১৪ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে এক মায়ের অতীত কর্মকাণ্ডের জেরে চার মাস ধরে বন্দী গ্রিন কার্ডধারী অধ্যাপক পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রে এক মায়ের অতীত কর্মকাণ্ডের জেরে চার মাস ধরে বন্দী গ্রিন কার্ডধারী অধ্যাপক পরিবার

গত ৯ এপ্রিলের পর থেকে হঠাৎ করেই লস অ্যাঞ্জেলেস পিয়ার্স কলেজের মনোবিজ্ঞান ও পরিসংখ্যানের অধ্যাপক মরিয়ম তহমাসেবির স্বাভাবিক জীবন এক ভয়ংকর দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ গ্রিন কার্ডধারী স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই তাঁর স্বামী, সন্তানসহ পুরো পরিবারকে আটক করেছে। সেদিন কলেজে ক্লাস নেওয়ার সময় মরিয়ম জানতে পারেন যে তাঁর স্বামী ছেলেকে স্কুল থেকে আনেননি এবং ফোনও ধরছেন না। সম্ভাব্য কোনো দুর্ঘটনার আশঙ্কায় তিনি পুলিশে খবর দেন। কিন্তু তিনি ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি যে তাঁর স্বামীকে আইসিই আটক করতে পারে।

মরিয়মের স্বামী ইসা হাশেমিও একজন স্বনামধন্য অধ্যাপক, যিনি ‘দ্য শিকাগো স্কুল’-এর বিজনেস সাইকোলজি বিভাগে পিএইচডি শিক্ষার্থীদের মেন্টর হিসেবে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। অবাক করার মতো বিষয় হলো, এই আটকের কারণ ইসার নিজের কোনো অপরাধ নয়। ১৯৭৯ সালে ইরানে জিম্মিকারীদের একজন অনুবাদক হিসেবে কাজ করেছিলেন ইসার মা—এমনকি তখন ইসার জন্মও হয়নি! ট্রাম্প প্রশাসন এখন জন্মের আগের সেই ঘটনার জেরে এই নিরপরাধ অধ্যাপককে শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বর্তমানে মরিয়ম এবং তাঁর ছোট ছেলে ১২০ দিনেরও বেশি সময় ধরে টেক্সাসের ডিলি ইমিগ্রেশন প্রসেসিং সেন্টারে মানবেতর বন্দী জীবন কাটাচ্ছেন। অন্যদিকে তাঁর স্বামী ইসাকে রাখা হয়েছে পিয়ার্সলের সাউথ টেক্সাস ডিটেনশন সেন্টারে। গত চার মাসের এই অমানবিক বন্দীদশা তাঁদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের অপূরণীয় ক্ষতি করেছে। প্রতি দুই সপ্তাহে মাত্র ১০ মিনিটের জন্য তাঁদের একে অপরের সাথে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়, সেটিও আবার কড়া পাহারার মধ্যে। মরিয়ম আক্ষেপ করে বলেন, একটি সম্পূর্ণ আইন মান্যকারী অধ্যাপক পরিবারের সাথে যদি এমন অবিচার হতে পারে, তবে তা যেকোনো কারও সাথেই হতে পারে। সন্তানের জন্য একটি স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেতে তিনি বিশ্বের সব বিবেকবান মানুষের কাছে এই দুঃস্বপ্নের অবসান ঘটাতে সাহায্য চেয়েছেন।