৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শেষের পাতা

যুক্তরাজ্যে আশ্রয় পেতে চাইলে দিতে হবে ১০ হাজার পাউন্ড, কঠোর হচ্ছে ব্রিটিশ অভিবাসন আইন

যুক্তরাজ্যে আশ্রয় পেতে চাইলে দিতে হবে ১০ হাজার পাউন্ড, কঠোর হচ্ছে ব্রিটিশ অভিবাসন আইন

যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য এবার চরম দুঃসংবাদ নিয়ে আসছে ব্রিটিশ সরকার। প্রস্তাবিত নতুন ও কঠোর অভিবাসন আইন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া ব্যক্তিদের রাষ্ট্র পরিচালিত আবাসন ও থাকা-খাওয়ার খরচের অংশ হিসেবে প্রায় ১০ হাজার পাউন্ড পরিশোধ করতে হবে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পরিশোধ না করলে তারা যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের (সেটেলমেন্ট) অনুমতির জন্য আবেদন করতে পারবেন না।

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এ-সংক্রান্ত নতুন ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম বিল’ উত্থাপনের কথা রয়েছে। যুক্তরাজ্যের সরকারি কর্মকর্তারা নতুন এই আয়ভিত্তিক পরিশোধ ব্যবস্থাকে অনেকটা শিক্ষা ঋণ ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করেছেন। তবে মানবাধিকার ও শরণার্থী সহায়তা সংস্থাগুলো এর তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, যুদ্ধ, নির্যাতন বা দুর্ভিক্ষ থেকে পালিয়ে আসা অসহায় মানুষদের ওপর এটি কার্যত এক ধরনের অতিরিক্ত কর বা বোঝা চাপানোর শামিল।

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এই পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছেন, বর্তমানে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন ও সহায়তার পেছনে সরকারের বছরে প্রায় ৪০০ কোটি পাউন্ড ব্যয় হচ্ছে। তিনি বলেন, আশ্রয় পাওয়া যেমন একটি অধিকার, তেমনি এটি একটি দায়িত্বও। মানুষ যখন আয় করতে সক্ষম হবে, তখন ব্রিটিশ জনগণের উদারতার প্রতিদান হিসেবে তাদের কাছ থেকে সরকার এই আর্থিক অবদান প্রত্যাশা করে।

তবে অভিবাসন বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারের এই উদ্যোগ আর্থিকভাবে খুব একটা ফলপ্রসূ হবে না। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইগ্রেশন অবজারভেটরির পরিচালক ম্যাডেলিন সাম্পশন জানান, তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী পাঁচ বছর আগে শরণার্থী মর্যাদা পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে মাত্র ১৩ শতাংশের বার্ষিক আয় ২০ হাজার পাউন্ড বা তার বেশি। তাই খুব অল্পসংখ্যক মানুষই এই অর্থ পরিশোধের মতো আয়ের স্তরে পৌঁছাতে পারবেন।

উল্টো এই নিয়মের কারণে অনেকেই সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে না থেকে বিকল্প বাসস্থানের পথ খুঁজতে পারেন এবং বেশি কর দেওয়ার ভয়ে বৈধভাবে কাজ করার প্রতি নিরুৎসাহিত হতে পারেন। হোম অফিস জানিয়েছে, আয়সীমাসহ বিস্তারিত বিষয়গুলো দ্বিতীয় পর্যায়ের বিধিমালায় চূড়ান্ত করা হবে।

প্রস্তাবিত এই অভিবাসন বিলে শুধু অর্থ পরিশোধের নিয়মই নয়, বরং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের আরও কিছু কঠোর পদক্ষেপ যুক্ত করা হয়েছে। ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদের অনুচ্ছেদ ৮-এর প্রয়োগ, অভিবাসীদের বয়স নির্ধারণ প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা এবং ‘আধুনিক দাসত্ব’ বা মডার্ন স্লেভারি-সংক্রান্ত আইনি কাঠামো সংশোধনের পরিকল্পনাও এই বিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নীতি যে আগামীতে নজিরবিহীন কঠোর হতে যাচ্ছে, তা এই নতুন বিল থেকেই স্পষ্ট।