নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশ সোসাইটির আগামী ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের পক্ষথেকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘৭ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ও কর্মপরিকল্পনা’ তুলে ধরে নেতৃবৃন্দ বলেছেন, সোসাইটির আগামী নির্বাচন কঠিন নির্বাচন। কেননা ৩৫ হাজারোধিক ভোটার এই নির্বাচনের ভোটার। বিপুল এইভোটারদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সোসাইটি গড়াই আমাদের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশ সোসাইটি যুক্তরাষ্ট্রে
সকল বাংলাদেশীর সংগঠন। আমরা ভোট কেনা-বেচায় বিশ্বাসকরি না। ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেল নির্বাচিত হলে সোসাইটিকে আরো গণমুখী করার পাশাপাশি প্রবাসীদের সকল সমস্যাসংশ্লিস্টদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হবে। উল্লেখ্য, আগামী ২৫ আক্টোবর রোববারবাংলাদেশ সোসাইটির ত্রি-বার্ষিক (২০২৭-২০২৯) নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
জ্যাকসন হাইটসে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ফিরোজ আহমেদ। এরপর শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি এম আজিজ, কুনু-ফিরোজ প্যানেলের প্রধান উপদেষ্টা জামাল আহমেদ জনি, চেয়ারম্যান বেলাল মাহমুদ , অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান মইনুল ইসলাম, প্যানেলের মিডিয়া ও কমিউনিকেশন কমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসরসৈয়দ আজাদ।

কুনু-ফিরোজ প্যানেলের পক্ষে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ফিরোজ আহমেদ পঠিত লিখিত বক্তব্যে বলা হয় , গণমাধ্যম হচ্ছে আমাদের সমাজের কন্ঠস্বর। সত্য-ন্যায় ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে আপনাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বাংলাদেশী কমিউনিটির বিভিন্ন সমস্যা, প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরার ক্ষেত্রে আপনারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। আজ আমরা আপনাদের সামনে কিছু গুরুত্বপূর্ন বিষয় তুলে ধরতে এবং আপনাদের মাধ্যমে বাংলাদেশী কমিউনিটির মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর। আমরা আশা করি আপনারা বস্তুনিষ্ঠতা, পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সাথে কুনু-ফিরোজ পরিষদের নির্বাচনী ইশতেহার আপনাদের পাঠক, দর্শক এবং সোসাইটির সম্মানিত ভোটারদের কাছে পৌঁছে দিবেন। আপনাদের উপস্থিতি আমাদের জন্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানের। এখন আমরা আমাদের কুনু-ফিরোজ পরিষদের নির্বাচনী ইশতেহার আপনাদের কাছে তুলে ধরছি।
১. বাংলাদেশ কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা:
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে একটি আধুনিক ও স্থায়ী বাংলাদেশ কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। বাংলাদেশ সোসাইটির নিজস্ব তহবিল, সাধারণ সদস্যদের সহযোগিতা এবং প্রবাসের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও দাতাদের আর্থিক অনুদানের মাধ্যমে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
২. ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সাশ্রয়ী ফিউনারেল হোম সেবা:
মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য ফিউনারেল হোম সেবা চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। সংকটের সময় যেন কোনো পরিবার অসহায় বোধ না করে, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সেবার ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
৩. নিউইয়র্কে ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স’ এর রুট পুনরায় চালুর উদ্যোগ:
প্রবাসী বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে নিউইয়র্ক থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ, আলোচনা ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
৪. ইমিগ্রেশন সহায়তা, আইনি পরামর্শ হেল্পলাইন ও কনস্যুলেট সেবা:
প্রবাসী বাংলাদেশিদের ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত সমস্যা ও জটিলতা নিরসনে অভিজ্ঞ ও বিশ্বস্ত ইমিগ্রেশন আইনজীবীদের সমন্বয়ে একটি সহায়তা হেল্পলাইন চালু করা হবে। এর মাধ্যমে কমিউনিটির সকলে নির্ভরযোগ্য তথ্য, প্রাথমিক আইনি দিকনির্দেশনা এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ গ্রহণের সুযোগ পাবেন। এছাড়া প্রত্যেক ব্যুরোতে কনস্যুলেট সেবা ব্যবস্থা করা হবে।
৫. সিটি, স্টেট ও ফেডারেল পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা:
জব সেমিনারের মাধ্যমে যোগ্য বাংলাদেশী-আমেরিকান তরুণ-তরুণী ও পেশাজীবীদের জন্য নিউইয়র্ক সিটি, স্টেট এবং ফেডারেল সরকারের বিভিন্ন চাকরির সুযোগ সম্পর্কে তথ্য ও দিকনির্দেশনা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি চাকরির আবেদন, ইন্টারভিউ প্রস্তুতি এবং পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করা হবে। বর্তমান সময়ের চাহিদা বিবেচনায় স্বল্প খরচে আইটি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (অও) বিষয়ে প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
৬. মূলধারার রাজনীতি ও সামাজিক নেতৃত্বে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি:
বাংলাদেশি-আমেরিকান তরুণ প্রজন্মকে যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতি, সামাজিক কর্মকাÐ, নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়া এবং নেতৃত্বের বিভিন্ন পর্যায়ে সম্পৃক্ত করতে বাংলাদেশ সোসাইটির উদ্দ্যোগে প্রতিবছর ‘ইয়ূথ কনভেনশন’ আয়োজন করবে। একই সঙ্গে সকল জাতি, ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশি কমিউনিটির সামাজিক অবস্থান ও গ্রহণযোগ্যতা আরো সুদৃঢ় করা হবে। মূলধারার রাজনীতিতে যারা অংশগ্রহন করবে বাংলাদেশ সোসাইটি তাদেরকে সমর্থন জানাবে।
৭. মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় সহায়তা:
বাংলাদেশি-আমেরিকান পরিবারের মেধাবী ও সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করতে বিশেষ শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। আমেরিকার স্বনামধন্য কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতির জন্য বাংলাদেশ সোসাইটির উদ্যোগে এবং অনুদানের মাধ্যমে উন্নতমানের কোচিং, শিক্ষামূলক দিকনির্দেশনা ও সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে। নির্বাচিত হলে কুনু-ফিরোজ প্যানেল এমন একটি বাংলাদেশ সোসাইটি গড়ে তুলতে চায়, যেখানে থাকবে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, কার্যকর নেতৃত্ব এবং সকল সদস্যের সমান মর্যাদা।
কুনু-ফিরোজ প্যানেলের অঙ্গীকার শুধু নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ নয়। বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা, সম্মিলিত উদ্যোগ এবং ধারাবাহিক কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য দৃশ্যমান ও দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন নিশ্চিত করাই মুল লক্ষ্য। পরিশেষে, কুনু-ফিরোজ প্যানেল বিশ্বাস করে স্বচ্ছতা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করা সম্ভব। সাংবাদিকদের বক্তব্য, আলোচনা ও বুঝাপড়া আরো সুদৃঢ় হবে এবং কমিউনিটির বৃহত্তর স্বার্থে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সহায়তা করবে।

