১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি সরকারি কর্মীদের ঘরে জন্ম নেওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে গ্রিন কার্ড পেতে মানতে হবে শর্ত, জানাল ডিএইচএস

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি সরকারি কর্মীদের ঘরে জন্ম নেওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে গ্রিন কার্ড পেতে মানতে হবে শর্ত, জানাল ডিএইচএস

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি সরকারি কর্মীদের ঘরে জন্ম নেওয়া শিশুদের স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ সংক্রান্ত নিয়মে পরিবর্তন এনেছে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএ ইচএস। নতুন নিয়মে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এমন কিছু শিশু, যারা জন্মসূত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পায় না এবং যাদের বাবা-মায়ের কেউ একজন বিদেশি সরকারের কর্মী, তারা “লফুল পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট” হিসেবে নিবন্ধনের সুযোগ পাবে। নিয়মটি ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে।

তবে এই পরিবর্তন সব গ্রীন কার্ড আবেদনকারীর জন্য নয়। মূলত: এমন শিশুদের জন্য এই ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাদের বাবা-মায়ের কেউই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন এবং অন্তত একজন বিদেশি সরকারের কর্মী।

ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএস জানিয়েছে, নতুন নিয়মের মাধ্যমে আগে যে শ্রেণির কিছু শিশু লফুল পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট হিসেবে নিবন্ধনের সুযোগ পেত না, তাদের জন্য সেই সুযোগ সম্প্রসারিত করা হয়েছে।

নতুন নিয়মে বিদেশি কূটনৈতিক কর্মকর্তা ছাড়াও বিদেশি সরকারের বিভিন্ন কর্মী এবং নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মীরা সংশ্লিষ্ট শ্রেণির মধ্যে পড়তে পারেন। ডিএইচএসের সংজ্ঞা অনুযায়ী, বিদেশি সরকারি কর্মীর ধারণাটি আগের ‘বিদেশি কূটনৈতিক কর্মকর্তা’ শ্রেণির চেয়ে বিস্তৃত। এর ফলে নির্দিষ্ট সরকারি দায়িত্বে থাকা আরও কিছু কর্মীর সন্তান এই সুবিধার আওতায় আসতে পারে।

এর অর্থ হলো, সংশ্লিষ্ট শিশু জন্মের সময় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব না পেলেও যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে স্থায়ীভাবে বসবাসের পথ পেতে পারে। যোগ্য হলে শিশুটির পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি নিবন্ধনের জন্য ফরম আই-৪৮৫ ব্যবহার করা যাবে। তবে এই নিবন্ধন স্বয়ংক্রিয় নয়; যোগ্য ব্যক্তিকে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন করতে হবে। ডিএইচএস একই সাথে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন ও এলিয়েন রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন এনেছে।

সেপ্টেম্বর ৯ তারিখে ডিএইচএস আরও একটি সংশোধনী প্রকাশ করে। এতে আগের নিয়ম প্রকাশের সময় অসাবধানতাবশত বাদ পড়ে যাওয়া কিছু প্রমাণের শর্ত আবার যুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে বাবা বা মায়ের বিদেশি সরকারি চাকরির প্রমাণের বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। অর্থাৎ বাবা বা মা কূটনৈতিক কর্মকর্তা না হলেও বিদেশি সরকারের কর্মী হিসেবে তাদের চাকরির প্রমাণ দিতে হতে পারে।

সংশোধিত নিয়মে ফরম আই-৫০৮ নিয়েও পরিষ্কার করা হয়েছে। বিদেশি সরকারের কর্মী হিসেবে যোগ্য কিছু শিশুর ক্ষেত্রে তাদের বাবা-মা কূটনৈতিক কর্মকর্তা না হলে এই ফরম জমা দেওয়ার প্রয়োজন নাও হতে পারে। ফরম আই-৫০৮ মূলত নির্দিষ্ট অধিকার, বিশেষ সুবিধা, অব্যাহতি ও ইমিউনিটি ত্যাগের সাথে সম্পর্কিত। ডিএইচএস জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর শ্রেণি অনুযায়ী এর প্রয়োজনীয়তা নির্ধারিত হবে।

নতুন নিয়মটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ তাদের জন্য, যাদের বাবা-মা বিদেশি সরকারের হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দায়িত্ব পালন করছেন। আগে প্রচলিত নিয়মে ‘বিদেশি কূটনৈতিক কর্মকর্তা’ শ্রেণির বাইরে থাকা কিছু সরকারি কর্মীর সন্তান জন্মসূত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক না হলে “পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট” হিসেবে নিবন্ধনের সুযোগ পেত না। নতুন ব্যবস্থায় সেই পরিধি বাড়ানো হয়েছে।

ডিএইচএসের প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বা তার পর যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সংশ্লিষ্ট শিশুদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন প্রযোজ্য। এর আগে জন্ম নেওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে তাদের জন্মের সময় কার্যকর থাকা নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। সেপ্টেম্বর ৯-এর সংশোধনীও ৪ সেপ্টেম্বর থেকেই কার্যকর বলে ধরা হয়েছে।

এই পরিবর্তন জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব এবং যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি সরকারি কর্মীদের সন্তানদের অভিবাসন অবস্থান নিয়ে চলমান নীতিগত পরিবর্তনের একটি অংশ। তবে নতুন নিয়মটি নিজে থেকে সব বিদেশি সরকারি কর্মীর সন্তানকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব থেকে বাদ দেয় না। বরং যেসব শিশু জন্মের সময় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নয়, তাদের একটি নির্দিষ্ট শ্রেণিকে “লফুল পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি”র জন্য নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়াই এর মূল উদ্দেশ্য।