গত ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রণীত জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারনের জোর দাবী জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস ফর বাংলাদেশ’(এইচআরডিবি)। গত ২ আগস্ট রবিবার নিউইয়র্ক সিটির জ্যামাইকা কাফিস অডিটরিয়ামে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় এ দাবী জানানো হয়।

জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর, প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি লাইন বাস্তবায়ন করা হবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এমন বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে বক্তারা বলেন, আমরা এমন সুন্দর শুনতে চাইনা। সরকার গঠনের এতদিন পরেও জুলাই সনদ নিয়ে তালবাহানা হচ্ছে। কবে সনদ বাস্তবায়ন হবে এর সময়সীমা নির্ধারন করুন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রæত বিচার সম্পন্ন করাই হচ্ছে সময়ের দাবী।

তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘ শোষণ, বঞ্চনা, দু:শাসন, দুর্নীতি, লুটপাট, ক্রসফায়ার, গুম-খুন, অপহরণ, নির্যাতন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে জনতার ক্ষোভের বিস্ফোরণ। বৈষম্যের বিরুদ্ধে লাখো ছাত্র-জনতা বন্দুকের নলের সামনে এসে বুক চিতিয়ে দাঁড়ালো। হাসিনার নির্দেশে নির্বিচারে গুলি চালানো হলো ছাত্র-জনতার ওপর। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সারি সারি লাশ পড়ে থাকলো ঢাকার রাজপথে। ঢাকার পিচঢালা কালো রাস্তা শিশুদের রক্তে লালে লাল হয়ে গেল। অকাতরে জীবন দিলো দেশের মানুষ। হাজারো ছাত্র-জনতার জীবন উৎসর্গের মধ্য দিয়ে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ থেকে মুক্তি পায় আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ।

পিলখানায় হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়। শাপলা চত্বরে ব্রাশফায়ারে অসংখ্য আলেমকে হত্যা করা হয়। গুম-খুন ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। ভিন্নমতের লোকদের ধরে নিয়ে টুকরো টুকরো করে কেটে নদীতে ফেলে দেয়া হতো। চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, কৃষিবিদ, শিক্ষক, ব্যাংকার থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক কর্মী- কেউ রেহাই পায়নি শেখ হাসিনার নিষ্ঠুরতা থেকে।
তারা বলেন, চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসা ফ্যাসিস্ট শাহীকে তাড়াতে সক্ষম হয়েছি। এটা আংশিক সাফল্য। শত শহীদের আত্মত্যাগ তখনই সার্থক হবে যদি দেখা যায় ফ্যাসিবাদী শাসন ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই, দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আছে, আইনের শাসন কার্যকর আছে, বাকস্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আছে।

এইচআরডিবি’র পরিচালক জিয়াউল ইসলাম শামীমের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর যুক্তরাষ্ট্র মুখ্যপাত্র ড: নকিবুর রহমান নিজামী, বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য ও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল লতিফ স¤্রাট, সাপ্তাহিক বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক বিশিস্ট কলামিস্ট ডা: ওয়াজেদ এ খান, এনসিপি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সদস্য রওশন হক, জুলাই ফাউন্ডেশন ইউকে এর পরিচালক প্রফেসর ড. খন্দকার কবির উদ্দিন। জুলাই এর প্রামাণ্য চিত্র তুলে ধরেন আবরার মহসিন সামিন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন নূরুল আনোয়ার। অনুষ্ঠান শুরুতে কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ইমাম জুনায়েদ হোসাইন।
উল্লেখ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্ণ হচ্ছে। শিক্ষার্থীসহ দেশের আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা যে সংগ্রাম ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই দেশবাসীকে আবেগে উদ্বেল করে তুলেছিল, তারই বিজয়ের দিন ‘৩৬ জুলাই’ বা ৫ আগস্ট। দ্বিতীয়বারের মতো সেসব স্মৃতি সবার সামনে এখন। এতে শহীদদের মাগফিরাত, আহতদের সুস্থতা কামনা করে দোয়া ছাড়াও ছিল জুলাই’র প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনী। প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুসারে















