মদিনে ট্রাম্পের ‘পেট্রিয়ট পাসপোর্ট’ ঘিরে বিতর্ক

পাসপোর্টে এবার ট্রাম্পের ছবি! আমেরিকার ২৫০ বছরের জন্মদিনে ট্রাম্পের ‘পেট্রিয়ট পাসপোর্ট’ ঘিরে বিতর্ক

পরিচয় ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন একটি সীমিত সংস্করণের ‘পেট্রিয়ট পাসপোর্ট’ নিয়ে এসেছে। এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের কোনও বর্তমান প্রেসিডেন্টের ছবি ও স্বাক্ষর আমেরিকার পাসপোর্টের পাতায় জায়গা পেল।

বিতর্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এই দুই শব্দ যেন সমার্থক। এবার আমেরিকার আড়াইশো তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এক অভাবনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করল ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের পাসপোর্টে (US Passport) এবার থেকে আর শুধু স্ট্যাচু অব লিবার্টি বা চাঁদে পা রাখার ঐতিহাসিক ছবি নয়, জ্বলজ্বল করবে স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি এবং তাঁর স্বাক্ষর! যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও জীবিত তথা বর্তমান প্রেসিডেন্টের ছবি দেশের পাসপোর্টে স্থান পেল।

গত ২৬ জুন শুক্রবার ট্রাম্প নিজেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই নতুন ‘লিমিটেড এডিশন’ পাসপোর্টের ভেতরের পাতার ছবি শেয়ার করেছেন। যেখানে দেখা যাচ্ছে, বিখ্যাত ‘রেজোলিউট ডেস্ক’-এ দুই হাত মুঠো করে দাঁড়িয়ে রয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর ব্যাকগ্রাউন্ডে রয়েছে আমেরিকার স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র (Declaration of Independence) এবং নিচে রয়েছে তাঁর কালো কালির সই। হোয়াইট হাউসের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডেল থেকে এই নতুন পাসপোর্টের ছবি শেয়ার করে এটিকে ‘পেট্রিয়ট পাসপোর্ট’ (Patriot Passport) বা দেশপ্রেমী পাসপোর্ট বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

আসুন, কিন্তু ভালো হয়ে থাকুন!’

নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এই নতুন পাসপোর্টের ছবি পোস্ট করে ট্রাম্প তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে লিখেছেন, “আমেরিকার নতুন পাসপোর্ট, যা বলছে— আপনাকে স্বাগত, তবে ভাল হয়ে থাকুন (Welcome, but be good)!”

যদিও ট্রাম্পের শেয়ার করা পাসপোর্টের পাতার ছবিতে কোথাও এই ‘ভালো হয়ে থাকার’ আপ্তবাক্যটি লেখা নেই। কিন্তু প্রেসিডেন্টের এই বার্তা ইতিমধ্যেই নেটপাড়ায় শোরগোল ফেলে দিয়েছে। ৬ জুলাই থেকে এই বিশেষ পাসপোর্ট ইস্যু করা শুরু হবে। তবে স্টেট ডিপার্টমেন্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, এটি অত্যন্ত সীমিত সংখ্যার (Limited Edition) জন্য এবং স্টক থাকা পর্যন্তই পাওয়া যাবে।

পাসপোর্ট পেতে মানতে হবে কঠিন শর্ত। নতুন এই ‘পেট্রিয়ট পাসপোর্ট’ যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের জন্য সহজলভ্য নয়। এর জন্য কোনও অনলাইন আবেদন বা পোস্টের মাধ্যমে আবেদন করার সুযোগ রাখেনি ট্রাম্প প্রশাসন। এই পাসপোর্ট পেতে গেলে আবেদনকারীকে সশরীরে ওয়াশিংটন ডিসি-র ‘ওয়াশিংটন পাসপোর্ট এজেন্সি’-তে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে হাজির হতে হবে। এছাড়া স্টেট ডিপার্টমেন্টের বিশেষ কিছু ইভেন্টে গিয়েই কেবল এই পাসপোর্টের আবেদন করা যাবে। বর্তমানে আমেরিকার মাত্র দুটি জায়গায় এই ইভেন্ট হবে বলে জানা গিয়েছে, যার দুটিই ওয়াশিংটনে। সবচেয়ে বড় বিষয় হল, বর্তমানে ওয়াশিংটন পাসপোর্ট এজেন্সিতে যারা সাধারণ পাসপোর্টের আবেদন করতে যাবেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই ট্রাম্পের ছবিওয়ালা পাসপোর্ট ‘ডিফল্ট’ বা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে।

ওয়াশিংটনে ‘ট্রাম্প সাম্রাজ্য’!

আমেরিকার জাতীয় প্রতীক, সরকারি ভবন বা নথিতে নিজের নাম বা ছবি খোদাই করার বাতিক ট্রাম্পের নতুন নয়। এই গ্রীষ্মেই আমেরিকার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ট্রাম্পের ছবি সংবলিত একটি বিশেষ সোনার কয়েন বাজারে আনার কথা ঘোষণা করেছে ‘ইউএস মিন্ট’। শুধু তাই নয়, আমেরিকার ডলার বা ব্যাঙ্ক নোটেও সই থাকতে চলেছে এই বর্তমান প্রেসিডেন্টের।

এখানেই শেষ নয়, ওয়াশিংটন ডিসি-র বুকে নিজের স্থায়ী ছাপ রেখে যেতে প্যারিসের ‘আর্ক দে ট্রায়াম্ফ’-এর আদলে ওয়াশিংটনে তৈরি করছেন ২৫০ ফুট উঁচু এক বিশাল তোরণ, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘আর্ক দে ট্রাম্প’ (Arc de Trump)!

এর আগে কেনেডি সেন্টারের নাম বদলে নিজের নাম জুড়েছিলেন তিনি, যা পরে অবশ্য সরিয়ে নেওয়া হয়। এবার খোদ দেশের পাসপোর্টে নিজের ছবি বসিয়ে ট্রাম্প বুঝিয়ে দিলেন, আমেরিকার আড়াইশো বছরের ইতিহাসে নিজেকে তিনি কোন উচ্চতায় দেখতে চান।