৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শেষের পাতা

ইরানের জব্দ করা সম্পদ ব্যবহার করে জাহাজ ও পণ্যের ক্ষয়ক্ষতি মেটাবে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের জব্দ করা সম্পদ ব্যবহার করে জাহাজ ও পণ্যের ক্ষয়ক্ষতি মেটাবে যুক্তরাষ্ট্র

টানা ১৩তম রাতের মতো ইরানে হামলা চালানোর দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সর্বশেষ হামলায় চারজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, জাহাজ, পণ্য বা সংশ্লিষ্ট যেকোনো ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইরানের জব্দ করা সম্পদ ব্যবহার করা হবে।

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ট্রাম্প যেটিকে ‘ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক’ পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন, সেটিকে আরাঘচি ‘উসকানিমূলক নজির’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

এর আগে, ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথিরা লোহিত সাগরে দুটি সৌদি তেলবাহী জাহাজে হামলার দাবি করে। এ ঘটনার পর বৈশ্বিক নৌপরিবহন নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়, যা মে মাসের পর সর্বোচ্চ।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র, বিশেষ করে বন্দর আব্বাস ও কেশম দ্বীপে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, বেসামরিক নৌপরিবহনের জন্য ইরানের হুমকি কমাতে তারা সামরিক কমান্ড সেন্টার, ড্রোন সংরক্ষণাগার, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র এবং সামুদ্রিক সক্ষমতা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

এদিকে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে ইরান-সমর্থিত হুথিদের কারণে লোহিত সাগরেও নৌপরিবহনের ঝুঁকি বাড়ছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ জুলাই মাত্র একটি তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে, যা ৭ মে-পরবর্তী সর্বনিম্ন।

এ অবস্থায় ট্রাম্প বলেন, জাহাজ ও পণ্যের ক্ষয়ক্ষতির অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইরানের অর্থ থেকেই পরিশোধ করা হবে, যার পরিমাণ ‘খুবই বড়’ হতে পারে।

জবাবে আরাঘচি বলেন, ‘যারা এ ধরনের অর্থ জব্দ করাকে উদযাপন করেন বা এর সুবিধা নেন, তাদের মনে রাখা উচিত—একবার রাষ্ট্রগুলো যদি সম্পদ বাজেয়াপ্ত করাকে স্বাভাবিক করে তোলে, তাহলে কারও সম্পদই আর নিরাপদ থাকবে না।’ তিনি আরও বলেন, এর ফলে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে, তা ‘সুন্দরও হবে না, শান্তিপূর্ণও হবে না।’

বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটিতে বিমান হামলার সতর্কতাসূচক সাইরেন বাজানো হয়েছে। একই সময়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, জর্ডানেও সতর্কতামূলক অ্যালার্ম চালু করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৪ দফা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করে, যাতে সামরিক অভিযান বন্ধ, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ৬০ দিনের মধ্যে যুদ্ধের অবসানে সমঝোতায় পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে সমঝোতার তিন সপ্তাহের মাথায় হরমুজে জাহাজে হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির সমাপ্তি ঘোষণা করেন এবং এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা শুরু করে।

সমঝোতা স্মারকের ১১ নম্বর ধারায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জব্দ বা সীমাবদ্ধ করা অর্থ ও সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ সম্পূর্ণভাবে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।