৩১শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কমিউনিটি

জমজমাট আয়োজনে ভার্জিনিয়ায় অনুষ্ঠিত হলো চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

জমজমাট আয়োজনে ভার্জিনিয়ায় অনুষ্ঠিত হলো চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার অনুষ্ঠিত হয়েছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান ও জমজমাট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।। গত রোববার (২৩ আগস্ট) দিনব্যাপী ফোর্ট হান্ট পার্কে এ আয়োজন করে বাংলাদেশি-আমেরিকান আইটি পিপলস অর্গানাইজেশন, বাইটপো। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চট্টগ্রামের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ মেজবান অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন চট্টগ্রামের কৃতী সন্তান, গ্লোবাল ক্লাইমেট অ্যাক্টিভিস্ট ও সিপিএ রায়হানুল ইসলাম চৌধুরী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিনেটর সাদ্দাম আজলান সেলিম; ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির প্রেসিডেন্ট ড. হাসান কারাবার্ক; মনমাউথ ইউনিভার্সিটির স্কুল অব সোশ্যাল ওয়ার্কের ডিন এবং ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব সোশ্যাল ওয়ার্কসের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. গোলাম এম. মাতব্বর; কাইফ ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট ড. ফাইজুল ইসলাম এবং ই-লার্নিংয়ের পথিকৃৎ, চট্টগ্রামের খান বাড়ির সন্তান অধ্যাপক ড. বদরুল হুদা খান।

আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন বাংলা গানের কিংবদন্তি শিল্পী ও বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাসের উজ্জ্বল নক্ষত্র নকীব খান। গান পরিবেশনের জন্য বাংলাদেশ থেকে প্রথমবারের মতো ওয়াশিংটন ডিসিতে আসেন তিনি। তাঁর সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন তরুণ প্রজন্মের জনপ্রিয় শিল্পী প্রতীক হাসান।

অধ্যাপক ড. বদরুল হুদা খানের রচনায় উদ্বোধনী সংগীত ‘চল মেজ্জানে’ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক পর্ব শুরু হয়। এতে অংশ নেন বাইটপোর শিল্পীরা। এরপর একে একে গান পরিবেশন করেন মাহবুব হোসেন অরুণ, আদিল রহমান, শোয়েব রহমান, ডেভিড গোরস্কি ও সীমা খান। নৃত্য পরিবেশন করেন নতুন প্রজন্মের শিল্পী সুদীতি সরকার ও অদিতি সরকার। ফ্যাশন শোতে অংশ নেন সারা, দিশা ও স্মিতা দম্পতি। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের দায়িত্বে ছিলেন কচি খান।

অনুষ্ঠান সফল করতে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেন দীন খালেদ, শরীফ আহমেদ, তানভীর আজিজ, স্বপন ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার জাহানারা ভূঁইয়া, কাজী আক্তার বাঁধন, মো. কাজল, সারা গোরস্কি, মিষ্টি সরকার, শুভ্র সরকার, খুরশীদ সাব্বির, কচি খান, মোহাম্মদ নাইম উদ্দীন অভি, সাইফুল্লাহ খালেদ, এম. এ. করিম, মোহাম্মদ মোল্লা, মামুন মোতালিব, মো. হাসান, কামাল, মোহাম্মদ হোসেন, মোহাম্মদ মিয়া সারওয়ার, আবদুল কোরেশী, হারুনুর রশীদ, শফিক মোল্লাহ ও স্যাম রিয়া।

অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি আয়োজন করা হয় রেফেল ড্র। এতে তিনজন ভাগ্যবান বিজয়ী যথাক্রমে ডায়মন্ড রিং, টেলিভিশন ও ল্যাপটপ জিতে নেন।

আয়োজকরা জানান, মেজবান শুধু একটি খাবারের আয়োজন নয়; এটি চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রবাসের মাটিতে এমন আয়োজনের মাধ্যমে চট্টগ্রামের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরার পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে দেশীয় সংস্কৃতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে। একই সঙ্গে বাংলা গান ও সংস্কৃতির চর্চাকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়াও ছিল এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।

