যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু থেকে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ১ লাখ ৩ হাজারের বেশি সিভিল জরিমানা জারি করা হয়েছে। এসব জরিমানার মোট পরিমাণ প্রায় ৮৪ বিলিয়ন ডলার। প্রেসিডেন্টের কঠোর অভিবাসন নীতির আওতায় ইতোমধ্যেই ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ আদায় করা হয়েছে।
বুধবার নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চূড়ান্তভাবে দেশে ফেরতের নির্দেশ পাওয়া যেসব অবৈধ অভিবাসী স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে ব্যর্থ হবেন, নির্দেশ পালনের আগ পর্যন্ত তাদের প্রতিদিন ৯৯৮ ডলার করে জরিমানা গুনতে হবে। ডিএইচএস সতর্ক করে জানিয়েছে, দেশে ফেরত পাঠানোর আগেই অভিবাসীদের এই জরিমানা পরিশোধ করতে হবে, অন্যথায় তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে।
প্রশাসনের এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেপ্তার ও জোরপূর্বক বহিষ্কারের বদলে স্বেচ্ছায় দেশত্যাগে উৎসাহিত করা। হোমল্যান্ড সিকিউরিটির মতে, প্রথাগত আইনি প্রক্রিয়ায় দেশে ফেরত পাঠানোর চেয়ে এই পদ্ধতিটি কম ব্যয়বহুল। মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন (সিবিপি) তাদের ‘সিবিপি হোম’ অ্যাপের মাধ্যমে এই নীতির ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছে। সিবিপির একটি প্রচারপত্রে অভিবাসীদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, ‘স্বেচ্ছায় দেশে ফেরা নিরাপদ’ এবং তারা চাইলে নিজেদের পছন্দমতো ফ্লাইটের টিকিট কেটে দেশে ফিরে যেতে পারেন।
ডিএইচএস জানিয়েছে, যেসব অবৈধ অভিবাসীর কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই, তারা স্বেচ্ছায় ফিরে গেলে যুক্তরাষ্ট্রে উপার্জিত অর্থ সাথে নেওয়ার সুযোগ পাবেন এবং ভবিষ্যতে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের যোগ্যতাও তাদের অক্ষুণ্ণ থাকবে। এমনকি যারা বিমানের টিকিট কিনতে অক্ষম, তারা সরকারি ভর্তুকিতে ভ্রমণের সুবিধাও পেতে পারেন। তবে যারা স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানাবেন, তাদের কোনো রকম পূর্বপ্রস্তুতির সুযোগ না দিয়েই গ্রেপ্তার করা হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
ডিএইচএসের তথ্যমতে, ট্রাম্পের ক্ষমতায় ফেরার প্রথম বছরে ৩০ লাখেরও বেশি অবৈধ অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেছেন, যার মধ্যে প্রায় ২২ লাখ অভিবাসী স্বেচ্ছায় ফিরে গেছেন। এছাড়া, গত ১৭ মে পর্যন্ত প্রায় ৯ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং আরও ৯ লাখের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন তাদের এই নীতিকে চূড়ান্ত বহিষ্কারাদেশ কার্যকর এবং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের খরচ কমানোর একটি বৈধ হাতিয়ার হিসেবে দাবি করেছে। তারা মনে করে, জো বাইডেন প্রশাসনের সময়কালের রেকর্ড সংখ্যক সীমান্ত অতিক্রমের পর বর্তমান পদক্ষেপগুলো অবৈধ অভিবাসন হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
তবে, এই বিপুল অঙ্কের সিভিল জরিমানা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাট সিনেট সদস্যরা। সিনেটের বিচার বিভাগীয় কমিটির ইমিগ্রেশন সাবকমিটির র্যাংকিং মেম্বার ক্যালিফোর্নিয়ার সিনেটর অ্যালেক্স প্যাডিলা এবং ইলিনয়ের ডেমোক্র্যাটিক হুইপ ডিক ডারবিন চলতি সপ্তাহে ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এবং ডিএইচএস সেক্রেটারি মার্কওয়েইন মুলিনের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন।
চিঠিতে তারা অবিলম্বে এই অন্যায্য জরিমানার অপপ্রয়োগ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। সিনেটরদের অভিযোগ, ড্যাকা (DACA) কর্মসূচির আওতাভুক্ত, গ্রিন কার্ড প্রত্যাশী এবং মানবপাচার বা পারিবারিক সহিংসতার শিকার হওয়া বৈধভাবে অবস্থানকারী অনেক অভিবাসীকেও অযৌক্তিকভাবে এই জরিমানার আওতায় আনা হচ্ছে, যা আইন মান্যকারী অভিবাসীদের সুরক্ষার নীতিকে সরাসরি লঙ্ঘন করছে।















