২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র

আমেরিকান কর্মীদের চাকরি রক্ষায় এইচ-১বি ভিসা প্রক্রিয়া কঠোর করার বার্তা দিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স

আমেরিকান কর্মীদের চাকরি রক্ষায় এইচ-১বি ভিসা প্রক্রিয়া কঠোর করার বার্তা দিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স

আমেরিকান কর্মীদের চাকরি রক্ষায় এইচ-১বি ভিসা প্রক্রিয়া কঠোর করার বার্তা দিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স । এইচওয়ানবি ভিসা মূলত যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ দক্ষতা প্রয়োজন এমন পেশায় সাময়িকভাবে বিদেশি কর্মী নিয়োগের সুযোগ দেয়। প্রযুক্তি, প্রকৌশল, গবেষণা, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং বিভিন্ন পেশাগত ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থার ব্যবহার দীর্ঘদিন ধরে হয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, এই ভিসায় নিয়োগ পাওয়া কর্মীকে নিয়োগকর্তার একই ধরনের কাজে থাকা কর্মীদের প্রকৃত মজুরি অথবা সংশ্লিষ্ট এলাকায় নির্ধারিত প্রচলিত মজুরির মধ্যে যেটি বেশি, সেটি দিতে হয়। অর্থাৎ আইনগতভাবে নিয়োগকর্তার ইচ্ছামতো কম মজুরি দেওয়ার সুযোগ নেই।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ হচ্ছে, কিছু নিয়োগকর্তা এবং তৃতীয় পক্ষের কর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এই ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে তুলনামূলক কম মজুরিতে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করেছে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কর্মী সরবরাহ ও বিদেশে কাজ স্থানান্তরের সঙ্গে যুক্ত কিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই প্রশাসন নিয়োগের ক্ষেত্রে মজুরি, কর্মীর দক্ষতা এবং নিয়োগকর্তার সাম্প্রতিক কর্মী ছাঁটাইয়ের তথ্যকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে এসব অভিযোগ সব এইচওয়ানবি নিয়োগকর্তা বা সব বিদেশি কর্মীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য—এমন কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত নেই।

ট্রাম্প প্রশাসন কতৃক চলতি বছরের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো, এইচওয়ানবি ভিসার জন্য আবেদন বাছাইয়ের পদ্ধতিতে মজুরি ও দক্ষতার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় উচ্চ মজুরির স্তরে থাকা আবেদনকারীদের নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ তুলনামূলকভাবে বেশি রাখা হয়েছে। সরকারি নথি অনুযায়ী, সর্বোচ্চ মজুরি স্তরের আবেদনকারীর নাম বাছাইয়ের তালিকায় চারবার, তৃতীয় স্তরের তিনবার, দ্বিতীয় স্তরের দুইবার এবং প্রথম স্তরের একবার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর ফলে উচ্চ মজুরির প্রস্তাব পাওয়া কর্মীদের নির্বাচনের সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বাড়ে।

এই পরিবর্তনটি ২০২৭ অর্থবছরের জন্য এইচওয়ানবি আবেদন প্রক্রিয়ায় কার্যকর হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন বিষয়ক ফেডারেল সংস্থা “ইউএসসিআইএস” এর নথিতে বলা হয়েছে, নতুন পদ্ধতিতে সব ধরনের মজুরি স্তরের কর্মীদের সুযোগ থাকছে, তবে বেশি দক্ষ ও বেশি মজুরির কর্মীদের দিকে বাছাই প্রক্রিয়ার ভারসাম্য সরানো হয়েছে। অর্থাৎ এটি পুরোপুরি বিদেশি কর্মী বন্ধ করার ব্যবস্থা নয়; বরং বিদেশি কর্মীদের মধ্যে কোন ধরনের কর্মী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পাবেন, সেই বাছাইকে পরিবর্তন করার উদ্যোগ।

এর পাশাপাশি চলতি বছরের মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম দপ্তর আরেকটি প্রস্তাব দিয়েছে, যার লক্ষ্য বিদেশি কর্মীদের জন্য প্রচলিত মজুরি নির্ধারণের পদ্ধতি পরিবর্তন করা। প্রস্তাব অনুযায়ী, বিভিন্ন পেশা ও এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীদের মজুরি সম্পর্কিত পরিসংখ্যান ব্যবহার করে প্রচলিত মজুরির স্তর নতুনভাবে নির্ধারণ করা হতে পারে। সরকারের যুক্তি হলো, এতে বিদেশি কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে কম মজুরি দেওয়ার আর্থিক সুবিধা কমবে এবং একই ধরনের দক্ষতার আমেরিকান ও বিদেশি কর্মীদের মধ্যে মজুরির ব্যবধান কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। এটি এখনো প্রস্তাবিত পরিবর্তন, চূড়ান্ত নিয়ম হিসেবে কার্যকর হয়েছে—এমন দাবি করা ঠিক হবে না।

এইচওয়ানবি ব্যবস্থায় সবচেয়ে আলোচিত পরিবর্তনগুলোর একটি হলো নির্দিষ্ট নতুন বিদেশি কর্মীর ক্ষেত্রে এক লাখ ডলারের অতিরিক্ত অর্থ প্রদানের শর্ত। ২০২৫ সালে এই ব্যবস্থা চালুর পর ট্রাম্প প্রশাসন চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে তা আরও এক বছরের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। নতুন ঘোষণায় এই বিধিনিষেধ ২০২৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাখার কথা বলা হয়েছে। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে—এই এক লাখ ডলারের অর্থ আদায় বর্তমানে আদালতের আদেশের কারণে কার্যকর নয়।