একই নির্যাতনের গল্পে ডজন ডজন পলিটিক্যাল অ্যাসাইলাম আবেদন এর অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান ইমিগ্রেশন আইনজীবীকে ৪.৭ লাখ ডলার জরিমানা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তর (DHS) এবং ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ের বা পলিটিক্যাল এসাইলাম এর আবেদনে জালিয়াতির অভিযোগে সুরজ রাজ সিং নামের উক্ত ইমিগ্রেশন আইনজীবীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তর (DHS) এবং ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) কর্তৃপক্ষ।
উক্ত ইমিগ্রেশন আইনজীবীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বহু আবেদনকারীর—বিশেষ করে ভারতীয় ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের—আবেদনে নির্যাতনের একই ‘কপি-পেস্ট’ গল্প ব্যবহার করেছেন। এই প্রতারণার দায়ে তাকে ৪ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৪ ডলারের বিশাল অঙ্কের সিভিল পেনাল্টি বা জরিমানা করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আইসিই (ICE)-এর জারি করা ‘নোটিশ অফ ইনটেন্ট টু ফাইন’ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসন মামলা পরিচালনাকারী এই আইনজীবী ৫৪টি মামলায় মোট ১১৮টি ভুয়া কাগজপত্র তৈরি ও জমা দিয়েছেন।
ফেডারেল কর্তৃপক্ষের দাবি, সুরজ রাজ সিং বিভিন্ন আবেদনকারীর পক্ষে জমা দেওয়া অ্যাসাইলাম আবেদনগুলোতে প্রায় হুবহু একই ভাষা, বিবরণ এবং নির্যাতনের গল্প ব্যবহার করেছেন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তরের মতে, আবেদনকারীদের নিজস্ব বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরার পরিবর্তে এসব নথির বেশিরভাগই কেবল কপি করে বারবার ব্যবহার করা হয়েছে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তরের অভিযোগ, উক্ত আইনজীবীর এই কর্মকাণ্ড ফেডারেল ইমিগ্রেশন নথিপত্র জালিয়াতি আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ কারণেই অভিবাসন সংক্রান্ত জালিয়াতির জন্য নির্ধারিত আইনের অধীনে সর্বোচ্চ জরিমানার দাবি করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ইমিগ্রেশন আইনজীবীদের ভুয়া অ্যাসাইলাম আবেদনের বিরুদ্ধে যে বিস্তৃত ক্র্যাকডাউন শুরু হয়েছে, এটি তার অন্যতম বড় একটি পদক্ষেপ। এর আগে গত মে মাসে, সন্দেহভাজন আইনজীবীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইসিই-কে নির্দেশ দিয়েছিল ডিএইচএস।
সুরজ রাজ সিংয়ের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপের ঠিক এক মাস আগেই বিনোদ দোদামানি নামের আরেক ইমিগ্রেশন আইনজীবীর বিরুদ্ধেও একই ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে ৩২টি অ্যাসাইলাম মামলায় ৬৪টি ভুয়া নথি জমা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে, যে ঘটনায় আড়াই লাখ ডলারের বেশি জরিমানা দাবি করেছে ডিএইচএস। তবে সুরজ রাজের বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগটি কোনো ফৌজদারি অপরাধের মামলা নয়, বরং এটি একটি প্রশাসনিক আইনি প্রক্রিয়া। এই নোটিশের মাধ্যমে এখনই তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হচ্ছে না, বরং তিনি একজন প্রশাসনিক বিচারকের কাছে এই অভিযোগের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের সুযোগ পাবেন।
তাছাড়া চূড়ান্ত যেকোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার আবেদন করার অধিকারও তার রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সিং তাৎক্ষণিকভাবে এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে বড় পরিসরে পরিচালিত অভিবাসন মামলাগুলোতে এই ধরনের কঠোর নজরদারি গোটা আইনজীবী মহলে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, যা আগামীতে যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাসাইলাম আবেদনের অনুমোদন প্রক্রিয়াকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।















