প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত বৃহস্পতিবার ৬ আগস্ট জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিষয়টি লক্ষ্য করে নতুন নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন। যার লক্ষ্য হলো নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ সীমিত করা এবং বাণিজ্যিক ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা সন্তান জন্মদানের উদ্দেশ্যে বিদেশিদের ভ্রমণ ও অবস্থানের বিরুদ্ধে ফেডারেল কঠোর ব্যবস্থা জোরদার করা।
এছাড়া ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে—এবং ভবিষ্যতে সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে—নিযুক্ত কিছু বিদেশি কূটনীতিকের ঘরে জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকারও বাতিল করতে চাইছেন।”
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার বাতিলের লক্ষ্যে নেওয়া তাঁর আগের একটি নির্বাহী আদেশ সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করার পর,
যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া কিছু শিশুকে নাগরিকত্ব দেওয়া থেকে বিরত রাখার সর্বশেষ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আজ বৃহস্পতিবার ঐ দুটি নতুন নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন।
গত বৃহস্পতিবার ৬ আগস্ট ওভাল অফিসে আদেশে স্বাক্ষর করার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, এটি বহু বছর আগেই হওয়া উচিত ছিল, তবে আমরা এখন এর সুরাহা করছি,” ওভাল অফিস থেকে ট্রাম্প এ কথা বলেন।
এ সময় তিনি দেড়শ বছরের পুরনো একটি নীতি বাতিলের বিষয়ে তাঁর আগের উদ্যোগ সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক খারিজ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন আমাদের দেশের উদারতার সুযোগ নিয়ে যেসব ক্ষতিকর বিদেশি পক্ষ আমেরিকান নাগরিকদের প্রতারিত করার চেষ্টা চালায়, তাদের সৃষ্ট ঝুঁকি মোকাবিলায় আমার প্রশাসন সতর্ক ও তৎপর রয়েছে।”
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়টি ছিল অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক; যদিও ব্যবধানটি ছিল সামান্য। তবে রায়টি ছিল খুবই দুর্ভাগ্যজনক। তাই আমরা পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে কিছু পরিবর্তন আনছি।”
গত বৃহস্পতিবার ৬ আগস্ট স্বাক্ষরিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রথম নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী এমন শিশুদের স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব পাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে,
যাদের বাবা-মায়ের কেউই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন এবং বাবা-মায়ের মধ্যে অন্তত একজন—কোনো বিদেশি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্য, বিদেশি সরকারের কর্মী, প্রতারণামূলক উপায়ে নাগরিকত্ব লাভের চেষ্টাকারী
অথবা যুক্তরাষ্ট্রের এমন কোনো অঞ্চলে বসবাসকারী যেখানে ফেডারেল আইনের আওতায় নাগরিকত্ব প্রদান করা হয় না। পুয়ের্তো রিকোর মতো যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে জন্মগ্রহণকারীদের নাগরিকত্বের বিষয়টি ফেডারেল আইনের মাধ্যমে বিধিবদ্ধ।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তাঁর প্রশাসনের কর্মকর্তারা বারবার ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা সন্তান জন্মদানের উদ্দেশ্যে বিদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন;
এমনকি তাঁরা অভিযোগ করেছেন যে, রাশিয়া ও চীনের মতো প্রতিপক্ষ দেশগুলো ‘বার্থরাইট সিটিজেনশিপ’ বা জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সুযোগ কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অনুপ্রবেশ করছে।
গত বৃহস্পতিবার ৬ আগস্ট ওভাল অফিস থেকে নির্বাহী আদেশগুলো ঘোষণার সময় ট্রাম্প বলেন যে, ‘বার্থ ট্যুরিজম’-এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক লাখ শিশুর জন্ম হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ স্টিফেন মিলার জানান, প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরিত একটি আদেশের লক্ষ্য হলো বাণিজ্যিক ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা সন্তান জন্মদানের উদ্দেশ্যে বিদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ রোধ করা;
আর অন্য আদেশটি জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার অযোগ্য ব্যক্তিদের পরিধি বা সংজ্ঞাকে আরও বিস্তৃত করছে— যার আওতায় এমন সব বিদেশি নাগরিকের সন্তানরাও পড়বে যারা বিদেশি সরকারের পক্ষে তদবির বা লবিংয়ের কাজে জড়িত।
মিলার বলেছেন, ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট’-এর একটি ধারার অধীনে ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা সন্তান জন্মদানের উদ্দেশ্যে বিদেশিদের দেশটিতে ভ্রমণের বিষয়টি নিষিদ্ধ করার এখতিয়ার প্রেসিডেন্টের রয়েছে;
এই ধারাটি তাঁকে কারা দেশে প্রবেশ করতে পারবে, সে বিষয়ে বিভিন্ন ব্যতিক্রম ও সীমাবদ্ধতা নির্ধারণের ক্ষমতা প্রদান করে। এদিকে একটি নিরপেক্ষ গবেষণা সংস্থা ‘মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউট’ জানিয়েছে যে,
আদমশুমারির ওপর ভিত্তি করে করা সবচেয়ে বিস্তৃত হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা সন্তান জন্মদানের উদ্দেশ্যে ভ্রমণের মাধ্যমে প্রায় ২২,০০০ থেকে ২৬,০০০ শিশুর জন্ম হয়। সংস্থাটির মতে, সরকারি তথ্যে দেখা গেছে যে ২০২৪ সালে এমন সব মায়ের ঘরে ৯,৬০০টি শিশুর জন্ম হয়েছে যাদের ঠিকানা ছিল দেশের বাইরে।