তবে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশী দর্শক সমাগম হওয়ায় খাবার পরিবেশন নিয়ে ভুলত্রুটি স্বাভাবিক। মেজবানে খাবার বিতরণের শেষ সময় বিকেল ৩টা পর্যন্ত । কিন্তু অনেকে ৪টার পরেও এসেছেন যখন খাবার এর পর্বটি অব্যাহত রাখা সম্ভব ছিলনা। অনাহূত এ পরিস্থিতির জন‍্য আয়োজকরা দু:খ প্রকাশ করেছেন।

এক লিখিত বক্তব্যে আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে

স্মরণকালের সফল আয়োজন—বাইটপোর মেজবান: কৃতজ্ঞতা, ভুল-ত্রুটির স্বীকারোক্তি ও আগামী দিনের পরিকল্পনা গত ২৩ আগস্ট বাইটপোর উদ্যোগে ভার্জিনিয়ায় অনুষ্ঠিত মেজবান আমাদের জন্য ছিল অত্যন্ত আনন্দের, আবেগের এবং স্মরণীয় একটি আয়োজন। বিপুলসংখ্যক দর্শক-শ্রোতার উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে ডিএমভি এলাকার অন্যতম বৃহৎ ও সফল কমিউনিটি আয়োজনে পরিণত করেছে।

শুধু ডিএমভি নয়—পেনসিলভানিয়া, নিউ জার্সি, নিউইয়র্ক, টেক্সাসসহ বিভিন্ন স্টেট থেকে অনেকেই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আমাদের মেজবানে অংশ নিয়েছেন। আপনাদের প্রত্যেকের প্রতি জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা।

শুরু থেকেই আমাদের উদ্দেশ্য ছিল কেবল একটি খাওয়া-দাওয়ার অনুষ্ঠান আয়োজন করা নয়। আমরা চেয়েছিলাম আমাদের ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও সংস্কৃতির সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে পরিচয় করিয়ে দিতে এবং প্রবাসে বেড়ে ওঠা সন্তানদের শেকড়ের সঙ্গে আরও দৃঢ়ভাবে যুক্ত করতে।

একদিকে অতিথিরা উপভোগ করেছেন চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ও অথেনটিক মেজবানি খাবারের স্বাদ, অন্যদিকে ডিএমভিতে প্রথমবারের মতো উপভোগ করেছেন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী নকীব খানের গান। পাশাপাশি বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় শিল্পী প্রতীক হাসানের পরিবেশনা এবং নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের নাচ, গান ও ফ্যাশন শো অনুষ্ঠানটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছিল।

হাজারো দর্শক-শ্রোতা শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানস্থলে থেকে পুরো আয়োজন উপভোগ করেছেন। একটি সুশৃঙ্খল, মানসম্মত ও সময়ানুবর্তী অনুষ্ঠান উপহার দেওয়ার চেষ্টা আমাদের ছিল, আর আপনাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই সেই প্রচেষ্টাকে সার্থক করেছে।

শুধু উপস্থিত অতিথিদের ধন্যবাদ জানালেই আমাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ সম্পূর্ণ হবে না। গত প্রায় তিন মাস ধরে যাঁরা নিজেদের মূল্যবান সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় করেছেন—আমাদের কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক, ডোনার, স্পন্সর, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং নানাভাবে সহযোগিতা করা প্রত্যেক মানুষকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া এত বড় একটি আয়োজন কোনোভাবেই সম্ভব হতো না।

এত বড় একটি আয়োজনের অনেক সফলতার পাশাপাশি কিছু সীমাবদ্ধতা ও ভুল-ত্রুটিও ছিল। আমরা সেগুলো এড়িয়ে যেতে চাই না। আমাদের মেজবানি অনুষ্ঠান নিয়ে কমিউনিটিতে যে আলোচনা, সমালোচনা ও কিছু ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে আয়োজকদের পক্ষ থেকে কিছু বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন বলে মনে করছি।

প্রথমেই আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি এবং ক্ষমাপ্রার্থী তাঁদের কাছে, যাঁরা অনুষ্ঠানে এসে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও খাবার পাননি অথবা অন্য কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। আপনাদের কষ্ট আমাদেরও কষ্ট দিয়েছে।

আমাদের প্রস্তুতি মূলত রেজিস্ট্রেশনের সংখ্যাকে ভিত্তি করেই করা হয়েছিল। রেজিস্ট্রেশনের তুলনায় অনেক বেশি মানুষের জন্য—রেজিস্ট্রেশন থেকে তিনগুণ বেশি মানুষের জন্য খাবারের ব্যবস্থা আমরা করেছিলাম। কিন্তু অনুষ্ঠানের দিন আমাদের প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি মানুষের উপস্থিতি ঘটে। পার্কটি চারদিক থেকে উন্মুক্ত হওয়ায় রেজিস্ট্রেশন ছাড়া অনেক মানুষও অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন। ফলে প্রবেশকারীর প্রকৃত সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা আমাদের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।

মেজবানির প্রতি কমিউনিটির ভালোবাসা এবং আমাদের আগের আয়োজনগুলোর প্রতি মানুষের আস্থার কারণে এত বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত হবেন—এটি আমরা সঠিকভাবে অনুমান করতে পারিনি। এখানেই আমাদের পরিকল্পনার একটি বড় ঘাটতি ছিল, এবং আমরা সেটি স্বীকার করছি।

আগের ঘোষণা ও ভিডিওগুলোতেও আমরা বারবার জানিয়েছিলাম যে, যেহেতু কিংবদন্তি শিল্পী নকীব খানের কনসার্টসহ সাংস্কৃতিক আয়োজন ছিল, তাই দুপুর ১টা থেকে ৩টার মধ্যেই খাবার পরিবেশনের মূল পর্ব শেষ করার পরিকল্পনা ছিল। এরপর পুরো টিমকে কনসার্ট ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনায় ব্যস্ত থাকতে হয়েছে।

কিন্তু প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি মানুষের উপস্থিতির কারণে খাবারের জন্য দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। অতিরিক্ত চাপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খাবার ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা আমরা যত দ্রুত করা প্রয়োজন ছিল, তত দ্রুত করতে পারিনি।

যেহেতু অনুষ্ঠানটি একটি পার্কে অনুষ্ঠিত হচ্ছিল, তাই শেষ মুহূর্তে নতুন করে বিপুল পরিমাণ খাবার রান্না ও সরবরাহের ব্যবস্থা করাও বাস্তবসম্মতভাবে সম্ভব হয়নি। এসব কারণে যাঁরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছেন কিংবা শেষ পর্যন্ত খাবার পাননি—তাঁদের কাছে আমরা আবারও আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।

অনুষ্ঠানে সংগৃহীত অর্থ নিয়ে কিছু আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে পরিষ্কারভাবে জানাতে চাই—এই আয়োজন কোনো ব্যবসায়িক বা লাভজনক উদ্দেশ্যে করা হয়নি। অনুষ্ঠানের ব্যয় নির্বাহে কমিউনিটির সদস্যরা স্বেচ্ছায় যে সহযোগিতা করেছেন, সেটিই ছিল সংগৃহীত অর্থের মূল উৎস।

কাউকে বাধ্যতামূলকভাবে অর্থ প্রদানের কথা বলা হয়নি। শিল্পী, খাবার, প্যান্ডেল, সাউন্ড, স্টেজ এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনাসহ এত বড় আয়োজন সম্পন্ন করতে যে পরিমাণ ব্যয় হয়েছে, তার তুলনায় সংগৃহীত অর্থ কোনোভাবেই ব্যবসায়িক লাভের পর্যায়ে ছিল না। প্রয়োজনে আয়-ব্যয়ের হিসাব কমিউনিটির সামনে স্বচ্ছভাবে উপস্থাপন করতেও আমরা প্রস্তুত।

