নিউইর্য়কের ব্রুকলীনের বায়তুল মা’মুর মসজিদ এন্ড কমিউনিটি সেন্টারের আওতাধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান “বিএমএমসিসি ইসলামিক স্কুল এর সামার প্রোগ্রাম”এর সমাপনী অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী গত ২৪শে আগস্ট সোমবার বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বিকেল চারটায় সেন্টারের হল রুমে অনুষ্ঠিত উক্ত গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএমএমসিসি ইসলামিক স্কুলের প্রিন্সিপাল মাওলানা রশীদ আহমদ। ইসলামিক স্কুলের উস্তায হাফেজ তাওহিদুর তালহা চৌধুরীর কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।স্কুলের উস্তায হাফেজ ফজলে রাব্বীর উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা পেশ করেন বায়তুল মামুর মসজিদএন্ড কমিউনিটি সেন্টার (বিএমএমসিসি) এর সেক্রেটারি জেনারেল, হাফেজ আবদুল্লাহ আল আরিফ ও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মুনা ব্রুকলিন ইস্ট চ্যাপ্টারের সভাপতি মু’তাসিম বিল্লাহ সিরাজী। একই সময়ে ক্রমান্বয়ে পৃথকভাবে গার্লস বিভাগের গ্র্যাজুয়েশন প্রোগ্রামটিও অনুষ্ঠিত হয়।গার্লস সেকশনের প্রোগ্রামটি পরিচালনা করেন সিস্টার কাওসার হিরা ও মাসুমা ইয়াসমীন।

শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হাফেজ রাহাত ইকবাল, মাওলানা আমিনুর রহমান, হাফেজ হুযায়ফা জারীর, আবদুল্লাহ মারযুক, সিস্টার ইসরা আহমদ মুরসী ও হাবীবা আহমদ। এছাড়াও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বেশ সংখ্যক অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সফলতার সাথে সামার প্রোগ্রাম শেষ করায় ক্লাস ভিত্তিক ১ম থেকে ১০ম গ্রেড পর্যন্ত এবং হিফজ শাখার দু’টি গ্রুপ,উইকেন্ড শাখার ৫টি ক্লাসের মধ্যে প্রথম,দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী ৩০জন ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে সনদও পুরস্কার বিতরণ করা হয়।পাশাপাশি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সকল ছাত্র-ছাত্রীদেরকে রিপোর্ট কার্ড প্রদান করা হয়।আলোচনা শেষে প্রধান অতিথি সহ অন্যান্য অতিথিরা শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার ও সনদপত্র তুলে দেন। এবারে ১৯৫ জন ছাত্র-ছাত্রী উক্ত সামার সেশনে অংশ গ্রহণ করেন এবং সুচারুরূপে পাঠদান করেছেন অভিজ্ঞ ১৬ জন শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ।

প্রধান অতিথি হাফেজ আবদুল্লাহ আল আরিফ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমরা যদি কুরআনকে লালন ও ধারণ করতে পারো এবং এই অনুযায়ী খুলুসিয়াতের আমল করতে পারো,তাহলে তোমাদের জীবনে সফলতা আসবেই। পাশাপাশি আখেরাতেও কামিয়াবী হাসিল করা সম্ভব। তিনি অভিবাকদের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রবাসে কুরআনকে বুঝা বা শেখার জন্য আমাদের সন্তানদের জন্য ইসলামিক স্কুলের বিকল্প নেই। একই সঙ্গে পারিবারিকভাবেও কুরআন ও হাদিসের বিষয়গুলো গুরুত্ব দিতে হবে। সামার স্কুল থেকে শিক্ষা নেয়ার পর ইসলামের মৌলিক বিষয়ের চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে। শিক্ষার্থীদের খাওয়া-দাওয়ার ব্যপারে হালাল হারাম শিখানো হয়েছে, তা তাদের বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে হবে। মা-বাবাদেরও হারাম হালালের জ্ঞান থাকতে হবে, সে অনুযায়ী বাচ্চাদের খাবার পরিবেশন হবে।তিনি আরো বলেন,নতুন প্রজন্মকে আরো বেশী বেশী কুরআন-সুন্নাহর মৌলিক জ্ঞান অর্জনে মনোনিবেশ করতে হবে।কেননা ঐ কুরআনিক জ্ঞানই পারে মানুষকে সঠিক ও সত্য পথের পথ দেখাতে।

সভাপতির বক্তব্যে স্কুলের প্রিন্সিপাল মাওলানা
রশীদ আহমদ অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের সকলের আরো সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে বিএমএমসিসি একদিন নিউইয়র্কের নামকরা বিদ্যাপীঠে পরিণত হবে ইনশা আল্লাহ।তিনি বিএমএমসিসি ইসলামিক স্কুল এই সামারের অল্প সময়ে শিক্ষার্থীদের সবকিছু শিক্ষা দেয়া সম্ভব নয়। তাই আগামী দিনে শিক্ষার্থীদের স্কুলে পাঠানোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার উপর গুরুত্তারোপ করেন।

প্রিন্সিপাল রশীদ তাঁর বক্তব্যে আরো বলেন, প্রতি বছরই ভুর্তুকী দিয়ে ইসলামিক স্কুল পরিচালনা করতে হয়। আমাদের একটাই উদ্দেশ্য, যেন আগামী প্রজন্ম আমেরিকায় বসেও ইসলামের আলোকে জীবন গঠন করতে পারে। তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশ্য বলেন, নির্দিষ্ট সময়ে স্কুলে নিয়ে আসা এবং ক্লাস শেষে সঠিক সময়ে বাসায় নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন এবং বাচ্চাদের হোমওয়ার্কে ঠিকমতো দেখভাল করা, তাতে স্কুলের সুনাম ও শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়ন বৃদ্ধি পায়। তিনি বলেন, আগামী ৫ই সেপ্টেম্বর শনিবার থেকে স্কুলের অপর প্রোগ্রাম উইকেন্ড স্কুল শুরু হচ্ছে। ইসলামের মৌলিক শিক্ষা গ্রহণের জন্য পাবলিক স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের উইকেন্ড ক্লাসে ভর্তি করার আহবান জানান তিনি।মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুসারে














