৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইরানে এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় হামলার কথা ভাবছেন ট্রাম্প

অ্যাক্সিওসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি একটি বিশাল হামলার কথা ভাবছি, যা আগে কখনো দেখা যায়নি।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানে পুনরায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। এই হামলার মাত্রা এর আগে পরিচালিত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র চেয়েও বড় হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব কথা বলেন।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি একটি বিশাল হামলার কথা ভাবছি, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। আমি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের খুব কাছাকাছি আছি এবং আমরা এর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।’ তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে এ ধরনের সিদ্ধান্তের সুদূরপ্রসারী ফলাফল থাকবে এবং তিনি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। দুজন মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে ট্রাম্প এখন পর্যন্ত সেনাবাহিনীকে নতুন কোনো নির্দেশ দেননি।

উল্লেখ্য, দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তজেনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। পুনরায় একটি সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত অজনপ্রিয়।

ইরানে হামলার ক্ষেত্রে ইসরায়েলের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি যদি বলি, তবে ইসরায়েল মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে এই অভিযানে যোগ দেবে। তবে এই অভিযানের জন্য আমাদের কারো সাহায্যের প্রয়োজন নেই।’ তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে ইসরায়েল এই হামলায় সরাসরি জড়ালে দেশটিকে ইরানের পাল্টা প্রতিশোধের মুখে পড়তে হতে পারে।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও জানান, প্রয়াত মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্যে অংশ নিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটন আসতে চান। ট্রাম্প বলেন, ‘বিবির (নেতানিয়াহু) সাথে আমার সম্পর্ক বর্তমানে অত্যন্ত ভালো। তিনি এখানে এলে আমি অবশ্যই তার সাথে দেখা করব।’

ইরানের সাথে আলোচনার বিষয়ে ট্রাম্পের দাবি, তেহরান আলোচনা করতে চাইলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর মতো অবস্থায় আসেনি। তিনি বলেন, ‘ওরা এখনো যথেষ্ট যন্ত্রণার স্বাদ পায়নি।’ মধ্যস্থতাকারী সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরান এখন পর্যন্ত দেওয়া নতুন কোনো প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। একজন সূত্র বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি, কিন্তু ইরান সহযোগিতা করছে না।’

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানি হামলা ঠেকাতে গত ১২ দিন ধরে দেশটিতে হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইরান তার অবস্থান পরিবর্তন করেনি। এর মধ্যে ইয়েমেনের ইরান-পন্থী হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের জাহাজে হামলা শুরু করায় উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।

ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, হুথিরা পুনরায় লোহিত সাগরে হামলা চালালে এর জন্য ইরানকে দায়ী করা হবে। হুথিদের ইরানের ছায়াশক্তি হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, এ জন্য ইরান ও হুথি—উভয়কেই বড় ধরনের সামরিক শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।