নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের বে শোর আবাসিক এলাকায় একটি মুসলিম ছেলেদের আবাসিক স্কুল চালুর পরিকল্পনা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ১২০ জন কিশোর শিক্ষার্থী নিয়ে গড়ে উঠতে যাওয়া এই আবাসিক স্কুলটি তাদের শান্ত উপশহরের পরিবেশ নষ্ট করবে বলে দাবি করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ভবনটি একটি আবাসিক এলাকায় অবস্থিত এবং স্থানীয়রা যানজট ও দিনে পাঁচবার মুসলিমদের আজান সম্প্রচারের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বিগ্ন।
সম্প্রতি এই বিষয়ে একটি টাউন মিটিং পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলে, যেখানে মানুষ তাদের উদ্বেগ জানাতে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়েছিল।
নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত জুন মাসে ৫ মিলিয়ন ডলারে ১৩ একরের একটি ওয়াটারফ্রন্ট সম্পত্তি কিনে নেয় ‘ইউনাইটেড আমেরিকান মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন’। এর আগে সম্পত্তিটি রোমান ক্যাথলিক মন্টফোর্ট মিশনারিদের অধীনে ছিল এবং একসময় সেখানে একটি ক্যাথলিক সেমিনারি ও পরবর্তীতে প্রিস্টদের আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তবে নতুন মালিকরা সেখানে ইসলামিক শিক্ষাকেন্দ্র ও আবাসিক স্কুল চালুর উদ্যোগ নিলে স্থানীয় ‘স্যাক্সন সেজ নো’ নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে বাসিন্দারা এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হন।
মঙ্গলবার আইসলিপ টাউন জোন বোর্ডের এক সভায় পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে শত শত ক্ষুব্ধ বাসিন্দা উপস্থিত হয়ে এই প্রস্তাবের তীব্র প্রতিবাদ জানান। স্থানীয়দের অভিযোগ, আবাসিক এলাকায় একটি বড় মাপের আবাসিক স্কুল চালু হলে অতিরিক্ত শব্দদূষণ, যানজট এবং এলাকার নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হবে। এছাড়া ছোট শিশুদের জন্য একটি ডে কেয়ার সেন্টার চালুর বিষয়েও বাসিন্দাদের মনে নানা প্রশ্ন রয়েছে।
‘বে শোর’ (Bay Shore) এলাকার একদল বাড়ির মালিকের দাবি, স্যাক্সন এভিনিউয়ের (Saxon Avenue) আবাসিক এলাকার জন্য নির্ধারিত বিধিমালার আওতায় এই বোর্ডিং বা আবাসিক স্কুল স্থাপনের প্রস্তাবটি বেআইনি। ১৩ একর আয়তনের জলাশয়-সংলগ্ন যে জমিতে এটি গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে, সেখানে বহু বছর আগে একটি ক্যাথলিক সেমিনারি (ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান) ছিল।
আইসলিপের (Islip) বাসিন্দা এবং ‘স্যাক্সন সেজ নো’ (Saxon Says No)—অর্থাৎ ‘স্যাক্সন না বলছে’—নামে পরিচিত বোর্ডিং স্কুল-বিরোধী আন্দোলনের নেতা কেভিন কোলগান এক বিবৃতিতে বলেন, “নতুন মালিকের প্রস্তাবিত এই স্থাপনাটির ব্যবহার একটি শান্ত আবাসিক এলাকার জন্য যতটা উপযুক্ত, তার চেয়ে অনেক বেশি ব্যাপক ও কোলাহলপূর্ণ।”
“বিষয়টি আমাদের জোনিং বা এলাকা-বিন্যাস সংক্রান্ত আইনের অখণ্ডতা রক্ষার—কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরোধিতা করার নয়। আমাদের এলাকার বৈশিষ্ট্য, অখণ্ডতা ও জীবনযাত্রার মান বজায় রাখার পাশাপাশি জমির ব্যবহার যেন পারিপার্শ্বিক পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই জোনিং আইনগুলো রয়েছে,” কলগান বলেন…
ডিক্স হিলসের সুলেমানিয়া মসজিদ-কেন্দ্রিক সংগঠন ‘ইউনাইটেড আমেরিকান মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন’ রোমান ক্যাথলিক ‘মন্টফোর্ট মিশনারিজ’-এর কাছ থেকে বিশাল আয়তনের এই সম্পত্তিটি ৫০ লাখ ডলারে কিনে নিয়েছে।
অন্যদিকে স্কুলটির আইনজীবী স্যামুয়েল এল. বিফুলকো এবং আয়োজকরা জানিয়েছেন, টাউনের জোন কোড মেনেই এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে এবং সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে বোর্ডিং স্কুলটি পরিচালনা করা হবে। শিক্ষার্থীদের ওপর কঠোর নিয়মকানুন থাকায় এলাকার শান্ত পরিবেশ নষ্ট হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই বলেও দাবি তাদের। বর্তমানে বিষয়টি আইসলিপ টাউন জোন বোর্ডের পর্যালোচনায় রয়েছে। সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট















