২রা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

অর্থনীতি

বাংলাদেশ থেকে আসা সংখ্যালঘুরা অনুপ্রবেশকারী নন, ‘শরণার্থী’: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

বাংলাদেশ থেকে আসা সংখ্যালঘুরা অনুপ্রবেশকারী নন, ‘শরণার্থী’: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা অনুপ্রবেশকারী নন, বরং তারা ‘নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন’ (সিএএ)-এর অধীনে ‘শরণার্থী’ হিসেবে গণ্য হবেন বলে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

একই সাথে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, ভারতের সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের দেখভালের কোনো দায়িত্ব ভারতের নয় এবং আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের নিজেদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে। গত শনিবার পশ্চিমবঙ্গে পনেরো দিনব্যাপী আদমশুমারির ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিধাননগরে বক্তব্য দেওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন।

অনুপ্রবেশকারী এবং শরণার্থীদের মধ্যে একটি স্পষ্ট পার্থক্য টেনে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেন যে, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) বিধান অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ অনুপ্রবেশকারী নন, বরং তারা শরণার্থী।

তিনি বলেন, ‘ভারত সরকারের ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নিয়মগুলো স্পষ্ট। ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে বা প্রাণ বাঁচাতে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে যারা এই দেশে এসেছেন, এমন কোনো শরণার্থীর বিরুদ্ধে কোনো মামলা দায়ের করা যাবে না এবং পুলিশও তাদের কোনোভাবে হয়রানি করতে পারবে না।’

সীমান্ত নিরাপত্তা ও অবৈধভাবে সীমানা পার হওয়াদের নিয়ে কড়া বার্তা দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা এই রাজ্যে বা এই দেশে থাকতে পারবে না। নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁদের চিহ্নিত করে যথাযথ সতর্কতার সাথে ফেরত পাঠানো হচ্ছে এবং আগামী দিনগুলোতেও এটি অব্যাহত থাকবে। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের দেখভালের দায়িত্ব নেওয়া ভারতের কাজ নয়।’

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেন, ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর)-এ বাদ পড়া ২৭ লাখ ভোটারের মধ্যে মাত্র ৭ লাখ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন।’ অনুষ্ঠানে আদমশুমারির তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে সংগৃহীত ব্যক্তিগত তথ্যের কোনো অপব্যবহার করা হবে না বলে আশ্বস্ত করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী।

শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘তথ্যগুলো সম্পূর্ণ গোপন এবং আইনিভাবে সুরক্ষিত থাকবে। এটি কেবল পরিসংখ্যান, পরিকল্পনা এবং উন্নয়নের কাজেই ব্যবহার করা হবে। কারো ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ্যে আসা বা অপব্যবহার হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা অনলাইন পদ্ধতি ব্যবহারে অক্ষম বা যারা প্রত্যন্ত অঞ্চলে বাস করেন, তাদের চিন্তার কোনো কারণ নেই। সরকারি প্রতিনিধিরা সরাসরি তাদের বাড়িতে পৌঁছে যাবেন। পুরো প্রক্রিয়াটি ভারতের আদমশুমারি কর্তৃপক্ষের নির্দেশিকা অনুযায়ী পরিচালনা করা হবে। এই শুমারির কাজ সম্পন্ন করা প্রতিটি সরকারি কর্মচারীর সাংবিধানিক দায়িত্ব।’

ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহের পর আগামী ১৬ আগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আদমশুমারির অধীনে সশরীরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তালিকাভুক্তি এবং গৃহ শুমারির কাজ পরিচালনা করা হবে। এই সময়ে বাসগৃহের অবস্থা যেমন—খাবার পানি, টয়লেট, বিদ্যুৎ, রান্নার জ্বালানি এবং ইন্টারনেট সংযোগ সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এ ছাড়া রেডিও, টেলিভিশন, কম্পিউটার এবং দুই ও চার চাকার যানবাহনের মতো সম্পদের তথ্যও সংগ্রহ করা হবে।

আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে আদমশুমারির দ্বিতীয় ধাপ অনুষ্ঠিত হবে। সেই ধাপে কর্মকর্তারা প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের নাম, বয়স, লিঙ্গ, জাতি এবং ধর্ম সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করবেন।