দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব থেকে গত জানুয়ারিতে হাসিনার অ়ডিয়োবার্তা শোনানো হয়। তা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল বাংলাদেশের তৎকালীন ইউনূস সরকার। এ বার ফের দিল্লির ওই ক্লাব থেকেই ভার্চুয়াল বার্তা দেবেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী।
ফের দিল্লিতে বক্তৃতা করবেন শেখ হাসিনা। এ বারও সেই ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে। আগামী বুধবার সেখানে ভার্চুয়াল বক্তৃতা করবেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে গত জানুয়ারিতে দিল্লির এই ক্লাবে শোনানো হয়েছিল হাসিনার অডিয়োবার্তা। তা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল বাংলাদেশ। কেন হাসিনাকে ভাষণের ‘সুযোগ’ দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল বাংলাদেশের তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার।
ছ’মাস পেরিয়ে ফের দিল্লির ওই একই ক্লাবে শোনা যাবে হাসিনার বার্তা। তবে এ বারের প্রেক্ষিত ভিন্ন। বাংলাদেশে ইউনূস-শাসন শেষ হয়েছে। ক্ষমতায় এসেছে নির্বাচিত বিএনপি সরকার। যদিও হাসিনার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম এখনও নিষিদ্ধ সে দেশে। ইউনূস জমানায় বাংলাদেশের ট্রাইবুনাল হাসিনাকে যে মৃত্যুদণ্ডে দিয়েছে, তা-ও বহাল রয়েছে। তবে হাসিনা এখন নিজেই চাইছেন বাংলাদেশে ফিরতে। ভারতের বিদেশ বিষয়ক সংসদীয় কমিটিও জানিয়েছে, তাঁকে প্রত্যর্পণের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ অবস্থায় বুধবার হাসিনা কী বার্তা দেন, তা নিয়ে কৌতূহল দানা বেঁধেছে দু’দেশেই। আওয়ামী লীগ নেত্রী জানিয়েছেন, তিনি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই বাংলাদেশে ফিরতে চান। সে দেশে যে তাঁর মৃত্যুদণ্ডাদেশ রয়েছে, তা-ও জানা রয়েছে হাসিনার। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে হাসিনা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে ফিরে আদালতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করতে চান তিনি। দেশের বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা রাখছেন। তবে বাংলাদেশে ঢুকলেই তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে। জেলে পাঠানো হতে পারে। এমনকি, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরও করা হতে পারে। সেই সমস্ত সম্ভাবনা মেনে নিয়েই নিজ দেশে ফিরতে চাইছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী।
দিল্লির ‘দ্য ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অফ সাউথ এশিয়া’ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, দেশে ফেরার আগে আগামী বুধবার সাংবাদিকদের উদ্দেশে ভার্চুয়াল বার্তা দেবেন তিনি। সেখানে হাসিনা-পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়, বাংলাদেশের প্রাক্তন অধিনায়ক তথা আওয়ামী লীগের প্রাক্তন সাংসদ শাকিব আল হাসান, প্রাক্তন মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী-সহ অন্যেরা উপস্থিত থাকবেন। তবে সেটি প্রথাগত সাংবাদিক বৈঠক হবে, না কি হাসিনার ভার্চুয়াল কোনও বার্তা শোনানো হবে— তা প্রাথমিক ভাবে স্পষ্ট নয়।
এর আগে গত জানুয়ারিতে দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবের এক কর্মসূচিতে হাসিনার অডিয়োবার্তা শোনানো হয়েছিল। ঘণ্টাখানেকের ওই ভাষণে বিঁধেছিলেন তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে। ২০২৪ সালের অগস্টে হাসিনা ভারতে সাময়িক আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে এটিই ছিল এ দেশে আয়োজিত কোনও কর্মসূচিতে তাঁর প্রথম অডিয়োবার্তা। তা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল ঢাকা। বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে বক্তৃতা করার ‘সু
