১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র

৬ মাস যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকলে ফেরার সময় পাবলিক চার্জ নীতিতে পড়তে পারেন গ্রিন কার্ডধারীরা

৬ মাস যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকলে ফেরার সময় পাবলিক চার্জ নীতিতে পড়তে পারেন গ্রিন কার্ডধারীরা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীরা একটানা ১৮০ দিনের বেশি দেশের বাইরে থাকলে ফেরার সময় নতুন পাবলিক চার্জ নীতির আওতায় যাচাইয়ের মুখে পড়তে পারেন। তবে শুধু ছয় মাসের বেশি বাইরে থাকলেই গ্রিন কার্ড বাতিল হবে বা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না, বিষয়টি এমন নয়। আইন অনুযায়ী, তাঁদের নতুন করে ‘অ্যাপ্লিক্যান্ট ফর অ্যাডমিশন’ বা প্রবেশের আবেদনকারী হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। তখন অন্যান্য গ্রহণযোগ্যতার শর্তের পাশাপাশি পাবলিক চার্জের বিষয়টিও যাচাই করা সম্ভব।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউজউইক ও ভারতের টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে নতুন নীতির সম্ভাব্য প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে। তবে এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভিত্তি হলো ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত চূড়ান্ত বিধি এবং ইউএসসিআইএসের নির্দেশনা।

নতুন বিধি ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে। এটি ওই দিন বা তার পরে জমা দেওয়া ফর্ম I-485 অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস আবেদন এবং ওই দিন বা তার পরে করা প্রবেশের আবেদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। ১৮ সেপ্টেম্বরের আগে যথাযথভাবে জমা দেওয়া এবং গ্রহণ করা আবেদনগুলো আগের ২০২২ সালের নিয়মে নিষ্পত্তি হবে।

ফেডারেল রেজিস্টারের চূড়ান্ত বিধিতে বলা হয়েছে, গ্রিন কার্ডধারীরা সাধারণত বিদেশ সফর শেষে ফেরার সময় নতুন প্রবেশের আবেদনকারী হিসেবে বিবেচিত হন না। তবে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্টের ১০১(এ)(১৩)(সি) ধারায় কয়েকটি ব্যতিক্রম রয়েছে। এর মধ্যে একটানা ১৮০ দিনের বেশি যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা অন্যতম। এ অবস্থায় ফেরার সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির গ্রহণযোগ্যতা নতুন করে পরীক্ষা করা হতে পারে।

তবে ১৮০ দিনের সীমা পার হওয়া মানেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাবলিক চার্জ হিসেবে চিহ্নিত হওয়া নয়। কর্মকর্তারা ব্যক্তির বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক অবস্থা, আয়, সম্পদ, আর্থিক সক্ষমতা, শিক্ষা ও কর্মদক্ষতাসহ সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করবেন। সরকারি সহায়তা গ্রহণের ইতিহাস থাকলে সেটিও মূল্যায়নের একটি অংশ হতে পারে, কিন্তু শুধু কোনো একটি সুবিধা গ্রহণের কারণেই সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।

নতুন নীতিতে ১৮ সেপ্টেম্বর বা তার পরে আবেদনকারী নিজে গ্রহণ করেছেন এমন বিভিন্ন মিনস টেস্টেড সরকারি সুবিধা বিবেচনায় নেওয়ার সুযোগ বাড়ছে। এর মধ্যে স্ন্যাপ, মেডিকেইড, আবাসন সহায়তা এবং আয়ভিত্তিক কিছু স্থানীয় বা স্টেট কর্মসূচি থাকতে পারে। উচ্চশিক্ষার জন্য স্টেট বা স্থানীয় সরকারের আয়ভিত্তিক আর্থিক সহায়তাও কিছু ক্ষেত্রে পর্যালোচিত হতে পারে। তবে সোশ্যাল সিকিউরিটি, সরকারি পেনশন, বেকারত্ব বিমা এবং ভেটেরান সুবিধার মতো অর্জিত সুবিধা এ তালিকায় পড়ে না।

পরিবারের কোনো সদস্য বা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক সন্তান স্ন্যাপ বা মেডিকেইড গ্রহণ করলেই সেটি আবেদনকারীর নিজের সুবিধা গ্রহণ হিসেবে গণ্য হবে না। ফেডারেল বিধি অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যের সুবিধা সাধারণত বিবেচনা করা হবে না। তবে আবেদনকারীর আয় কম হওয়ায় তাঁর আইনগতভাবে নির্ভরশীল পরিবারের সদস্য সুবিধাটি পেয়ে থাকলে, অথবা সেই সুবিধা আবেদনকারীর নিজের আর্থিক সহায়তার উৎস হলে, বিষয়টি সামগ্রিক আর্থিক মূল্যায়নে আসতে পারে।

নতুন নিয়ম প্রধানত ফ্যামিলি বেইজড, এমপ্লয়মেন্ট বেইজড ও ডাইভারসিটি ভিসার মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদনকারীদের প্রভাবিত করবে। যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে ফর্ম I-485 দিয়ে স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদনকারীরা সরাসরি ইউএসসিআইএসের নতুন নির্দেশনার আওতায় পড়বেন। বিদেশে ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে পাবলিক চার্জ আইন প্রযোজ্য হলেও তাঁদের আবেদন ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্টের কনস্যুলার প্রক্রিয়ায় যাচাই করা হয়। ইউএসসিআইএসের এই চূড়ান্ত বিধি সরাসরি ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্টের মানদণ্ড পরিবর্তন করে না।

রিফিউজি, অ্যাসাইলি, স্পেশাল ইমিগ্র্যান্ট জুভেনাইল, টি ও ইউ ভিসাধারী, ভাওয়া সেলফ পিটিশনার এবং কিউবান অ্যাডজাস্টমেন্ট অ্যাক্টের আওতাধীন আবেদনকারীরা আইন অনুযায়ী পাবলিক চার্জ যাচাই থেকে ছাড় পেতে পারেন। টিপিএস আবেদন বা পুনর্নিবন্ধনের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। তবে কোনো টিপিএসধারী পরে সাধারণ ফ্যামিলি পিটিশনের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড চাইলে সেই আবেদন পাবলিক চার্জ যাচাইয়ের আওতায় আসতে পারে।

বর্তমান গ্রিন কার্ডধারীর শুধু কার্ড নবায়নের আবেদনেও নতুন পাবলিক চার্জ পরীক্ষা প্রযোজ্য নয়। ন্যাচারালাইজেশন আবেদনও সরাসরি এই বিধির আওতায় পড়ে না। তবে ইউএসসিআইএস ন্যাচারালাইজেশন প্রক্রিয়ায় আবেদনকারী প্রথমবার আইনসম্মতভাবে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পেয়েছিলেন কি না, সেটি আলাদাভাবে যাচাই করতে পারে।

ইমিগ্রেশন আইনজীবীদের পরামর্শ, যেসব গ্রিন কার্ডধারী একটানা ১৮০ দিনের বেশি যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ছিলেন, তাঁদের ফেরার আগে ভ্রমণের সময়কাল, সরকারি সুবিধা গ্রহণের ইতিহাস এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্থায়ী সম্পর্কের প্রমাণ পর্যালোচনা করা উচিত। দীর্ঘ অনুপস্থিতি বা জটিল ইমিগ্রেশন ইতিহাস থাকলে ভ্রমণের আগে অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।