২৮শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কমিউনিটি

‘যত বই তত প্রাণ’ ¯স্লোগান নিয়ে ৩৫তম নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বইমেলা শুরু, উদ্বোধক ইমদাদুল হক মিলন ও আজীবন সম্মাননা পেলেন অধ্যাপক রেহমান সোবহান

‘যত বই তত প্রাণ’ ¯স্লোগান নিয়ে ৩৫তম নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বইমেলা শুরু, উদ্বোধক ইমদাদুল হক মিলন ও আজীবন সম্মাননা পেলেন অধ্যাপক রেহমান সোবহান

‘যত বই তত প্রাণ’-গানকে সামনে রেখে নিউইয়র্কে শুরু হঠেভ ‘৩৫তম নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা’। শুক্রবার (২২ মে) বিকেল থেকে শুরু হওয়া চারদিনে এই বইমেলা চলবে ২৫ মে সোমবার পর্যন্ত। মুক্তধারা ফাউন্ডেশন আয়োজিত নিউইয়র্কের কুইন্সের জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্টস সেন্টারে বর্ণাঢ্য আয়োজনে এবারের বইমেলার উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন। উদ্বোধনী দিনে মেলার প্রধান অতিথি বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদ রেহমান সোবহান-কে আজীবন সম্মানা প্রদান করা হয়। মেলায় আমন্ত্রিত অতিথি থাকছেন অধ্যাপক ড. রওনক জাহান, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও শিশু সাহিত্যিক চ‍্যনেলসন আই এর ফরিদুর রেজা সাগর, আমেরিকান কবি বব কোলম্যান, ভারতীয় কবি সুবোধ সরকার, বাংলাদেশের লেখক ফারুক মঈনউদ্দীন, সাংবাদিক ও বিডিনিউজ২৪.কম এর তৌফিক ইমরোজ খালিদী, বিজ্ঞানী ও লেখক দীপেন ভট্টাচার্য এবং জনপ্রিয় সাহিত্যিক সাদাত হোসাইন, সুবোধ সরকারসহ আরো অনেকে।

২২ মে শুক্রবার বিকেলে বর্ণাঢ্য র‌্যালীর পর জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্টস সেন্টার ভবনের সামনে ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে বইমেলার উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের পর কথা সাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন সহ অতিথিরা বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। এরপর প্রবাসী শিল্পীরা দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন। এরপর মূলমঞ্চে আমন্ত্রিত অতিথিগণ একে একে ৩৫টি মোমবাতি জ্বালিয়ে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে মেলার কর্মকান্ড শুরু হয়। উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন ভয়েব অব আমেরিকার সাবেক প্রধান রোকেয়া হায়দার।

এবারের বইমেলায় উদ্বোধনী দিনের বক্তৃতায় অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, গত ৩৫ বছরে বাংলাদেশিরা আমেরিকায় একটি দৃশ্যমান জাতিগোষ্ঠী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে; আগামী ৩৫ বছরে বাংলাদেশিরা এ দেশের সমাজ-সংস্কৃতির অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠবে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে আমেরিকায় তাঁর প্রথম সফরের সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিচিতিই ছিল তাঁর প্রধান সম্বল। আজকের প্রজন্মের কাছে ইতিহাসের বিভিন্ন বিষয় স্পষ্টভাবে তুলে ধরা এবং এ নিয়ে বিতর্কের অবসানের আকাঙ্ক্ষার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সঠিক ইতিহাসচর্চার মধ্য দিয়ে আমাদের জাতীয় ইতিহাসের বহু বিতর্কিত বিষয়ে ঐকমত্যের প্রয়াস চালিয়ে যেতে হবে। অনুষ্ঠানমঞ্চেদেওয়া বক্তৃতায় অধ্যাপক রওনক জাহান বলেন, আমাদের প্রজন্মের কাছে ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশের ধারণা ছিল ভিত্তিমূলের মতো দৃঢ়। তিনি বলেন, আজকের বাংলাদেশে নতুন প্রজন্মের একটি অংশকে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের প্রতি সমর্থন জানাতে দেখা যাচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। দুই খ্যাতিমান ব্যক্তিত্বের এই আলোচনা পর্বটি সঞ্চালনা করেন বইমেলার আহ্বায়ক ড. নজরুল ইসলাম।

বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন বলেন, বাংলা গ্রন্থ অনুবাদের একটি বড় উদ্যোগ নেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়। তিনি নিউইয়র্ক বইমেলায় বাংলাদেশের খ্যাতিমান সাহিত্যিকদের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের অংশগ্রহণের স্মৃতিচারণ করেন। এর আগে অনুষ্ঠানমঞ্চে মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ এবং মুক্তধারার কর্ণধার বিশ্বজিৎ সাহা বইমেলায় উপস্থিত সবাইকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য রাখেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক ইমদাদুল হক মিলন। প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ ও চিন্তাবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান। তাঁকে প্রদান করা হয় ‘মুক্তধারা সুকৃতজ্ঞ সম্মাননা’ ও আজীবন সম্মাননা। আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চিন্তা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং বাঙালির বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যে তাঁর অবদান অসামান্য। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক রওনক জাহান, ফরিদুর রেজা সাগরসহ আরও অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি। এছাড়া বাংলাদেশ, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে আগত বহু লেখক, কবি, গবেষক ও শিল্পী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

প্রাক-উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয় ঢোলের বাদ্য এবং রবীন্দ্রসংগীতের মধ্য দিয়ে। ছিল আবৃত্তি, সংগীত, নৃত্য ও বিশেষ স্মরণানুষ্ঠান। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির তিন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব—মহাশ্বেতা দেবী, আবুল কালাম শামসুদ্দিন এবং তপন রায়চৌধুরীর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে তাঁদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। মেলায় অংশ নিয়েছে অনন্যা, ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড, প্রথমা প্রকাশন, আহমেদ পাবলিশার্স, ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশসহ বাংলাদেশ ও কলকাতার বহু খ্যাতিমান প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। নতুন প্রকাশিত বই, গবেষণাগ্রন্থ, প্রবাসভিত্তিক সাহিত্য, শিশু-কিশোর বই এবং বিশ্বসাহিত্যের নানা প্রকাশনা পাঠকদের বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

চারদিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক আয়োজনে প্রতিদিন থাকবে বই বিক্রি, নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, সাহিত্য আলোচনা, কবিতা পাঠ, শিশু-কিশোর অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, লেখক-পাঠক আড্ডা এবং প্রবাসী সংস্কৃতি নিয়ে বিশেষ আলোচনা। মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, বাংলা সাহিত্য ও বিশ্বসাহিত্যের মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তোলার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা ভাষা ও বইপড়ার সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেওয়াই এবারের বইমেলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

 

 

নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলার অন্যতম পৃষ্ঠপোষক শিল্পপতি গোলাম ফারুক ভূঁইয়া বলেন, দেশ থেকে দূরে থেকেও বাংলাদেশিরা বাংলা বইয়ের টানে এই মেলায় যোগ দেন। সুস্থ সংস্কৃতি ও মননশীলতার বিকাশে এ বইমেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বইয়ের ঘ্রাণ, প্রিয় মুখের হাসি, বাংলা ভাষার আবেগ আর প্রবাসের মাটিতে শেকড়ের টান—সব মিলিয়ে নিউইয়র্কে আবারও প্রমাণ হলো, বাংলা বইয়ের প্রতি ভালোবাসা এখনও অটুট, এখনও প্রাণবন্ত। “যত বই তত প্রাণ”—এই উচ্চারণে চারদিনের জন্য যেন প্রবাসের হৃদয়ে গড়ে উঠেছে এক টুকরো বাংলাদেশ।

উদ্বোধনী পর্ব ছাড়াও বইমেলার প্রথম দিনের কর্মকান্ডের মধ্যে ছিলো প্রাক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, ‘আজি দখিন-দুয়ার খোলা’, শুভেচ্ছা বক্তব্য, প্রশ্নোত্তর পর্ব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অধ্যাপক রেহমান সোবহান ও ড. রওনক জাহান-কে নিয়ে বিশেষ প্রশ্নোত্তর পর্ব পরিচালনা করেন এবারের মেলার আহবায়ক ড. নজরুল ইসলাম। অতিথিবৃন্দ ছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ ও ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও এযাবৎ অনুষ্ঠিত ৩৫টি মেলাকে সদস্য সচিব বিশ্বজিৎ সাহা। কবিতা পাঠ করেন কবি শামস আল মমিন, ড. মোস্তফা সারোয়ার ও কবি সুবোধ সরকার। এদিন উদ্বোধনী নৃত্য পরিবেশন করেন নৃত্যাঞ্জলীর শিল্পরা। নির্দেশনায় ছিলেন চন্দ্রা ব্যানার্জী। শুক্রবার মেলার কর্মকান্ড চলে বিকাল ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত। এদিন বিপুল সংখ্যক দর্শক-শ্রোতা মেলায় অংশ নেন।

 

 

