৩০শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র

এবার ট্রাম্পের নামে রাখা সড়কের নাম বদলে ‘টাকো অ্যাভিনিউ’ রাখতে চায় কানাডা

এবার ট্রাম্পের নামে রাখা সড়কের নাম বদলে ‘টাকো অ্যাভিনিউ’ রাখতে চায় কানাডা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে রাখা একটি সড়কের নাম পরিবর্তনের কথা ভাবছে কানাডার রাজধানী অটোয়ার সিটি কাউন্সিল। নতুন প্রস্তাবিট নামগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘ওবামা অ্যাভিনিউ’, ‘কানাডা অ্যাভিনিউ’ এমনকি ‘টাকো অ্যাভিনিউ’ও। বুধবার সর্বসম্মত ভোটে অটোয়া সিটি কাউন্সিল প্রায় ২৫ বছর ধরে ‘ট্রাম্প অ্যাভিনিউ’ নামে পরিচিত সড়কটির নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু করার প্রথম পদক্ষেপ নেয়।

অটোয়ার সেন্ট্রাল পার্ক এলাকার আবাসিক সড়কটি নিউইয়র্কের বিভিন্ন স্থানের নামে রাখা এলাকার অন্যান্য সড়কের সঙ্গে মিল রেখে নামকরণ করা হয়েছিল। এলাকাটিতে স্ট্যাটেন ওয়ে, ম্যাডিসন পার্ক ও গথাম প্রাইভেট নামের স্থানও রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য উত্তেজনা এবং ট্রাম্পের কানাডাবিরোধী বিভিন্ন মন্তব্যের পর স্থানীয় কয়েকজন কাউন্সিলর ট্রাম্পের নামে সড়কটির নাম রাখাকে বিব্রতকর বলে মনে করছেন।

সিটি কাউন্সিলের এই ভোটের এক দিন পরই ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নথিতে লেক অন্টারিওকে ‘লেক আমেরিকা’ নামে উল্লেখ করার নির্দেশ দেন। এর আগে তিনি মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘গালফ অব আমেরিকা’ করেছিলেন।

অটোয়া সিটি কাউন্সিলর টিম টিয়ার্নি বলেন, নতুন নাম হিসেবে ‘ওবামা অ্যাভিনিউ’, ‘অন্টারিও অ্যাভিনিউ’, ‘কানাডা অ্যাভিনিউ’, ‘বিভার অ্যাভিনিউ’, ‘গালফ অব মেক্সিকো অ্যাভিনিউ’, ‘কানাডা গুজ অ্যাভিনিউ’, ‘পেলোসি অ্যাভিনিউ’ এবং ‘টাকো অ্যাভিনিউ’সহ বিভিন্ন প্রস্তাব এসেছে।

‘টাকো’ নামটি এসেছে ‘Trump Always Chickens Out’ বাক্যের সংক্ষিপ্ত রূপ থেকে। এর অর্থ দাঁড়ায়, ‘ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত সব সময় পিছু হটেন।’ এ ছাড়া মার্কিন কৌতুক অভিনেত্রী ও ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের সমালোচক রোজি ও’ডোনেলের নামেও সড়কটির নামকরণের প্রস্তাব এসেছে।

তবে সড়কের নাম পরিবর্তন শিগগিরই হচ্ছে না। টিয়ার্নি বলেন, নাম পরিবর্তনের জন্য সড়কটির অর্ধেকের বেশি বাসিন্দার সমর্থন লাগবে। এরপর নতুন নাম নির্ধারণেও জনমত নেওয়া হবে। অক্টোবরের শেষ দিকে অনুষ্ঠেয় পৌর নির্বাচনের আগে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এর আগেও ২০২১ সালে সড়কটির নাম পরিবর্তন নিয়ে ভোট হয়েছিল। তখন ৬২টি পরিবারের মধ্যে ২১টি নাম পরিবর্তনের পক্ষে এবং ২১টি বিপক্ষে ভোট দেয়। বাকি ২০টি পরিবার ভোট দেয়নি।

তবে নাম পরিবর্তনের বিরোধিতা করা সবাই ট্রাম্পের সমর্থক ছিলেন না। অনেকেই শুধু ঠিকানা পরিবর্তনের ঝামেলা এড়াতে চাননি। টিয়ার্নি বলেন, ট্রাম্পের লেক অন্টারিওর নাম ‘লেক আমেরিকা’ করার সিদ্ধান্তের পর বিষয়টি আবার আলোচনায় এসেছে। তবে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও শুল্কসংক্রান্ত বড় বিরোধের তুলনায় সড়কের নাম নিয়ে বিতর্ককে তিনি গৌণ বিষয় বলেই মনে করেন।

তিনি বলেন, ‘নাম নিয়ে এই শব্দের খেলা ভবিষ্যতে আরেক দিনের জন্য তোলা যেতে পারে। এখন আমাদের মনোযোগ বাণিজ্য ও শুল্কের দিকেই থাকা উচিত। এসব আসলে শুধু মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়।’ ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, ‘এই বিরক্তিকর নামের খেলা বন্ধ করুন এবং আবার আলোচনার টেবিলে ফিরুন।’ – সিএনএন