যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি সন্ত্রাসীদের নির্বাসনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট বা বিচার বিভাগ ৩০ বছর আগে তৈরি একটি গোপন ও নিষ্ক্রিয় আদালতে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি আবেদন ফাইল করেছে।
ট্রাম্প প্রশাসন গত বুধবার ২২ জুলাই এই আবেদনটি জমা দেয়। ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই বিশেষ আদালতে সরকারের পক্ষ থেকে এর আগে কখনো কোনো পিটিশন দাখিল করা হয়নি।
পাঁচ সদস্যের এই আদালতের প্রধান বিচারক জোয়ান এরিকসেন এক লিখিত আদেশে জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই এই আবেদনের ওপর একটি শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুনানিতে অভিযুক্ত ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের সাথে সরকারের দাবিকৃত সুনির্দিষ্ট আইনি ধারাগুলোর যোগসূত্র নিয়ে আদালত কিছু প্রশ্ন তুলেছে। ফেডারেল বিচারক এরিকসেন বিচার বিভাগকে আগামী ২৯ জুলাই বুধবারের মধ্যে এ বিষয়ে আরও অতিরিক্ত তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
আদালতের এই বিশেষ ক্ষমতাটি ১৯৯৬ সালের একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতা থেকে এসেছে। এই আইনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল বা ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের সরাসরি অনুমোদনে যেকোনো সন্দেহভাজন বিদেশি সন্ত্রাসীকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার জন্য সিলমোহরযুক্ত গোপন আবেদন ফাইল করা যায়। ফেডারেল আইন অনুযায়ী, সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত থাকা, সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন বা উস্কানি দেওয়া অথবা এই ধরনের কোনো সংগঠনের সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা এর আওতায় পড়েন।
আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস কর্তৃক নির্বাচিত পাঁচজন বিচারক নিয়ে এই বিশেষ আদালত গঠিত। গত তিন দশক ধরে এই আদালতে কোনো আবেদন বা শুনানি না হলেও সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র গতিতে অভিবাসী বহিষ্কার অভিযানের অংশ হিসেবে এটিকে সচল করা হলো। এই গোপন আবেদনের খবরটি প্রথম প্রকাশ করে কোর্ট ওয়াচ নামের একটি স্বাধীন সংবাদ সাইট।
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন ১৭৯৮ সালের একটি যুদ্ধকালীন আইন ব্যবহার করে ভেনিজুয়েলার অভিবাসীদের সন্ত্রাসী গ্যাংয়ের সদস্য আখ্যা দিয়ে তাড়ানোর পদক্ষেপ নিয়েছিল। সেই মামলার শুনানিতেই ওয়াশিংটনের বিচারক জেমস বোয়াসবার্গ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে কোনো অভিবাসীকে তাড়াতে হলে এই নিষ্ক্রিয় আদালতটিই হতে পারে সরকারের আসল ফোরাম।















