১৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কমিউনিটি

সত্য লুকানোর অপচেষ্টা, মিথ্যা-বানোয়াট-কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য ও নির্বাচিত কর্মকর্তাদের চরিত্র হরনের প্রতিবাদ – চিটাগাং এসোসিয়েশনের সংবাদ সম্মেলনের জবাবে মাকসুদ-সিরাজী পরিষদ

সত্য লুকানোর অপচেষ্টা, মিথ্যা-বানোয়াট-কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য ও নির্বাচিত কর্মকর্তাদের চরিত্র হরনের প্রতিবাদ – চিটাগাং এসোসিয়েশনের সংবাদ সম্মেলনের জবাবে মাকসুদ-সিরাজী পরিষদ

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী চট্টগ্রামবাসীদের অন্যতম পুরনো সামাজিক সংগঠন চিটাগাং এসোসিয়েশন অফ নর্থ আমেরিকা’র চলমান পরিস্থিতিতে দুই পক্ষই নিজেদেরকে নির্বাচিত দাবী করে পাল্টাপাল্টি সংবদ সম্মেলন করেছে। সংগঠনের সভাপতি আবু তাহের ও সাধরণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম নেতৃত্বাধীন কমিটির সংবাদ সম্মেলনের পর অপরাংশের সভাপতি মাকসুদুল হক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হোসেন সিরাজীর নেতৃত্বাধীন কমিটি পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে তাদের প্রতিপক্ষের বক্তব্যের জবাব দিয়েছে।

গত সোমবার (১৫ জুন) সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন রেস্টুরেন্টের মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা এসোসিয়েশনের সত্য লুকানোর অপচেষ্টা, মিথ্যা-বানোয়াট-কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য ও নির্বাচিত কর্মকর্তাদের চরিত্র হরনের প্রতিবাদ করে সকল নোংরামির পথ পরিহার করে সংগঠনের বৃহৎ স্বার্থে চট্টগ্রামবাসীদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে সকল প্রকার হিসাব ও কাগজপত্র হস্তান্তর করে চিটাগাং এসোসিয়েশন তথা সকল চট্টগ্রামবাসীকে প্রবাসের মাটিতে আর অপমান না করে সংগঠনটিকে তার ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে।

এসোসিয়েশনের কার্যকরী পরিষদ এবং আজীবন ও সাধারণ সদস্যবৃন্দের পক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হোসেন সিরাজী। এরপর দীর্ঘ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সভাপতি মাকসুদুল হক চৌধুরী। এসময় এসোসিয়েশনের ট্রাষ্টি বোর্ডের কে-চেয়ারম্যান শাহজাহান সিরাজী, ট্রাষ্টি বোর্ডের সদস্য ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হাসান চৌধুরী, উপদেষ্টা মোহাম্মদ দিদার, তারিখ চৌধুরী দিপু, সাবেক সভাপতি আহসান হাবীব, সিনিয়র সহ সভাপতি মোক্তাদির বিল্লাহ, সহ সভাপতি আকবর আলী বাপ্পি ও আইফুর আনসারী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন ভূইয়া, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ সুমন উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ফরহাদ, দপ্তর সম্পাদক শিমুল বড়–য়া, সহ দপ্তর সম্পাদক জয়নাল আবেদীন আতিক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুল অদুদ, ক্রীড়া সম্পাদক জাহেদুল আজম, কার্যকরী সদস্য নুরুস সাফা, মোহাম্মদ শওকত আলী, খাইরুল বাসার, অমল বড়–য়া, বিধান বড়–য়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে মাকসুদ-সিরাজী ছাড়াও সংগঠনের সাবেক সভাপতি আহসান হাবীব, শাহজাহান সিরাজী ও সিনিয়র সহসভাপতি মোক্তাদির বিল্লাহ উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মাকসুদুল হক চৌধুরী চিটাগাং এসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, এই প্রবাসের অন্যতম একটি বৃহৎ সংগঠন, যা মৃতের সৎকারের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ১৯৮৯ সালে, তখন এই সংগঠনের নাম ছিল চট্টগ্রাম সমিতি যা পরবর্তীতে চিটাগাং এসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা নামে রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় প্রতিষ্ঠার পর প্রথম কয়েক বছর কোন সমস্যা না থাকলেও ১৯৯৭ সালে ভবন ক্রয়ের পর থেকেই একটি মহল এই সংগঠনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তিনি বলেন, এসোসিয়েশনের আর্থিক হিসাবের সমস্যা শুরু ২০১৪ সাল থেকে। তখন মোহাম্মদ তাহের সাধারন সম্পাদক ছিলেন, সভাপতি আকবর আলী এবং কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ মোক্তাদির বিল্লাহ-এর বিপরীত প্যানেল থেকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার কারনে তিনি কার্যকরী পরিষদের সকল কাজে তখন উল্টো পথে হাঁটতো। একই ভাবে এই গ্রুপটি ২০১৭ সালে নির্বাচনের ছয়মাস পার হতে না হতে, তৎকালীন সভাপতি মরহুম আবদুল হাই জিয়ার কমিটি থেকে সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম, কামাল হোসেন মিঠু, আরিফুল ইসলাম সহ বেশ কয়েকজন কার্যকরী পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেছিল, উদ্দেশ্য একটাই যেন সংগঠনটির মধ্যে একটি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা যায়, মরহুম জিয়া ভাইকে সঠিকভাবে সংগঠনটি পরিচালনা করতে দেয়নি তারা।