যোগ’ দেওয়ার জন্য ভারতের দিকে আঙুল তুলেছিল তৎকালীন ইউনূস সরকার। বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক বলেছিল, তারা ‘হতাশ’ হয়েছে। ওই ঘটনার ছ’মাস পেরিয়ে ফের দিল্লির ক্লাবে আয়োজিত কর্মসূচিতে ভার্চুয়াল বার্তা দেবেন হাসিনা।

পাসপোর্ট তো বাতিল! হাসিনা কী করে ফিরবেন? ফিরলে কী করবে সরকার? জবাব দিলেন বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী
২০২৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ফাঁসির সাজা দিয়েছে। মৃত্যুদণ্ডের খাঁড়া মাথায় নিয়েই দেশে ফেরার পরিকল্পনা হাসিনার।
বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন। কিন্তু মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারই তাঁর পাসপোর্ট বাতিল করে দিয়েছিল। তা হলে কী ভাবে হাসিনা বাংলাদেশে ফিরবেন? ফিরলে কী পদক্ষেপ করবে বর্তমান বিএনপি সরকার? অবশেষে সে বিষয়ে মুখ খুললেন বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী মহম্মদ আসাদুজ্জামান। জানিয়ে দিলেন, বাংলাদেশে পা রাখামাত্র হাসিনাকে গ্রেফতার করা হবে।
২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ফাঁসির সাজা দিয়েছে। অর্থাৎ, মৃত্যুদণ্ডের খাঁড়া মাথায় নিয়েই দেশে ফেরার পরিকল্পনা করেছেন আওয়ামী লীগ নেত্রী। এর আগে সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে তিনি দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন। সম্প্রতি এএফপি-কে একটি সাক্ষাৎকারে হাসিনা বলেছেন, তিনি দেশে ফিরলে কী কী হতে পারে, তা জানেন। তবু নিজের দেশেই ফিরতে চান। ডিসেম্বরের মধ্যেই তা করবেন। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের আইনমন্ত্রীকে বৃহস্পতিবার প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনি জানান, আত্মসমর্পণের কোনও সুযোগই পাবেন না হাসিনা।
আসাদুজ্জামান বলেন, ‘‘আইন আইনের পথে চলবে। আমরা আইনের বিরুদ্ধে গিয়ে কিছু করব না। ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশি নাগরিক হিসাবে তিনি (হাসিনা) যদি আইনকে সম্মান জানিয়ে আত্মসমর্পণ করতে চান, হয়তো সেটা করার আগেই তাঁকে গ্রেফতার করা হবে। আইন আমাদের যে ক্ষমতা দিয়েছে, আমরা তা প্রয়োগ করব।’’
২০২৪ সালের অগস্টে গণবিক্ষোভের চাপে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন হাসিনা। দেশ ছেড়ে তখনই চলে এসেছিলেন ভারতে। তার পর বাংলাদেশে ক্ষমতায় আসে অন্তর্বর্তী সরকার। ইউনূসের সময়েই হাসিনার পাসপোর্টটি বাতিল করে দেওয়া হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে বিনা পাসপোর্টে কী ভাবে তিনি দেশে ফিরবেন? আসাদুজ্জামান বলেন, ‘‘সেটা তাঁর সমস্যা। আমার নয়। তবে তিনি যে মুহূর্তে দেশে পা রাখবেন, আইন আমাকে যে ক্ষমতা দিয়েছে, আমি তা প্রয়োগ করব।’’
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাসিনা। মৃত্যুদণ্ডের রায়কেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার তকমা দিয়েছেন। হাসিনার দাবি, তাঁর অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের উপর অকথ্য অত্যাচার এবং দমনপীড়ন চালানো হচ্ছে। তাঁর লোকজন তাঁকে ডাকছেন। সেই কারণেই তিনি ঝুঁকি নিয়ে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দেশের বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা আছে, জানিয়েছেন হাসিনা। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর হাসিনার সঙ্গে আরও অনেক নেতা-মন্ত্রী দেশ ছেড়েছিলেন। তাঁদের সঙ্গে নিয়ে ফিরতে চান প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ সরকারও তাঁর অপেক্ষায়। সংবাদসুত্র কলকাতার দৈনিক আনন্দবাজার