এবারের বইমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ঢাকার অনন্যা, ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড, প্রথমা প্রকাশন, বিডি নিউজ টোয়েন্টফোর, আহমেদ পাবলিশার্স, ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশসহ বাংলাদেশ ও কলকাতার কয়েকটি প্রকাশনা সংস্থা। বইমেলার সূচি অনুযায়ী প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলবে। মূল কর্মকান্ডের মধ্যে থাকবে বই বিক্রি, নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, সাহিত্য আলোচনা, কবিতা পাঠ, শিশু-কিশোর অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং লেখক-পাঠক আড্ডা। বিশেষ আয়োজন হিসেবে থাকবে বাংলা সাহিত্য, বিশ্বসাহিত্য, প্রবাসী সংস্কৃতি ও নতুন প্রজন্মের পাঠাভ্যাস নিয়ে আলোচনা। ২৩-২৫ মে, শনি রবি ও সোমবার সকাল ১১টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত মেলার কার্যক্রম চলবে। মেলার ২৫টির বেশি স্টলে থাকবে ৫,০০০ এর বেশী নতুন বই।

উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালে ক্ষুদ্র পরিসরে শুরু হওয়া এই বইমেলা আজ উত্তর আমেরিকায় বাংলা বইয়ের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। আয়োজকরা বলছেন, বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিশ্বায়নের ধারাবাহিকতাকে আরও শক্তিশালী করাই এবারের বইমেলার মূল লক্ষ্য। নতুন প্রকাশিত বই, গবেষণাগ্রন্থ, প্রবাসভিত্তিক সাহিত্য এবং শিশু-কিশোর বইয়ের বিশাল সংগ্রহ পাঠকদের জন্য আকর্ষণ হয়ে উঠবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

বৃষ্টি উপেক্ষা করে দ্বিতীয় দিনে মানুষের উপচেপড়া ভীড়
৩৫ তম নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা’র দ্বিতীয় দিন অতিবাহিত হলো। বৃষ্টি উপেক্ষা করে বইমেলা’র দ্বিতীয় দিনে মানুষের উপচেপড়া ভীড় পরিলক্ষিত হয়েছে। একে একে সম্পন্ন হয়েছে মেলার সকল কর্মসূচী। বিশেষ করে শিশু-কিশার-কিশোরীদের প্রতিযোগিতা, নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, স্বরচিত কবিতা পাঠ (কাব্যের কোলাহল) ও আবৃতি আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপস্থিত দর্শক-শ্লোতাদের মুগ্ধ করেছে। দিনের অন্যান্য কর্মসূচীর মধ্যে ছিলো- বইয়ের স্টল উদ্বোধন, শামসুদ্দীন আবুল কালাম, মহাশ্বেতা দেবী ও তপর রায় চৌধুরী জন্ম শতবার্ষিকীর শ্রদ্ধাঞ্জলি নতুন বই নিয়ে আলোচনা, ‘বাউল : বাংলার সাংস্কৃতিক বাহক ও বর্তমান সংকট’ শীর্ষক আলোচনা, মহান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সেমিনার, ‘কলম ও কৌতুক’ শীর্ষক আলোচনা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রক্তকবরী নাটক মঞ্চায়ন, পল্লীকবি জসিম উদদীনের গান নিয়ে আলেখ্য নৃত্য ‘সুজন মাঝি’, ‘প্রবাস জীবন-বাঙালীকে দিয়েছে বাণিজ্যিকতা, কেড়ে নিয়েছে আন্তরিকতা শীর্ষক বিতর্ক অনুষ্ঠান আর শিল্পী অদিতি মহসিনের একক সঙ্গীত অনুষ্ঠান ‘সীমার মাঝে অসী’। তবে দিনভর বৃষ্টির কারনে বইয়ের স্টলে তেমন ভীড় পরিলক্ষিত না হলেও মূলমঞ্চের অনুষ্ঠানগুলো দেখতে ভীর ছিলো দর্শক-শ্রোতাদের। আর স্টলগুলোতে কথা সাহিত্যিক সাদাত হোসাইন ছিলেন বইপ্রেমীদের মধ্যমনি। লেখকের বই ক্রয়ের পাশাপাশি তার অট্রোগ্রাফ নিতেও দেখো যায় অনেককে। তবে বই বিক্রি হয়েছে কম। খবর ইউএনএ’র।

 

বাংলাদেশের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, আমন্ত্রিত অতিথি সাংবাদিক রোকেয়া হায়দার ও তৌফিক ইমরোজ খালিদী, বিজ্ঞানী ও লেখক দীপেন ভট্টাচার্য এবং জনপ্রিয় সাহিত্যিক সাদাত হোসাইন সহ লেখক ফেরদৌস সাজেদীন, মোস্তফা সারোয়ার, আশরাফ কায়সার আশিক মুস্তাফা, সৌরভ শিকদার, আবদুর নূর, সুবোধ সরকার, নসরাত শাহ আজাদ, শামীম রেজা, রাজিয়া নাজমী, কৌশিক সেন, অভিনেত্রী শিরিন বকুল ও মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ অংশ নেন।

