৪ঠা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শেষের পাতা

সুদবিহীন সরকারি তহবিলের জন্য মামলা করা মুসলিম আইনজীবীকে বিচারক পদে নিয়োগ দিলেন ক্যালিফোর্নিয়ায় গভর্নর

সুদবিহীন সরকারি তহবিলের জন্য মামলা করা মুসলিম আইনজীবীকে বিচারক পদে নিয়োগ দিলেন ক্যালিফোর্নিয়ায় গভর্নর

ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টের বিচারক হিসেবে হ্যারিস এম সৈয়দ নামের এক মুসলিম আইনজীবীকে নিয়োগ দিয়েছেন গভর্নর গ্যাভিন নিউসম। এই নিয়োগের পর যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থায় শরিয়াহ আইনের প্রভাব এবং একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর এবং মুসলিম আমেরিকান অধিকার সংগঠন ‘কেয়ার’ (CAIR) এই নিয়োগকে স্বাগত জানালেও কট্টরপন্থীদের পক্ষ থেকে তীব্র সমালোচনা করা হচ্ছে।

বিচারক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার আগে হ্যারিস এম সৈয়দ লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে আলোচনায় এসেছিলেন। কাউন্টির অবসরকালীন বা রিটায়ারমেন্ট তহবিলগুলোর বিনিয়োগ সুদ-ভিত্তিক হওয়ার কারণে তিনি এই আইনি পদক্ষেপ নেন, যা ইসলামিক শরিয়াহ অর্থায়নের নিয়মের (সুদ বা রিবা নিষিদ্ধকরণ) পরিপন্থী।

তিনি সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে তাঁর ধর্মীয় বিশ্বাসের সুরক্ষায় শরিয়াহ-সম্মত বিনিয়োগের বিকল্প সুবিধা দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন এবং এটিকে তাঁর বিশ্বাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

এই নিয়োগের পর কলোরাডোভিত্তিক ডানপন্থী ও রক্ষণশীল বিভিন্ন ফোরাম এবং সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্টরা দাবি করছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের আদালত ব্যবস্থার ওপর একটি সুপরিকল্পিত প্রভাব বিস্তারের অংশ। তারা ২০২৪ সালে ‘কেয়ার’-এর নির্বাহী পরিচালক নিহাদ আওয়াদ-এর দেওয়া একটি বক্তব্যের সূত্র ধরে এই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। সে সময় আওয়াদ মুসলিম শিক্ষার্থীদের আইন, সাংবাদিকতা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান এবং চলচ্চিত্র নির্মাণে স্কলারশিপ দিয়ে আগামী ১৫-২০ বছরের মধ্যে হাজার হাজার আইনজীবী ও নীতিনির্ধারক তৈরির একটি কৌশলগত পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন।

সমালোচকদের দাবি, এই ধরনের নিয়োগের মাধ্যমে আমেরিকার বিচারব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। উগ্রপন্থী ও বর্ণবাদবিরোধী গবেষক দল ‘রেয়ার ফাউন্ডেশন’-এর প্রধান অ্যামি মেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, যিনি সরকারি সুযোগ-সুবিধাকে শরিয়াহ আর্থিক নিয়মের সাথে মেলাতে মামলা লড়েছেন, তিনি এখন আমেরিকার অন্যতম বড় আদালত ব্যবস্থার বিচারকের আসনে বসেছেন। টেক্সাস ও ফ্লোরিডার মতো স্টেটের গভর্নরদের দ্বারা সমালোচিত সংগঠন ‘কেয়ার’ এই নিয়োগকে স্বাগত জানানোয় তারা একে বিচারব্যবস্থায় অনুপ্রবেশ হিসেবে দেখছেন।

তবে এই সমস্ত সমালোচনার বিপরীতে ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসন এবং নাগরিক অধিকার কর্মীরা এই নিয়োগকে মেধা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। ‘কেয়ার-এলএ’ হ্যারিস সৈয়দকে একজন অত্যন্ত সৎ ও দক্ষ ‘আমেরিকান মুসলিম আইনজীবী’ হিসেবে প্রশংসা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের একাংশের মতে, বিচার বিভাগে বৈচিত্র্য আনা এবং সব ধর্মের নাগরিকদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করাই এই নিয়োগের মূল লক্ষ্য, যা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারকে আরও সমুন্নত করবে।