কেনটাকির ৬১ বছর বয়সী বিশেষ শিক্ষা শিক্ষক মেরি নিকল জীবনের বেশিরভাগ সময় কাজ করার পর অবসর নিয়ে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন । কিন্তু সেই স্বপ্ন এখনো অধরাই রয়ে গেছে। কারণ, নিজের উচ্চশিক্ষার জন্য নেওয়া স্টুডেন্ট লোন এখনও করিশোধ করতে হচ্ছে তাকে।
দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, মেরি নিকলের মতো যুক্তরাষ্ট্রে লাখো প্রবীণ নাগরিক অবসরের বয়সে পৌঁছেও বহুল আলোচিত স্টুডেন্ট লোন বা শিক্ষাঋণের বোঝা বইছেন। ফলে অনেকেই ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও চাকরি ছাড়তে পারছেন না।
মেরি নিকল বলেন, তিনি স্বামী ও পরিবারের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটাতে, ভ্রমণে যেতে এবং অবসর জীবন উপভোগ করতে চান। কিন্তু ঋণের কিস্তি পরিশোধের বাধ্যবাধকতা তাকে এখনও কর্মজীবনে আটকে রেখেছে। তিনি ৪৯ বছর বয়সে বিশেষ শিক্ষা বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের জন্য আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেই সময় নেওয়া ঋণ এখনও পরিশোধ করছেন।
সাধারণভাবে স্টুডেন্ট লোনকে তরুণদের সমস্যা হিসেবে দেখা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগের তথ্য বলছে, বাস্তব চিত্র ভিন্ন। বর্তমানে ৩৫ বছরের বেশি বয়সী ফেডারেল স্টুডেন্ট লোনগ্রহীতার সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৪৬ লাখ, যা ৩৫ বছরের কম বয়সী ঋণগ্রহীতার সংখ্যা ২ কোটি ২ লাখের চেয়ে বেশি।
ঋণের পরিমাণেও এগিয়ে বয়স্করা। ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের গড় শিক্ষাঋণ প্রায় ৪৭ হাজার ৫০০ ডলার, যেখানে ৩৫ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে তা প্রায় ২৭ হাজার ৩০০ ডলার। এছাড়া ৫০ বছরের বেশি বয়সী প্রায় ৯৫ লাখ আমেরিকানের মোট ফেডারেল স্টুডেন্ট লোনের পরিমাণ প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণা ও প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৬২ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রায় ৩০ লাখ আমেরিকানের নামে এখনও ফেডারেল স্টুডেন্ট লোন রয়েছে। আট বছর আগে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ১৮ লাখ। অর্থাৎ অবসরের বয়সে পৌঁছেও শিক্ষাঋণ বহনকারী মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।
স্টুডেন্ট লোন–সংক্রান্ত অলাভজনক প্রতিষ্ঠান দ্য ইনস্টিটিউট অব স্টুডেন্ট লোন অ্যাডভাইজরসের সভাপতি বেটসি মেওট বলেন, ঋণ পরিশোধে আগের তুলনায় অনেক বেশি সময় লাগছে। ফলে ক্রমেই বেশি মানুষ অবসরের বয়সেও শিক্ষাঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেকেই কর্মজীবনের মাঝপথে আবার পড়াশোনায় ফিরে যাওয়া, সন্তানদের পড়াশোনার জন্য প্যারেন্ট প্লাস ঋণ নেওয়া কিংবা সুদ জমে মূল ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার কারণে দীর্ঘদিন ধরে ঋণের বোঝা বহন করছেন। এর ফলে অবসর পরিকল্পনা পিছিয়ে যাচ্ছে এবং স্থির আয়ের ওপর নির্ভরশীল অনেক প্রবীণ আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছেন।