এদিন প্রবাসী লেখকদের মধ্যে আনোয়ার হোসাইন মঞ্জু ও সাঈদ তারেক-এর উপস্থিতি ও তাদের বইয়ের ক্রয়ের প্রতি পাঠকদের আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। উল্লেখ্য, মুক্তধারা ফাউন্ডেশন আয়োজিত চারদিনের ‘৩৫ তম নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা’ শুক্রবার (২২ মে) থেকে শুরু হয়েছে। শনিবার (২৩ মে) ছিলো মেলার দ্বিতীয় দিন। মেলার কর্মকান্ড সফল করতে মূল কমিটি, বিভিন্ন উপ কমিটি গঠনের পাশাপাশি মেলা স্থল জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্টস সেন্টারের মূল মঞ্চের নামকরণ করা হয়েছে ‘শামসুদ্দীন আবুল কালাম মঞ্চ. মহাশ্বেতা দেবী মঞ্চ, কাজী নজরুল মঞ্চ ও তপন রায় চৌধুরী মঞ্চ’ এবং উন্মুক্ত প্রাঙ্গনের নামকরণ করা হয়েছে ‘লালন মঞ্চ’।

 

উদ্বোধনী দিনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে কথা সাহিত্যিক সাদাত হোসাইন রোববার (২৪ মে) তার ফেসবুক পেইজে লিখেছেন- ‘৩৫ তম নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। মঞ্চে তখন কিংবদন্তি অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. রেহমান সোবহান, বিশ্ববিখ্যাত কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক, বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. রওনক জাহান, চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, ভয়েস অব আমেরিকা বাংলা বিভাগের প্রথম নারী প্রধান রোকেয়া হায়দার, কবি সুবোধ সরকার সহ অসংখ্য গুণী মানুষ। এর আগেরবার নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলার ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ লেখক হিসেবে এর ৩৪ তম আসর উদ্বোধন করেছিলাম আমি। সেদিন আমি জানতাম যে মঞ্চে আমাকে বক্তব্য রাখতে হবে। কিন্তু এবার জানতাম না। আগেভাগে কিছু বলাও হয়নি। তাছাড়া সময় সংক্ষিপ্ত হওয়ার কারণে সর্বোচ্চ এক বা দুজন মানুষের হয়তো বক্তব্য দেয়ার সুযোগ থাকবে। স্বভাবতই সবচেয়ে কনিষ্ঠ হিসেবে তাতে আমার নাম থাকার কথা নয়। কিন্তু আমাকে হতচকিত করে দিয়ে ড. রওনক জাহানের শুভেচ্ছা বক্তব্যের পরই মাইকে ঘোষণা করা হলো আমার নাম। এরপর উপস্থিত অতিথিদের মধ্য থেকে আর মাত্র দুজন কথা বলবেন। অধ্যাপক ড রেহমান সোবহান ও লেখল ইমদাদুল হক মিলন। এতো এতো অতিথিদের ভিড়ে বক্তব্যের তালিকায় হঠাৎই নিজের নাম শুনে ভীষণ নার্ভাস হয়ে গেলাম আমি। কী বলব ভেবে পাচ্ছিলাম না। গলা কাঁপছিল। এতোটা অপ্রস্তুত ও নার্ভাস বোধহয় কখনো লাগেনি। তারপরও কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে কী কী যেন বললাম। সেসব শুনে হলভর্তি দর্শকেরা তুমুল করতালিও দিলেন। দু মিনিটের এই বক্তব্য নিয়ে অনুষ্ঠান শেষেও দারুণ সব প্রতিক্রিয়া শুনে মনে হলো, জীবনের এইসব অভাবিত প্রাপ্তি আসলে মন্দ নয়।’

সাদাত হোসাইন-এর মন্তব্য : একই দিন এর আগের পোষ্টে কথা সাহিত্যিক সাদাত হোসাইন তার ফেসবুক পেইজে লিখেন- ‘প্রচন্ড বৃষ্টি, ঠান্ডা ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া উপেক্ষা করেও নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলায় যেসকল পাঠক গতকাল উপস্থিত হয়েছিলেন, বই কিনেছিলেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা। ঠান্ডা সবসময়ই আমার জন্য ভীতিকর। গতবার এসেই ভয়াবহ জ্বরে পড়েছিলাম। এবার এখন পর্যন্ত তাই আগাম সতর্কতায় জবুথবু হয়ে আছি। যাদের কাছে বইমেলার মুক্তধারা স্টল থেকে বই সংগ্রহের বা মঞ্চে আমার আলোচনার ছবি ও ভালো ভিডিও আছে, তাদের দয়া করে ইনবক্সে পাঠানোর অনুরোধ করছি। দেখা হবে আজ ও আগামীকালও। এরপর দেখা হবে ভার্জিনিয়ায়। ডিসি বাংলা সাহিত্য উৎসবে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজিতে ২৯-৩০ মে।’