পরবর্তীতে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের সভাপতি পদপ্রার্থী আজমল হোসেন কুনু, সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ফিরোজ আহমেদ ও সোসাইটির সাবেক সভাপতি ও বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের সাবেক চেয়ারম্যান এম আজিজ ।
সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে সাবেক সভাপতি ও এবার সভাপতি পদপ্রার্থী আজমল হোসেন কুনু বলেন, আমরা নির্বাচিত হলে কাউকে ছোট করতে চাই না, তবে গঠনমূলকসমালোচনা করবো। হেল্প সেন্টার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা বিজয়ী হলে সোসাইটি ভবনেই পুনরায় হেল্প সেন্টার চালুকরবো, যার মাধ্যমে প্রবাসীরা সার্বিক সহযোগিতা পাবেন।
কবর প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কবর মানুষের অবশ্যই প্রয়োজন।বিজয়ী হলে নতুন করে কবর ক্রয়ের উদ্যোগ নেয়া হবে। নিউইয়র্ক-ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে বিমান চলাচল প্রসঙ্গে তিনি বলেন , এটা বাংলাদেশ সরকারের করণীয় তবে কেন নিউ ইয়র্ক রুটে বিমান চালু হচ্ছে না সে ব্যাপারে আসল তথ্য জেনে উদ্যোগ নেবো এবং প্রয়োজনে প্রবাসীদের সাথে নিয়ে আন্দোলন করবো। সদস্য সংগ্রহ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা ফর্ম ছাড়াও অলনাইনে সদস্য হওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখবো। সভাপতির দায়িত্ব পালনের

দীর্ঘ ১০ বছর পর কেন পুনরায় তিনি সভাপতি পদে নির্বাচন করছেন এমন এক প্রশ্নের উত্তরে জনাব আজমল হোসেন কুনু বলেন, সমাজ সেবার কোন সময়সীমা নেই। মানুষ ভালবেসেছেন এবং মনে করেছেন বলেই তাদের দাবীর প্রেক্ষিতে ১০ বছর পর আবার সোসাইটির নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি। তিনি আরো বলেন, আমি আজীবন সমাজসেবাকরতে চাই।
অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সোসাইটি সকল বাংলাদেশীর সংগঠন। কোন আঞ্চলিক সংগঠন নয়। আমারপ্রতিদ্ব›দ্বী শুধু সিলেটি-ই নন, তিনি আমার ব্যবসায়িক পার্টনার। তাই বলে কি আমরা নিজের মতো করে সমাজসেবা করতে পারবো না?
বাংলাদেশ সোসাইটির কবর প্রসঙ্গে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘রব-রুহুল’ কমিটি কবর ক্রয় করে কোন ক্ষতি না করলেও পরবর্তীতে আরো সংকট সৃষ্টি হয়েছে। পরবর্তীতে সেই কবরের অর্থ ফেরৎ নিয়ে বর্তমান কার্যকরী কমিটি “লস” করেছেন। তিনি বলেন, পেন্ডামিকের সময় আমরা দেখেছি কবর কেনা কত জরুরী।
এক প্রশ্নের উত্তরে সাবেক সভাপতি ও বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের সাবেক চেয়ারম্যান এম আজীজ বলেন, আমি আমার সাথে কাউকে সমকক্ষ মনে করি না, মিথ্যাচার পছন্দ করি না।তবে যোগ্য ব্যক্তির পক্ষে। ডে প্যারেড প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমারও প্রশ্ন সাউথ এশিয়ান প্যারেড করে আমরা কি পেলাম? সোসাইটি কার পারপাজ সার্ভ হয়েছে। সোসাইটির প্যারেড ‘বাংলাদেশ ডে প্যারেড’ নামেই হওয়া উচিৎ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেন ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব আনোয়ার হোসেন। সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির উপদেষ্টা আলাউদ্দিন ভুলুএবং প্রার্থীদের মধ্যে সহ সভাপতি পদপ্রার্থী আবুল কালাম ভূইয়া, সহ সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নওশেদ হোসেন, জনসংযোগ ও প্রচার সম্পাদক পদপ্রার্থী সৈয়দ গৌছুল হোসেন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদপ্রার্থী কয়েছ আহমেদ , ক্রীড়া ও আপ্যায়ন সম্পাদক পদপ্রার্থী মোরশেদ আলম, মহিলা ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক পদপ্রার্থী বি মেহেরচৌধুরী, কার্যকরী সদস্য পদপ্রার্থী মাসুদুল হক ছানু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন । সকল ছবি পরিচয় এর নিজস্ব।



