সংবাদ সম্মেলনের নামে মানুষের চরিত্র হনন করার প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ২০২২ গঠিত অন্তরবর্তীকালীন কমিটি ২৩ মাস দায়িত্ব পালন করে নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে গেলে তাদের পছন্দের নির্বাচন কমিশন যখন ভোটে হেরে যায় তখন মোহাম্মদ আবু তাহের ও তার গ্রুপ নির্বাচন বয়কটের হুমকি দেয়। তখন আমরা সংগঠনের বৃহৎ স্বার্থে ভোটাভুটিতে হেরে যাওয়া দুই কমিশনার মোহাম্মদ সেলিম হারুন ও শাহাবুদ্দিন সাগরকে মেনে নিয়েছিলাম। সেই দিনের সেই আপোসের ভুল আজ পুরো চট্টগ্রামবাসী ভোগ করছে।

মাকসুদুল হক চৌধুরী আরো বলেন, চট্টগ্রামে ভবনের দরজা ভাঙা কিংবা তালা পরিবর্তনের সুচনা হয় ২০১৭/১৮ সাল থেকে মোহাম্মদ হানিফের হাত ধরে যা আজো তারা অব্যাহত রেখেছে, ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে মোহাম্মদ হানিফ, এনাম, শামসু গ্রুপ, কাজী আজম, সেলিম, আরিফ ও মিঠু গ্রুপের মিলাদুন্নবী (সঃ) অনুষ্ঠান বন্ধ করার জন্য ভবনের প্রধান ফটকে বিশাল চেইন দিয়ে ভবনের প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয়, যদিও তার পুর্বে বেশ কয়েকবার পাল্টাপাল্টি ভাবে উভয় গ্রুপ অফিসের দরজা ভেঙ্গেছে। তাদের মন মতো কোন কিছু না হলেই তারা (হানিফ গং) সাথে সাথে সমিতির দরজা ভেঙে চর দখলের মতো সংগঠনের ভবন দখল করে রাখে এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তিনি বলেন, তারা তাদের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার লক্ষ্যে মার্চের ১৯ তারিখ ভোর রাতে সেহরি খাওয়ার সময় পরিবারের সদস্যদের সামনে থেকে সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আহসান হাবিবকে বাসায় পুলিশ পাঠিয়ে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। তার পরেরদিন ঠিক একই সময় চট্টগ্রামবাসীর ভোটে নির্বাচিত সভাপতি মাকসুদ চৌধুরীর বাসায় পুলিশ পাঠিয়ে তার পুরো পরিবারকে আতংকগ্রস্ত করে। কয়েকদিন পর ঠিক ভোর রাতেই সবচেয়ে বেশি ভোটে নির্বাচিত সিনিয়র সহ সভাপতি মোক্তাদির বিল্লাহ ও সহ সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হারুন মিয়ার বাসায়ও পুলিশ পাঠায়।

তিনি বলেন, তাদের নামে থাকা দুটি ব্যাংক একাউন্টে গত মার্চ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট অনুযায়ী ১টিতে প্রায় ২০ হাজার ডলার অন্য একটি একাউন্টে ৪ হাজার ডলার আছে। মুখে মুখে হিসাব করলেও অন্তবর্তীকালীন কমিটি, নির্বাচন কমিশন এবং ঘর ভাড়া থেকে আদায়কৃত গত ২২ মাসের অর্থ হিসাব করলে আনুমানিক তিন লক্ষ ডলারের বেশী তাদের হাতে রয়েছে। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে ২০২২ সালের পর থেকে আজ অবধি এসোসিয়েশনের কোন ট্যাক্স ফাইল করা হয়নি ফলে সংগঠনটি ‘নট ফর প্রফিট’ স্টেটাস হারানোর পথে।

মাকসুদুল হক চৌধুরী বলেন, আমরা জানাতে চাই নির্বাচনের মামলাসহ মোট তিনটি মামলার মধ্যে আমাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলায় নির্দোষ প্রমান হওয়ার পরে আরো দুটি মামলা বর্তমানে চলমান, নির্বাচনী মামলা এবং ভাড়াটিয়ার বিরুদ্ধে করা মামলা। সংগত কারনে ভাড়াটিয়াদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা আমরা রিপ্রেজেন্ট করছি, কারন তারা নির্দোষ। তাদের ভাড়া মে ২০২৬ পর্যন্ত পরিশোধ করা আছে। তিনি বলেন, কোরামবিহীন ভাবে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা সম্পূর্ণ বেআইনি। আর গায়ের জোরে ভবন দখল করে সমিতির মালিক বনে ডাওয়া যায়, কিন্তু ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করবে না। সব কিছুর হিসাব চট্টগ্রামবাসী আদায় করবে ইনশা আল্লাহ।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মোকতাদির বিল্লাহ বলেন নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছি কিন্ত ফলাফল ঘোষণার সময় পক্ষপাতিত্বের আশ্রয় নেয় নির্বাচন কমিশন । মাকসুদ-সিরাজী প‍্যানেলের মধ‍্য থেকে নির্বাচিত ১০ জনের শপথ প্রসঙ্গে মাকসুদ চৌধুরী বলেন, তাঁরা পক্ষপাতদুষ্ট নির্বাচন কমিশনের নিকট থেকে শপথ গ্রহণের পরিবর্তে যিনি নির্বাচন কমিশনকে শপথ পড়িয়েছিলেন, সংগঠনের সেই সাবেক সাধারণ সম্পাদক মেহবুবুর রহমান বাদলের নিকট শপথ নিয়েছেন। কোন প্রকার সমঝোতার সম্ভাবনা আছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে শাহজান সিরাজী বলেন, আমরা চেষ্টা করেছি, কেউ সাড়া দেয়নি । সংবাদ ও ছবি ইউএনএ।