৪ঠা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আর্ন্তজাতিক

‘দ্রুত’ একটি চুক্তি সম্পাদনের শর্তে ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত আরো এতবড় বাতিল করলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

‘দ্রুত’ একটি চুক্তি সম্পাদনের শর্তে ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত আরো এতবড় বাতিল করলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত বাতিল করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ‘দ্রুত’ একটি চুক্তি সম্পাদনের শর্তে তিনি ইরানের ওপর হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন।

নিজের মালিকানাধীন ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লিখেছেন, ‘বিশ্বের ভবিষ্যৎ স্বার্থে এবং একই সঙ্গে একটি সফল ও সমৃদ্ধ ইরানের টিকে থাকার জন্য আমি হামলাটি বাতিল করতে সম্মত হয়েছি। তবে শর্ত হলো, দেশটিকে দ্রুত একটি চুক্তি করতে হবে।’

এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছিল, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চলতি সপ্তাহেই ইরানের ওপর নতুন ও তীব্র হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছিলেন। সম্প্রতি তেহরান উত্তেজনা বাড়ানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করেছে। ইরান বলেছে, ওয়াশিংটনকে সহযোগিতা করা যেকোনো আঞ্চলিক রাষ্ট্র ‘যুদ্ধের আগুনে ভস্মীভূত হবে’।

যুক্তরাষ্ট্র সরকার এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকতে এবং ওই অঞ্চলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে এলাকা ছাড়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে আহ্বান জানিয়েছিল।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে এমন সম্ভাবনাকে সামনে রেখে ইসরায়েলের নিরাপত্তাবাহিনী নিজেদের প্রস্তুত করেছে। হামলার পর ইরান পাল্টা হামলায় ইসরায়েলকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে এমন আশঙ্কায় দেশটি সতর্কতা বাড়িয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে তুরস্কের বার্তাসংস্থা টিআরটি।

গত শুক্রবার (৩১ জুলাই) প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার মন্ত্রিসভার সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই সময় তিনি ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হামলার হুমকি দেন। ট্রাম্প বলেন, তারা ইরানে এত ব্যাপক হামলা চালাবেন যে একসময় ইরান বলবে, তারা আর যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে না।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়েদিয়োত আহরোনোত জানিয়েছে, ইসরায়েল তাদের প্রতিরক্ষা সতর্কতা বৃদ্ধি করেছে। দেশটির সামরিক কমান্ডারদের ধারণা, ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার নির্দেশ যেকোনো সময় দিতে পারেন। পত্রিকাটি আরও বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে ইরান পাল্টা হামলায় ইসরায়েলকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।

সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২ জানিয়েছে, ইসরায়েলও ইরানে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার বিষয়েও প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। অজ্ঞাতনামা একটি সূত্র সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি এখন ‘বিস্ফোরিত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে’ রয়েছে।

ইরানে হামলা নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে সৌদি যুবরাজের ফোনালাপ

রানে সম্ভাব্য হামলার বিষয় নিয়ে শুক্রবার ৩১ জুলাই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ফোনালাপে তিনি ইরানের ওপর নতুন করে বড় আকারের হামলার কথিত পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রোববার (২ আগস্ট) ট্রাম্প প্রশাসনের দুজন সিনিয়র কর্মকর্তা এবং এ বিষয়ে অবগত আরেকটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরানে বড় ধরনের হামলার হুমকির পর সৌদি যুবরাজের সঙ্গে ট্রাম্পের এ ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়। এ হুমকির পর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদেরও সতর্ক করেছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট । তাদের যেকোনো সময় মধ্যপ্রাচ্য ছেড়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। এ সময় তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যেকোনো আগ্রাসনের জবাব ‘সুনির্দিষ্ট ও যথাযথভাবে’ দেওয়া হবে।