প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন তাদের ব্যাপক অভিবাসনবিরোধী ও নির্বাসন (ডিপোর্টেশন) নীতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সদস্যদের পরিবারকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানা গেছে , প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় সামরিক সদস্যদের অন্তত ৫০ জন পিতা-মাতা এবং স্বামী বা স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে অন্তত ছয়জনকে এরই মধ্যে নিজ দেশে ফেরত (ডিপোর্ট) পাঠানো হয়েছে।
সরকারিভাবে এই ধরপাকড়ের কোনো নির্দিষ্ট হিসাব না থাকলেও, এপির মতে প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে। কয়েক দশক ধরে আমেরিকান সেনাদের পরিবারের সদস্যদের নির্বাসনের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য একটি দ্বিদলীয় ঐকমত্য ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে যখন এসব পরিবারের সদস্যরা নিজেদের আইনি বৈধতা পাওয়ার চেষ্টা করছেন, তখনই তাদের মাসের পর মাস আটকে রাখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এই অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন আমেরিকার সামরিক বাহিনীর প্রস্তুতি ও মনোবলকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। প্রিয়জনদের হারিয়ে অনেক সেনাসদস্য মানসিক সহায়তাহীন হয়ে পড়েছেন, সন্তানদের দেখাশোনার কেউ নেই, এমনকি অনেকের বদলি বা মোতায়েনও (ডিপ্লয়মেন্ট) পিছিয়ে যাচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। টেক্সাসের ফোর্ট ব্লিসে কর্মরত আর্মি সার্জেন্ট হেদার লিওনেল তুরসিওস জুয়ারেজের স্ত্রীকে গত জুলাই মাসে তাদের ছয় বছরের মেয়ের সামনেই আটক করা হয়। অন্যদিকে, এয়ার ফোর্স টেকনিক্যাল সার্জেন্ট ওয়েন্ডি গ্বেভের বাবাকে আইনি বৈধতা সংক্রান্ত একটি সাধারণ সাক্ষাৎকারের সময় আটক করে মেক্সিকোতে নির্বাসন দেওয়া হয়েছে। একই রকম পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন আর্মি স্টাফ সার্জেন্ট অ্যালেক্সিস জারামিলো। তার ব্রাজিলিয়ান স্ত্রীকে একটি সাধারণ অ্যাপয়েন্টমেন্ট থেকে আটক করার পর, তিনি এখন ছুটিতে থেকে একাই তার পাঁচ বছর বয়সী সৎ ছেলেকে দেখাশোনা করছেন।
গত ২০২৫ সালের এপ্রিলে বাস্তবায়িত নতুন অভিবাসন নীতিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, কেবল সামরিক বাহিনীতে চাকরি করলেই অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের পরিণতি থেকে রেহাই পাওয়া যাবে না। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (DHS) জানিয়েছে, আমেরিকার সামরিক বাহিনীতে কাজের মূল্যায়ন তারা করলেও, এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাউকে আইনি মর্যাদা দেয় না। অথচ, আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, সেনাবাহিনী এবং ন্যাশনাল গার্ডের মতো বাহিনীগুলো এখনো নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি বিজ্ঞাপনে প্রচার করছে।
এই কঠোর নীতির কারণে খোদ সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মধ্যেই অপরাধবোধ ও হতাশা তৈরি হচ্ছে। ইউএস আর্মি স্পেশালিস্ট রোমেরো রালিওস, যিনি এর আগে মেক্সিকো সীমান্তে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করেছিলেন, তার নিজের বাবাকেই সম্প্রতি আটক করা হয়েছে। এই ঘটনায় চরম অনুতপ্ত রালিওস জানান, এটি হয়তো তার কর্মফল। যে বর্ডার প্যাট্রলে কাজ করে তিনি অন্য পরিবারগুলোকে ভেঙেছেন, আজ নিজের পরিবার ভাঙার পর সেই যন্ত্রণাই তিনি হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন।















