গত ১০ এপ্রিল শুক্রবার বেলা তিনটায় যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত ইঞ্জিনিয়ার সাকিব আলীর (২৯) বৃহত্তর আটলান্টার অদূরে নিউ মুসলিম সেমিটারি অব বেথেলহাম, জর্জিয়ায় দ্বিতীয় দফা নামাজে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়। ৮ এপ্রিল প্রথম দফা নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয় ইসলামিক সেন্টার অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলস। জর্জিয়ায় নামাজে জানাজায় ইমামতি করেন জর্জিয়া ইসলামিক ইন্সটিউট অব লরেন্সভিলের পরিচালক ও ইমাম মাওলানা আব্দুল গাফফার।
আব্দুল গাফফার জানাজা পূর্ব এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন এত বিশাল নামাজে জানাজা এবং মানুষের ঢল তিনি আটলান্টায় কখনও দেখেননি। এটা ছিল স্মরণকালের শোকার্ত মানুষের ঢল। নিউ মুসলিম সেমিটারি অব বেথেলহাম তারই পরিচালিত একটি মুসলিম কম্যুনিটির কবরস্থান।

নিহত সাকিব আলী জর্জিয়া প্রবাসী বিশিষ্ট শিশু চিকিৎসক ও আওয়ামী লীগ নেতা ডা: মুহম্মদ আলি মানিকের একমাত্র পুত্র। তানজিল নুসরত আলি নামক সাকিবের একটি বোনও আছে। সাকিব অ্যামাজন মিউজিকে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে হিসেবে কর্মরত ছিলেন। লস অ্যাঞ্জেলস পুলিশ গত ৬ এপ্রিল তার নিজ অ্যাপার্টমেন্ট থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি সংক্ষেপে জর্জিয়া টেক থেকে তথ্য প্রযুক্তিতে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করে সাকিব জর্জিয়ায়ই টেলিকম কোম্পানি এটিঅ্যান্ডটি’তে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। এরপর যোগদান করেন অ্যামাজনে। পরে এ কোম্পানিতেই ফ্লোরিডা হয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে স্থানান্তরিত হন। চাকরির সুবাদে লস অ্যঞ্জেলেসে অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত মেরিনা ডেল রে সিটিতে একটি এপার্টমেন্ট ভাড়া নিয়ে একাকী বসবাস করতেন সাকিব আলী।

লস অ্যাঞ্জেলস অবস্থান করলেও সুবোধ বালক সাকিব আটলান্টায় নিয়মিত পরিবারের সাথে যোগাযোগ রাখতেন। গত ৪ এপ্রিল থেকেই তার কোনো খোঁজ পাচ্ছিল না পরিবার। এক পর্যায়ে সাকিবের পিতা ডাঃ মুহম্মদ আলি মানিক লস অ্যঞ্জেলেসে তার জনৈক বন্ধুর সাথে যোগাযোগ করে সাকিবের খোঁজ খবর নিতে বলেন। ঐ ব্যক্তি খোঁজ নিতে গিয়ে দেখেন সাকিবের বাসের ঘর ভিতর থেকে বন্ধ। বারবার ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে তিনি স্থানীয় পুলিশের শরণাপন্ন হন। পুলিশ এসে দরজা খুলে ভেতর থেকে সাকিবের নিথর দেহ শোবার ঘর থেকে উদ্ধার করে। পরে তিনি বাবা মোহাম্মদ আলি মানিককে মৃত সংবাদ জানান। সংবাদ পাওয়ার পরপরই সাকিবের বাবা ডাঃ মুহম্মদ আলি মানিক ও মা শাকিরা আলি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার সভাপতি আরেফিন বাবুল, পারিবারিক বন্ধু ফোবানার সাবেক কনভেনর মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনসহ কয়েকজন লস অ্যাঞ্জেলস ছুটে যান।

লস অ্যাঞ্জেলস পুলিশ মরদেহের ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে ৭ এপ্রিল সাকিবের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে এবং জানা যায় হার্ট এ্যাটাকে তার মৃত্যু হয়েছে। ৮ এপ্রিল লস অ্যাঞ্জেলেসের সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া ইসলামিক সেন্টারে সাকিবের মরদেহের প্রথম দফা নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ৯ এপ্রিল মরদেহ আটলান্টায় আনা হলে ১০ এপ্রিল শুক্রবার বাদ জুমা জর্জিয়া ইসলামিক ইনস্টিটিউট অব লরেন্সভিলের ব্যবস্থাপনায় নিউ মুসলিম সেমিটারি অব বেথেলহামে দ্বিতীয় জানাজা শেষে ঐ মুসলিম কবরস্থানই মরদেহ দাফন করা হয়।

জর্জিয়া স্টেট সিনেটর শেখ রহমান ও সিনেটর নাবিলা পার্কারসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আগত কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ ও প্রবাসী সংগঠনের প্রতিনিধি দেশি বিদেশি বহু মুসল্লি জানাজায় অংশ গ্রহণ করেন। সাকিবের বাবা ডা. মোহাম্মদ আলী মানিক ও মা শাকিরা আলি সন্তানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।
সাকিব আলির এই অকাল মৃত্যুতে লস অ্যাঞ্জেলস ও আটলান্টা বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। সাকিবের স্মরনে বাংলাদেশ অ্যসোসিয়েশন অব জর্জিয়া ১২ এপ্রিল স্বাধীনতা দিবস ও বৈশাখী মেলার অনুষ্ঠান মালা স্থগিত করেছে।
১২ এপ্রিল রবিবার বাদ আসর স্থানীয় ওমর বিন আব্দুল আজিজ মসজিদে সাকিবের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়।














