২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নিউইয়র্ক

নিউ ইয়র্ক সিটির ৯১১ কলগুলোর অর্ধেকেরও বেশি অপরাধ-সম্পর্কিত নয়, গবেষণায় প্রকাশ

নিউ ইয়র্ক সিটির ৯১১ কলগুলোর অর্ধেকেরও বেশি অপরাধ-সম্পর্কিত নয়, গবেষণায় প্রকাশ

নিউ ইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগে আসা লক্ষ লক্ষ ৯১১ জরুরি কলের ওপর চালানো এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে— গত বছর পুলিশ যেসব ঘটনায় সাড়া দিয়েছে, সেগুলোর অধিকাংশই এমন সব ঘটনার সাথে সম্পর্কিত ছিল যা ৯১১ ডিসপ্যাচারদের (কল গ্রহণকারীদের) মতে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের আওতাভুক্ত নয়। গত ১৫ এপ্রিল বুধবার ‘ভেরা ইনস্টিটিউট অফ জাস্টিস’ (Vera Institute of Justice) কর্তৃক প্রকাশিত একটি গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষকরা ২০২৫ সালে পুলিশের সাড়াদান প্রয়োজন হয়েছিল এমন ৩৬ লক্ষেরও বেশি কল বিশ্লেষণ করেছেন এবং দেখেছেন যে, এর মধ্যে মাত্র ৪২ শতাংশ কলকে ৯১১ ডিসপ্যাচাররা “অপরাধ-সম্পর্কিত” হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, যেসব অভিযোগের সাথে কোনো কথিত অপরাধের সংশ্লিষ্টতা নেই—যেমন ব্যক্তিগত বিবাদ, নাগরিক পরিষেবার সমস্যা, যানজট পরিস্থিতি এবং যানবাহনের দুর্ঘটনা—পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রায়শই এমন সব অভিযোগ সামলাতে পাঠানো হয়েছে।

কলগুলোর মাত্র ২৮ শতাংশ ছিল এমন অপরাধের রিপোর্ট যা ঠিক সেই মুহূর্তে সংঘটিত হচ্ছিল—যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল হামলা, চুরি এবং হয়রানির ঘটনা।

বিশ্লেষণে আরো দেখা গেছে, কলগুলোর মাত্র ৯ শতাংশ ছিল সহিংস অপরাধ সম্পর্কিত রিপোর্ট। আরও ৫৩ শতাংশ কলকে “সম্ভাব্য অপরাধ” হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে—যার মধ্যে সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা মাদক-সংক্রান্ত সন্দেহজনক কার্যকলাপের রিপোর্ট অন্তর্ভুক্ত ছিল। অন্যদিকে ১৯ শতাংশ কল ছিল এমন অপরাধের রিপোর্ট যা ইতিমধ্যেই সংঘটিত হয়ে গেছে।

গবেষকরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, পুলিশের সাড়াদান প্রয়োজন হয়েছিল এমন কলগুলোর ৫৮ শতাংশই। এমন সব কার্যকলাপের সাথে সম্পর্কিত ছিল যাকে তারা “অপরাধ-বহির্ভূত” বা “অপরাধ-সম্পর্কহীন” হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

গবেষক দলটি নগর কর্মকর্তাদের প্রতি সুপারিশ জানিয়েছে যে, পুলিশ কর্মকর্তাদের পাঠানোর পরিবর্তে—এই ধরনের অনেকগুলো কলের সাড়াদানের জন্য বেসামরিক নাগরিকদের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ দল গঠনের বিষয়টি যেন তারা বিবেচনা করে দেখেন।

গবেষকদের দ্বারা বিশ্লেষিত ৯১১-এর তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ডিসপ্যাচাররা প্রায় ১ লক্ষ ৫৫ হাজার এমন কল নথিবদ্ধ করেছেন—যা নগরজীবনের মান বা ‘কোয়ালিটি-অফ-লাইফ’ ​​সম্পর্কিত অভিযোগের আওতাভুক্ত।

সিটির পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, এই ধরনের কলগুলোতে প্রায়শই উচ্চশব্দ বা গোলমাল, ফুটপাতে অবৈধ কেনাবেচা, বৈদ্যুতিক বাইক-সংক্রান্ত সমস্যা এবং পরিত্যক্ত যানবাহনের বিষয়ে অভিযোগ জানানো হয়ে থাকে।