৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কমিউনিটি

নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় নানা আয়োজনে প্রথমবারের মত শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার শাহাদাতবার্ষিকী পালিত

নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় নানা আয়োজনে প্রথমবারের মত শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার শাহাদাতবার্ষিকী পালিত

গত ২৯ মে শুক্রবার দুপুরে নিউ ইয়র্ক সিটির জ্যামাইকার ১৬৮ ষ্ট্রীট ও হিলসাইড এভিনিউতে এই প্রথমবারের মত বাংলাদেশে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট্য ব‍্যবসায়ী ও সমাজসেবক আশা গ্রুপের প্রধান আকাশ রহমান। জ্যামাইকাবাসী’র ব্যানারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নানা কর্মসূচির মধ্যে ছিল আলোচনা সভা, মাগফিরাত কামনা,দোয়া ও স্মৃতি ভোজ। স্মৃতিভোজে কয়েক হাজার মানুষকে আপ্যায়িত করা হয়।

বিপুল সংখ‍্যক বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং জিয়াভক্ত সাধারণ মানুষ এসেছিলেন প্রিয় নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। আলোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক মো: বিলাল চৌধুরী ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন সদস্য সচিব ফারুক হোসেন রনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আকাশ রহমান বলেন,শহীদ জিয়াউর রহমান ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার এবং জেড ফোর্সের অধিনায়ক। তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন।তিনি বলেন, আমরা শুধু একজন রাজনৈতিক নেতাকে স্মরণ করতে আসিনি, আমরা এসেছি সেই মানুষটিকে শ্রদ্ধা জানাতে, যিনি সংকটময় মুহূর্তে জাতিকে সাহস জুগিয়েছেন, আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দিয়েছেন এবং বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন।

মূলধারার রাজনীতিক ও জ্যামাইকা ফ্রেন্ডস সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ও বতর্মান সভাপতি ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ, দেশপ্রেম, সততার কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে বলেন,তাঁর কর্মনিষ্ঠা আজও আমাদের পথ দেখায়। তিনি মানুষের কল্যাণে রাজনীতির যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। শহীদ জিয়াউর রহমান কেবল ইতিহাসের একটি নাম নন; তিনি কোটি মানুষের হৃদয়ের স্পন্দন।

যুক্তরাষ্ট্র যুবদল নেতা মোহাম্মদ কাশেম বলেন, ‘বীর উত্তম’ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার পরিবার সব জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক মো: বিলাল চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এক অনন্য উচ্চতার নাম। রণাঙ্গনের সাহসী সৈনিক থেকে রাষ্ট্রনায়ক হয়ে ওঠা এই নেতার জীবন ছিল দেশপ্রেম, সততা, কর্মনিষ্ঠা ও আত্মত্যাগের এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল লতিফ সম্রাট ও সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি গিয়াস আহমদ, সাপ্তাহিক বাংলাদেশ‘র সম্পাদক ডা.ওয়াজেদ এ.খান, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতা মোহাম্মদ কাশেম ও ফারুক হোসেন মজুমদার, শহীদ জিয়ার শাহাদাত বার্ষিকী উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান আলআমিন সুমন, কো-চেয়ারম্যান আকিব হোসেন ও মনিরুল ইসলাম মনির, যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফুজ্জামান আশরাফ,মো: সাইফুল ইসলাম, মো.আই খান সুলতান,এসএম ফরমান হোসেন,আমিরুল ইসলাম আমির, রিপন মিয়া ও আলম সরকার,প্রধান সমন্বয়কারী মো. খলকুর রহমান, সমন্বয়কারী ইঞ্জিনিয়ার মাইনুদ্দীন মিয়াজী,খাদেমুল ইসলাম রুবেল, মিজানুর রহমান রুবেল ও মোস্তাক আহমেদ প্রমুখ।

জ্যামাইকায় এই আয়োজনের নেপথ্যে থেকে কাজ করেছেন উত্তরবঙ্গ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ কাশেম, যিনি জ‍্যাকসন হাইটসে জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী সার্বজনীন ভাবে পালনের প্রধান উদ্যোক্তাদের মধ্যে অন্যতম। মোহাম্মদ কাশেম বাংলাদেশী অধ‍্যুষিত এই জ‍্যামাইকাতেও সার্বজনীন ভাবে শাহাদাত বার্ষিকী পালনের সুচনা করলেন বলে বেশ কয়েকজন জানা যায়।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে এক দল সৈন্যের গুলিতে নিহত হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।