বায়োস্কোপ ফিল্মস’র ৫৫তম ছবি হিসেবে এবার উত্তর আমেরিকায় মুক্তি পাচ্ছে বাংলা ছবি ‘রইদ’। শুক্রবার (২৬ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের ২০টি ষ্টেটের ৩১টি শহরে ছবিটি প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে মুক্তি পাচ্ছে বাংলাদেশের তরুণ পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমন এর ছবিটি। ব্যতিক্রমী এই ছবিটি দর্শকদের ভালো লাগবে। ছবিটি নির্মান করতে মাসের পর মাস অপেক্ষা করে নতুন সেট তৈরী করে ছবিটির শুটিং করা হয়েছে। আর এর মধ্য দিয়ে ছবিটি নতুন রূপে আসছে দর্শকদের কাছে। এসব তথ্য জানিয়েছেন ছবিটির পরিবেশন বায়োস্কোপ ফিল্মস’র কর্ণধার রাজ হামিদ।
নিউইয়র্ক সহ উত্তর আমেরিকায় ‘রইদ’ ছবির মুক্তি উপলক্ষ্যে বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যায় সিটির জ্যাকসন হাইটসের একটি রেষ্টুরেন্টে আয়োজিত ‘বায়োস্কোপ আড্ডা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে রাজ হামিদ উপরোক্ত তথ্য জানিয়ে আরো বলেন, উত্তর আমেরিকায় বাংলা ছবি, বাংলাদেশের ছবির চাহিদা বাড়ছে, বাড়ছে দর্শকও। এটাই বায়োস্কোপ ফিল্মস’র সফলতা। তিনি বলেন, ভিন্ন গল্প, ভিন্ন পরিবেশ আর ভিন্ন দৃষ্টি ভঙ্গি নিয়ে নির্মিত ‘রইদ’ ছবিটি ইতিমধ্যেই দেশে মুক্তি পেয়েছে এবং ছবিটি দর্শকদের নজর কেড়েছে। উত্তর আমেরিকার দর্শকদের কাছে ছবিটি নিয়ে আসতে পেরে আমরা আনন্দিত। তিনি বলেন, নিউইয়র্ক সহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে ছবিটি ২৬ জুন মুক্তি পেলেও কানাডায় মুক্তি পেতে কয়েকদিন সময় লাগবে। নিউইয়র্কের কিউ গার্ডেন সিনেমা হলে ছবিটি প্রতিদিন বেলা ২টা, বিকেল ৫টা ও সন্ধ্যা ৮টায় প্রদর্শিত হবে। আর ফরেস্ট হিলের রিগ্যাল রিগ্যাল মুভি থিয়েটারে শুক্র, শনি ও রোববার রাত ১১টায় প্রদর্শিত হবে।
‘বায়োস্কোপ আড্ডা’ অনুষ্ঠানের শুরুতে ছবিটির প্রস্তুতি সহ অংশ বিশেষ প্রদর্শিত হয়। এরপর স্বাগত বক্তব্য রাখেন বায়োস্কোপ ফিল্মস’র মিডিয়া ডিরেক্টর বিশিষ্ট সাংবদিক ও সঙ্গীত শিল্পী তানভির তারেক। এরপর রাজ হামিদ বিস্তারিত তুলে ধরেন।
রাজ হামিদ বলেন, ছবিটি ভারতের মেঘালয় রাজ্যে সমান্তে আর বাংলাদেশের শ্রীমঙ্গলে টিলার উপরে নিজস্ব সেটআপে শুটিং করা হয়েছে। আর সেটআপ তৈরী হতে ১০ মাস অপেক্ষা করতে হয়েছে। ছবিটিতে নাজিফা তুশি নামের ২০২৬ এর বড় পর্দার সেনশেসনের অনবদ্য অভিনয়ের পাশাপাশি নতুন শক্তিমান অভিনেতা মুস্তাফিজুর নূর ইমরানের সাবলীল উপস্থিতি দর্শকদের ভালো লাগবে। ‘রইদ’ ছবিটি দর্শকগণ অনেকদিন মনে রাখবেন এবং সবমিলিয়ে ছবিটি একটি মাইলস্টোন ছবি হিসেবে স্থান করে নেবে- এমন প্রত্যাশা রাজ হামিদের। তিনি বলেন, প্রবাসের নতুন প্রজন্মকে বাংলা ছবির সাথে সম্পৃক্ত করতে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যের ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বাংলা ছবি ফ্রি দেখার উদ্যোগ নিয়েছি।
অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের উত্তরে রাজ হামিদ বলেন, বাংলাদেশের ছবি একাডেমী পুরষ্কার পাবে এমন প্রত্যাশা নিয়েই তিনি তার বায়োস্কোপ ফিল্মস’র মাধ্যমে উত্তর আমেরিকায় বাংলা ছবি মুক্তি দিয়ে আসছেন। তিনি বলেন, এখন বাংলাদেশে এমন অনেক ছবি তৈরী হচ্ছে যেগুলো আন্তর্জাতিক মানের।
অপর এক প্রশ্নের উত্তরে রাজ হামিদ বলেন, সামনে এমন দিন আসছে যে, বাংলা ছবি বানাতে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের খুঁজতে আর বাংলাদেশে যেতে হবে না। দেশের অনেক সনামধন্য অভিনেতা-অভিনেত্রী এখন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন। আগামী দিনে তাদেও নিয়ে ছবি তৈরীরও পরিকল্পনা রয়েছে বায়োস্কোপ ফিল্মস’র।
অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের পরেই উত্তর আমেরিকায় বাংলা ছবির দর্শকের স্থান বেশী। এজনই আমরাও উৎসাহী। তিনি বলেন, দেশের নতুন নতুন ছবির গল্প, স্ক্রিপ্ট, রেজুলেশন, কনটেন্ট, ক্যামেরা আন্তর্জাতিক মানের হওয়ায় প্রবাসী দর্শকরাও দেশের ছবি দেখতে আগ্রহী হচ্ছেন। তারভীর তারেক বলেন, উত্তর আমেরিকায় বাংলা ছবির দর্শক বাড়াতে আমরা বায়োস্কোপ ফিল্মস’র মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে টার্গেট করে পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
এক প্রশ্নের উত্তরে রাজ হামিদ বলেন, বাংলাদেশে ছবির দর্শক বড়াতে সরকারী উদ্যোগের পাশাপাশি সিনেমা হলগুলোর উন্নতি দরকার। তারভীর তারেক বলেন, বড় বাজেটের ছবি হলেই হবে না, দর্শক বাড়াতে হলে আগে ভালো গল্পের ছবি দরকার। খবর ও ছবি: ইউএনএ