একটি অনুষ্ঠান সফল হয়েছে বলেই তার ভুলগুলো অস্বীকার করতে হবে—আমরা এমনটি বিশ্বাস করি না। বরং আমরা স্বীকার করছি, আমাদের পরিকল্পিত উপস্থিতি এবং বাস্তব উপস্থিতির মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় খাবার বিতরণ, প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং সারিবদ্ধ ব্যবস্থাপনায় আরও ভালো প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন ছিল। এই অভিজ্ঞতা থেকে আমরা শিক্ষা নিচ্ছি।

ইনশাআল্লাহ, খুব শিগগিরই আগামী বছরের বাইটপোর মেজবানের তারিখ ঘোষণা করা হবে। আগামী আয়োজনে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া আরও কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে। খাবারের পরিমাণ নির্ধারণ, প্রবেশব্যবস্থা, সারিবদ্ধতা, ভলান্টিয়ার টিম এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আরও বড় পরিসরে ও আরও সুপরিকল্পিত প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

বিশেষ করে, এ বছর যাঁরা রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত খাবার পাননি, তাঁদের জন্য আগামী মেজবানে একটি বিশেষ সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত ঘোষণা আমরা শিগগিরই জানাব। আমাদের লক্ষ্য খুব পরিষ্কার—এ বছরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আগামী বছরের আয়োজনকে আরও সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও অংশগ্রহণবান্ধব করা।

একটি বড় কমিউনিটি আয়োজনের ভুল-ত্রুটি নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা হওয়া স্বাভাবিক। আমরা সেই সমালোচনাকে সম্মান করি এবং তা থেকে শেখার চেষ্টা করি। তবে কিছু ফেইক আইডি থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার চালানোর বিষয়টিও আমাদের নজরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলোর বিরুদ্ধে রিপোর্ট করা হয়েছে।

কমিউনিটির সবার প্রতি অনুরোধ—যাচাই না করে কোনো তথ্য বিশ্বাস বা প্রচার করবেন না। গঠনমূলক পরামর্শ দিন, ভুল ধরিয়ে দিন এবং আমাদের জবাবদিহির মধ্যে রাখুন। একই সঙ্গে কমিউনিটির ইতিবাচক উদ্যোগগুলোকে উৎসাহিত করুন, যাতে ভবিষ্যতে আমরা আরও বড় ও সুন্দর আয়োজন আপনাদের উপহার দিতে পারি।

আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় অর্জন শুধু হাজারো মানুষের উপস্থিতি নয়। সবচেয়ে বড় অর্জন হলো—একটি মেজবানকে কেন্দ্র করে দূর-দূরান্তের মানুষ একত্রিত হয়েছেন, পুরোনো ও নতুন প্রজন্ম পাশাপাশি বসেছেন, আমাদের খাবার, গান, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে উদ্‌যাপন করেছেন। এটাই ছিল আমাদের স্বপ্ন।

যেখানে ভুল হয়েছে, আমরা তা স্বীকার করছি। যেখানে ঘাটতি ছিল, আমরা তা সংশোধন করব। আর যেখানে আপনাদের ভালোবাসা পেয়েছি, সেটিকে সঙ্গে নিয়েই আরও ভালো কিছু করার পথে এগিয়ে যাব। বাইটপোর চট্টগ্রামের মেজবান আপনাদের অনুষ্ঠান—আপনাদের ভালোবাসা, অংশগ্রহণ ও সহযোগিতাই এর সবচেয়ে বড় শক্তি।

আবারও আমাদের সকল অতিথি, শিল্পী, কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক, ডোনার, স্পন্সর, সহযোগী ও শুভাকাঙ্ক্ষী এবং পুরো কমিউনিটির প্রতি জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা। ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে, সাফল্যকে সঙ্গে নিয়ে—ইনশাআল্লাহ আগামী বছর আবার দেখা হবে আরও বড়, আরও সুন্দর এবং আরও সুশৃঙ্খল বাইটপোর মেজবানে।