ভেনেজুয়েলা থেকে সংগৃহীত তেল থেকেই ইরান যুদ্ধের পুরো খরচের অন্তত ২৫ গুন উঠে এসেছে বলে দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২২মে শুক্রবার নিউইয়র্ক স্টেটের সাফর্নে রকল্যান্ড কমিউনিটি কলেজে রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান মাইক ললারের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে সমর্থকদের সামনে তিনি এই দাবি করেন।
ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানের ফলে সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, ‘ভেনেজুয়েলায় আমরা কেমন করেছি? খুব একটা খারাপ না। আমরা সেখান থেকে এত বেশি পরিমাণ তেল সংগ্রহ করেছি যে, তা দিয়ে ইরান যুদ্ধের পুরো খরচের অন্তত ২৫ গুন উঠে এসেছে।’ ট্রাম্পের এই বক্তব্যে উপস্থিত সমর্থকরা উল্লাসে ফেটে পড়েন।
যদিও ইরান যুদ্ধের প্রকৃত ব্যয়ের সঠিক পরিসংখ্যান এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি, তবে পেন্টাগনের ধারণা অনুযায়ী, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক ব্যয় হয়েছে ২৫ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, অর্থনীতিবিদ এবং প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক প্রভাব এবং সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনসহ মোট ব্যয়ের পরিমাণ ৬৩০ বিলিয়ন থেকে ১ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
ইরানের সাথে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই ট্রাম্প এই মন্তব্য করলেন। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতাদের অনুরোধে তিনি ইরানে পরিকল্পিত একটি হামলা স্থগিত করেছেন।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, বর্তমানে ‘গুরুতর আলোচনা চলছে’। তিনি বিশ্বাস করেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যস্থতায় এমন একটি চুক্তি সম্ভব যা যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের জন্য ‘অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য’ হবে। তবে ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়ে আরও বলেন, যদি আলোচনা ব্যর্থ হয় তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের ওপর ‘পূর্ণ মাত্রার এবং বৃহৎ পরিসরে সামরিক হামলা’ চালানোর জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
এদিকে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে তেহরান। ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই জানিয়েছেন, ইরানের পক্ষ থেকে বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা এবং দেশটির ওপর থেকে সব ধরণের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।
বাগাই বলেন, আলোচনার প্রতিটি পর্যায়ে ইরানি প্রতিনিধি দল এই দাবিগুলো দৃঢ়ভাবে তুলে ধরছে। এছাড়া ইরান মার্কিন সামরিক বাহিনীর মাধ্যমে তাদের বন্দরগুলো অবরোধ মুক্ত করা, লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ এবং যুদ্ধের কারণে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণও দাবি করেছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামনে প্রধানত দুটি শর্ত রেখেছে—ইরানকে অবশ্যই তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিতে হবে।














